শখের বাগান করে সফল উদ্যোক্তা মাসুদ রানা

0
212


শখের বসে মানুষ কত কিছুই না করে। কিন্তু আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ আছে যারা তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা দিয়ে এই শখগুলোকেই সফল কর্মের রূপ দিতে সক্ষম হয়। এমনই একজন সফল উদ্যোক্তা মাসুদ রানা। শখের বসে বাগান করে নিজ কর্ম আর দক্ষতাগুনে তিনি আজ বাণিজ্যিকভাবে একজন সফল ব্যবসায়ী। 

শুরুটা করেছিলেন গুটিকয়েক এগ্লোনিমা আর পাথোস গাছের চারা রোপণ করে। এগুলোর কান্ড কেটে চারা তৈরি করেন যা বিক্রি করে কিনেছিলেন নতুন প্রজাতির চারা। আর এভাবে আস্তে আস্তে চারার সংখ্যা বাড়তে থাকে তার।  বর্তমানে তার বাগানে র‍য়েছে ১৫০ প্রজাতির ২০০০ চারা রয়েছে যার বাজার মূল্য প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার অধিক। 

ছোটবেলা থেকেই বাগান করা তীব্র আগ্রহের একটা বিষয় ছিলো। এই আগ্রহ থেকেই করোনাকালে সময় কাটানোর জন্য বাগান করা শুরু করেছিলেন  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা।     

আত্মশক্তিতে বলীয়ান ও তারুণ্যে উজ্জীবিত মাসুদ রানার জন্ম মাগুরায় হলেও বর্তমানে পরিবার নিয়ে থাকেন ঢাকার তেঁজগাওয়ে। করোনা মহামারীতে নেহাতই সময় কাটানো আর শখের বসে বাড়ির পেছনের খালি জায়গায় গড়ে তুলেন বাগান। আস্তে আস্তে বাগানের পরিধি বাড়ান বিভিন্ন প্রজাতির চারা দিয়ে। শুরুতে শখের বশে বাগান করলেও আস্তে আস্তে চারার সংখ্যা বাড়তে থাকলে ব্যবসায়িক উদ্দেশে আগান তিনি। তার ফেসবুক পেইজ ‘Backyard Garden Bd’ এর মাধ্যমে চারার অর্ডার নিয়ে থাকেন শৌখিন শ্রেনীর মানুষজন  যা নিজেই সাইকেলে করে ডেলিভারির কাজটি করেন বেশিরভাগ সময়ই।  

রানা বলেন, ‘২০১৯ সালে যখন কাজটা শুরু করি তখন চারার সংখ্যা ছিল খুবই কম,  তাই ব্যস্ততাও ছিল কম। কিন্তু এখন আমার বাগানে বাটারফ্লাই অক্সালিস, ক্রিপট্যানথাস, পিপক জিঞ্জার, মনস্টেরা, ক্যালাডিয়াম, স্নেক প্ল্যান্ট, এডেনিয়াম, ক্যালাঞ্চু, ইংলিশ আইভি, চাইনিজ এভারগ্রিন সহ প্রায় ১৫০ প্রজাতির চারা রয়েছে। এসব চারার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা। প্রতি মাসে অসংখ্য মানুষ চারার জন্য অর্ডার করেন। মাসে প্রায় ৭০,০০০ টাকার চারা বিক্রি হয়।’         

                

মাসুদ রানার শখের বাগানের মুলশাইন চারা

মাসুদ রানার শখের বাগানের মুলশাইন চারা

 

তিনি আরো বলেন, ‘করোনা মহামারিতে অবসর সময় কাটাতে গিয়ে গাছপালার প্রতি ছোটবেলা থেকেই যে একটা টান সেটা আরো তীব্রভাবে অনুভব করি। ফেসবুকে বড় বড় বাগানীদের গ্রুপ দেখেই মূলত বাগান করার শখ চাপে। এক্ষেত্রে আমার জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল অর্থের জোগান। তবে এও ভাবতাম যে আমার কাছে যে কয়টা গাছ আছে তা থেকে চারা তৈরি করে যদি বিক্রি করা যায় তবে নতুন জাতের চারা কিনতে পারব। এভাবে টাকা না জমিয়েই নতুন নতুন জাতের চারা কিনতাম আর তা থেকে টবে নতুন চারা তৈরি করতাম।মূলত এভাবেই আমার শুরুটা হয়।

শুরুতে তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়নি। কেননা শখের বশে শুরু করেছিলাম আর পুঁজিও ছিল স্বল্প। বেশিরভাগ অর্ডার ঢাকার মধ্যে হওয়ায় সহজেই সাইকেলে করে পৌছে দিতে পারতাম। ইচ্ছা আছে আমার এই উদ্যোগটি আরোও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। অনার্সের পর জমি নিয়ে নার্সারী করার প্ল্যান রয়েছে, তখন বাড়তি লোকজনের দরকার হবে।’

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘জীবনে উন্নতি করতে হলে পরিশ্রমের বিকল্প নেই। অধিকিন্তু নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে কোনো কাজকেই ছোট মনে করলে চলবে না। সমাজে মানুষ কে কি বলবে এসব না ভেবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

আমাদের অন্য ব্লগগুলো পড়তে এখানে চাপুন

এস এম শাহীন আহমেদ নাজীম   

ইন্টার্ন

কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট



Source link