লীডারশীপ

0
417

লীডারঃ
লীডার হচ্ছে এমন একজন ব্যক্তি যাকে মানুষ অনুসরন করে। যিনি অন্যদেরকে দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন এবং অন্যদেরকে পরিচালনা করার যোগ্যতা রাখেন।
লীডার হচ্ছেন তিনি যিনি অন্যদেরকে প্রভাবিত করতে পারেন এবং নেতৃ্ত্ব দিতে পারেন।
লীডারশীপঃ
লীডারশীপ হচ্ছে- কোন একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা কে অর্জন করার জন্য একদল মানুষকে একত্রিত করে সুসংগঠিত করা।
লীডারশীপ হচ্ছে- এক দল মানুষকে মোটিভেট করার কৌশল যা্ কোন একটি নির্দষ্ট লক্ষ্যকে অর্জন করার জন্য কাজ করে।
লীডারশীপ হচ্ছে- কোন একদল ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠান কে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা বা নেতৃত্ব দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা।
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় লীডারশীপের গুরুত্বঃ
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় সফল হতে চাইলে লীডারশীপ ডেপলাপমেন্ট করার কোন বিকল্প নাই। কারন এই ব্যবসায় নিয়মিত লেগে থাকলে আপনি চান বা না চান আপনার এক বা একাধিক টিম তৈরি হবে। আর ঐ টিমের বহু মানুষকে সঠিক ভাবে নেতৃত্ব দিতে পারলে আপনার ব্যবসায়ীক সফলতা পাওয়া শুধু সময়ের ব্যপার বলে গন্য হবে। শুধুমাত্র সঠিক নেতৃত্বের অভাবে অনেক নেটওয়ার্কারের বিশাল টিম থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায় আশানুরূপ ফলাফল বের করে নিয়ে আসতে পারে না। তাই এই প্রশিক্ষন টি কাজে লাগিয়ে আপনি আপনার লীডারশীপ কোয়ালিটি বৃদ্ধি করে নিলে আশা করা যায় আপনি খুব দ্রুত সফল হবেন।
লীডারশীপের প্রকারভেদঃ
লীডারশীপ বিষয়টি খুবই ব্যপক ভাবে বিশ্লেষন করার মত একটি বিষয়। তথাপিও এই প্রশিক্ষন টিতে আমরা শুধুমাত্র দুই ধরনের লীডারশীপের বিষয় উল্লেখ করব। এবং ব্যখ্যা সহ আলোচনা করব শুধু মাত্র নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর জন্য প্রয়োজনীয় লীডারশীপের স্টাইলের উপর।
আদেশ/সিস্টেম- লীডারশীপ
এ জাতীয় লীডারশীপ কোন ইনস্টিটিউট বা প্রতিষ্ঠানে দেখা যায়। সাধারনত কোন একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য কিছু দায়ীত্বশীল পদবী তৈরি করা হয়। এক্ষেত্রে কোন একটি পদবীর সাবঅর্ডিনেট বা অনুসারি যারা থাকেন তারা পদিকার বলের কারনে উক্ত পদবীর ব্যক্তি যা বলবেন বা আদেশ করবেন তা পালন করতে বাধ্য থাকেন।
সম্মতি-লীডারশীপ
এ জাতীয় লীডারশীপ এ কোন একজন লীডারকে তার অনুসারিরা লীডারের প্রতি সন্তুষ্ট চিত্তে নিজ প্রয়োজনে অনুসরন করে থাকেন। এখানে অনুসারিরা কোন পদিকার অনুযায়ী আদেশ বা নির্দেশ মানতে বাধ্য থাকেন না। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসার লীডাররা এই ক্যাটাগরির লীডারদের অন্তর্ভূক্ত।
লীডারশীপ গুনাবলীঃ
একজন লীডার এর বেশ কিছু গুনাবলী থাকা দরকার। যেমনঃ
১। শারীরিক যোগ্যতাঃ
একজন লীডারকে শারীরিক ভাবে ফিট থাকার দরকার আছে। সে যে কাজটি আদায় করার জন্য কাজ করছে সেখানে তার শারীরিক উপস্থিতি থাকতে হয়।
২। দূরদর্শিতাঃ
একজন লীডার জানে এর পর কি করতে হবে।
৩। বুদ্ধিমত্তাঃ
একজন লীডার কে হতে হয় দারুন বুদ্ধিমান। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য উপস্থিত বুদ্ধির কোন বিকল্প নেই।
৪। যোগাযোগ দক্ষতাঃ
একজন লীডার অবশ্যই তার দলের সাথে প্রয়োজন অনুযায়ী সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখতে হয়। একজন লীডার যাদের সাথে কাজ করবেন হতে পারে তারা বিভিন্ন বয়সের, বিভিন্ন যোগ্যতা সম্পন্ন। কার সাথে কোন পরিস্থিতিতে কিভাবে কথা বলতে হবে বা কার সাথে কিভাবে আচরন করতে হবে তা বুঝে সেই অনুযায়ী যোগাযোগ করার দক্ষতা একজন লীডারের জন্য খুবই গুরুত্ব পূর্ণ ব্যপার।
৫। লক্ষ্যমাত্রাঃ
একজন লীডার অবশ্যই একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করার জন্য তার দল নিয়ে কাজ করে যান। যে দল ঐ নির্দিষ্টি লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমানে লক্ষ্য অর্জনে অবিচল মানষিকতা একজন লীডারের বৈশিষ্ট্য। লীডার তার সেট করা লক্ষ্য অর্জনের জন্য তার লক্ষ্যকে বহু ভাগে বিভক্ত করে দলের প্রতিটি ব্যক্তিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লক্ষ্যমাত্রা সেট করে দিতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী তারা কাজ করছেন কিনা তা ফলোআপ করে থাকেন।
৬। কাজ করার জ্ঞানঃ
একজন লীডার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে যেয়ে তার দলের প্রতিটি ব্যক্তির মধ্যে কে কোন কাজটি করবে তা যেমন জানে সেই সাথে ঐ কাজ গুলো কিভাবে করলে দ্রুত অর্জন করা যাবে সে বিষয়েও তার যথেষ্ঠ জ্ঞান থাকতে হয়। কোন একটি কাজ কত সময়ের মধ্যে করা সম্ভব তাও একজন লীডার জানেন। এবং সেই মোতাবেক কাজটি সম্পাদন হলো কিনা বা দলের কোন ব্যক্তি সঠিকভাবে সঠিক সময়ের মধ্যে কাজটি করছেন কিনা তা যাচাই করা বা আদায় করার জ্ঞান একজন লীডারের থাকতে হয়।
৭। দায়ীত্বশীলতাঃ
একজন লীডার সবসময় দায়ীত্বশীল হয়ে থাকেন। দায়ীত্ব এরানো কোন লীডারের বৈশিস্ট হতে পারে না। লীডার তার নিজের দায়ীত্ব সম্পর্কে যেমন সচেতন ঠিক তেমনি তার দলের কার কি দায়ীত্ব তা সম্পর্কেও তিনি সচেতন থাকেন। যে কোন দায়ীত্ব পালন করার ক্ষেত্রে একজন লীডার অগ্রপথিক হিসেবে দায়ীত্ব নিয়ে কাজ করে যান।
৮। আত্মবিশ্বাস এবং আশাবাদীঃ
একজন লীডারকে হতে হয় আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান এবং দারুন আশাবাদী। লীডার যে কোন পরিস্থিতিতে আশাবাদী থাকেন এবং কিভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করেন এবং চেষ্টা করেন। লীডার যে কোন পরিস্থিতির বিপরীতে তা মোকাবেলার জন্য যা যা করনীয় তা সেট করেন এবং সময় নষ্ট না করে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করে যান।
৯। মানবিকতাঃ
লীডার যেহেতু মানুষদের সাথে কাজ করেন তাই তার মানবিক গুনাবলী থাকা বাধ্যতামূলক। লীডার কোন কোন ক্ষেত্রে তার দলের ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত মানবিক সমস্যার সমাধানেও গুরুত্ব এবং যত্ন সহকারে অবদান রেখে থাকেন। তার এই গ্রনাবলী একজন লীডারকে তার দলের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি করতে সহায়তা করে। যা কাজের গতিকে অনেক পরিমানে বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
উপরিউক্ত গুনাবলীর সাথে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবাসার লীডারদের নিম্ন লিখিত চারটি গুনাবলী থাকা বাধ্যতা মূলক। এই চারটি গুনাবলীর কোন একটি যদি একজন নেটওয়ার্কারের না থাকে তবে তার লীডারশীপ জিরো হিসেবে বিবেচিত হয়।
4 major qualities of leadership
১। চরিত্র
একজন লীডার এর চারিত্রিক গুনাবলী হতে হয় উত্তম। প্রাতিষ্ঠানিক লীডারশীপে একজন লীডারকে তার অনুসারিরা পছন্দ করেন বা না করেন তাকে অনুসরন করতে হয়। কিন্তু যেহেতেু নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর লীডারদের তার অনুসারিরা মানতে বাধ্য নয় তাই লীডারকে হতে হয় সুন্দর চরিত্রের অধিকারী যাতে করে তার অনুসারীরা তাকে নির্ধিধায় পছন্দ করে এবং অনুসরন করে। একজন লীডার কোন অবস্থাতেই তার অনুসারিদের কাছ থেকে কোন অনৈতিক ফায়দা নিতে পারেন না। তার অনুসারিদের সাথে প্রতারনা বা ওয়াদার বরখেলাফ করতে পারেন না।
২। দূরদর্শিতা
একজন লীডারকে হতে হয় দুর্দান্ত দূরদর্শিতা সম্পন্ন। লীডারের দেখানো পথে বহু অনুসারিরা পথ চলবে। তাই তার নির্দেশিত পথের শেষ প্রান্তে সফলতার সহিত পৌছানোর জন্য প্রয়োজনীয় সকল কিছু সম্পর্কে একজন লীডারকে জানতে হয়। অর্থাৎ কোন একটি কাজ সম্পন্ন করার জন্য ১০০ টি ধাপ অত্রিক্রম করার প্রয়োজন পরতে পারে এমতাবস্থায় একজন লীডারকে জানতে হয় একটি ধাপের পর পরবর্তী ধাপটি কি হবে।
একজন লীডারের দূরদর্শিতাকে একটি গাড়ির হেড লাইট এর সাথে তুলনা করা যেতে পারে। কোন একটি গাড়ির হেড লাইট সচল না থাকলে যেমন কুয়াশাচ্ছন্ন বা অন্ধাকারাচ্ছন্ন পথ অতিক্রম করা কঠিন বা অসম্ভব হয়ে দাড়ায় ঠিক তেমনি কোন একজন লীডারের দূরদর্শীতার জ্ঞান না থাকলে তার লক্ষ্য অর্জনে দলকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া কঠিন বা অসম্ভব হয়ে দাড়ায়।
৩। প্রভাব
একজন লীডারের মধ্যে তার দলের প্রতিটি ব্যক্তিকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা থাকতে হবে। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক লীডারশীপের মত আদেশের মাধ্যমে প্রভাবিত করা যাবে না। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ লীডার তার অনুসারীদেরকে তার বুদ্ধিমত্তা, কাজের দক্ষতা, সফলতা ইত্যাদি গুনাবলীর মাধ্যমে কোন ব্যক্তির উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। আপনি যদি আপনার দলের ব্যক্তিদেরকে ব্যপক হারে সার্ভিস দিয়ে থাকেন তবে আপনার অনুসারিরা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে আপনি যা বলবেন তা অনুসরন করবে। আবার আপনি কোন একটি কাজ করার পরামর্শ যখন অন্যদেরকে দিবেন তার পূর্বে উক্ত কাজটি আপনি নিজে করেছেন এমন উদাহরন থাকলে অন্যকে দিয়ে কাজটি করিয়ে নেয়া অনেক সহজ হবে। তাই নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ একজন লীডারের জন্য “লীড বাই এক্সাম্পল” বাক্যটি বিশেষ ভাবে প্রযোজ্য।
৪। সাহস
শুধু নেটওয়ার্ক মার্কেটিং নয় যে কোন মার্কেটিং সেক্টরে কাজ করতে হলে সাহসীকতা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গুন হিসেবে বিবেচিত। একজন লীডার কোন একটি কাজ সবার আগে নিজে সাহস করে শুরু করে তার ফলে তার অনুসারিরা তা অনুসরন করে কাজ শুরু করে। কোন একটি বড় টার্গেট বা লক্ষ্য দেখলে কোন একজন অনুসারী মনে করতে পারে এটা অর্জন করা অসম্ভব কিন্তু একজন লীডার তাকে চ্যালেন্জ হিসেবে নিয়ে কাজ শুরু করে।
যে সকল লীডার রা লড়াই লড়াই লড়াই চাই লড়াই হলে আমি নাই টাইপের তারা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় সাময়িক সফলতা পেলেও কখনই অনেক দূরের বড় কোন লক্ষ্য অর্জনের সফলতা নিয়ে আসতে পারে না।
বিঃ দ্রঃ যে কাজটি আপনি নিজে করেন না বা নিজের জন্য ভাল মনে করেন না দয়া করে তা অন্যকে দিয়ে করানোর চেষ্টা করবেন না। আর আপনি যদি এই নীতিটি অনুসরন করেন তবে দেখবেন আপনি আপনার দলের নিকট দারুন একটি গ্রহনযোগ্য লীডারশীপ তৈরি করতে সক্ষম হবেন।

মতামত

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে