লক্ষ্মীপুরে গৃহবধূকে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা

0
79

জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: লক্ষ্মীপুরে একটি স্বর্ণের চেইনকে কেন্দ্র করে রাশেদা বেগম (৩৫) নামের এক গৃহবধূর গায়ে কেরসিন ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। আগুনে ওই গৃহবধূর শরীরের ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরউভূতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাহাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে প্রেরণ করেন। বর্তমানে রাশেদা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। রাশেদা একই গ্রামের জাহের হোসেনের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী।

স্বজনরা জানান, রাশেদার দেবর ফারুক বিয়ে করে পার্শ্ববর্তী শাহজাহানের মেয়েকে। বিয়ের সময় শাহজাহান তার মেয়েকে একটি স্বর্ণের চেইন উপহার দেয়। দেবর ফারুকের স্ত্রী উক্ত স্বর্ণের চেইন বড় ভাবি রাশেদার নিকট গচ্ছিত রাখে। কিছুদিন পর শাহজাহান ও তার মেয়ে উক্ত স্বর্ণের চেইন ও রাশেদার আরো কিছু স্বর্ণের গয়না চুরি করে রাশেদার অগোচরে। পরে দীর্ঘদিন থেকে ঐ স্বর্ণের চেইনকে কেন্দ্র করে তাদের পরিবারে কলেহ চলে আসছিল। গত ২/৩ মাস আগে আসামীরা কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রাশেদার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে রাশেদার শ্বশুর পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে পেলে। এ ঘটনার একটি মামলা পুলিশের ডিবি শাখায় তদন্তাধীন রয়েছে। উক্ত ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার বিকেলে পরিকল্পিত ভাবে কেরসিন তৈল ঢেলে গৃহবধূ রাশেদার গায়ে আগুল লাগিয়ে দেয় শ্বশুর বাড়ির লোকজন। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে রাশেদা পুলিশের কাছে বলেন শ্বশুর বাড়ির শাহজাহান, মাইন উদ্দিন, লিটন, আশরাফ তার গায়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন। রাশেদার অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসক তাহাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ বার্ণ ইউনিটে প্রেরণ করেন।

সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, গৃহবধূ রাশেদা বেগমের শরীরের ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানান, একটি স্বর্ণের চেইনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত ভাবে কেরসিন তৈল ঢেলে গৃহবধূর গায়ে আগুল লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Source link