রিশিকুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে সরকারি ঘর দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

0
243

লিয়াকত রাজশাহী ব্যুরো: গোদাগাড়ীর ৪নং রিশিকুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহেল রানা, সাবেক মেম্বর সেলিম আহম্মেদ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান ও হাবিব আলীর বিরুদ্ধে ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের অধীনে সরকারী ঘর দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে টাকা নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও ঘর ও টাকা ফেরত না পাওয়ায় ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের নিকট এমন অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের ভানপুর হিন্দুপাড়া গ্রামের মৃত আজহার উদ্দিনের ছেলে জাহিদ হোসেন, নামোপাড়া গ্রামের সাইদুলের মেয়ে ববি, সৈয়দের ছেলে রানা, দরগাপাড়া এলাকার মৃত দুরুলের স্ত্রী মোস্তরা বেগম, মৃত সরকারের ছেলে ফানু ও ভানপুর ভেরিপাড়া এলাকার আমিনুলসহ আরও অনেকের নিকট থেকে প্রায় পঁাচ মাস পূর্বে রিশিকুল ইউনিয়নের ভানপুর ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বাবু, ও সাবেক মেম্বর সেলিম সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে তাদের প্রত্যেকের নিকট থেকে ১৫- ২০ হাজার করে টাকা নেন। দীর্ঘ দিন পার হলেও কোন ঘর দিতে পারেনি বাবু, সেলিম ও সোহেল । ঘর না পেয়ে টাকা ফেরত চাওয়ায় ঘর পাবে বলে তারা নানা অজুহাত ও মিথ্যাচার করছে বলে জানান ভূক্তভোগিরা।

এছাড়া একই গ্রামের ইসরাফিলের একটি ভাতা কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ইসরাফিল মিয়া। এছাড়াও জাহাঙ্গীর আলম বাবু, চার জনের নামে ভিজিডি চাল আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেন। চাল আত্মসাতের বিষয়ে, প্রত্যক্ষদর্শী জলিল বলেন, তিনি নিজ চোখে ভ্যান চালক উজ্জ্বলকে চাল নিয়ে যেতে দেখেছেন।

এছাড়াও বরেন্দ্রর গভীর নলকুপ এর মাধ্যমে ইরি মৌসুম পানি সেচ দেয়ার নামে আওয়ামী লীগের ৫নং ওয়ার্ড সভাপতি ১৩ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন। কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না বলে জানান তারা। শুধু তাই নয় অত্র ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে ৩০,০০০/- টাকা নিয়ে আত্মসাত করার একই অভিযোগ করেন তারা। এ সকল আত্মসাতের টাকা দিয়ে সোহেল রানা রাজশাহীতে বাড়ি নির্মান করছেন গোপন সূত্রে এ তথ্য উঠে আসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তিসহ অভিযোগকারী ববি বেগম, রানা ও মৃত দুরুলের স্ত্রী ফানু এবং মিঠুন জানান, তারা অত্যন্ত দরিদ্র মানুষ। তাদের ১০ শতাংশের কম জমি রয়েছে। কিন্তু থাকার কোনো ঘর নাই। তাই সরকারি ঘর দেওয়ার কথা শুনে ঘর নেয়ার জন্য ভানপুর ওয়ার্ড সভাপতি বাবু ও সেলিমসহ ৬ জন ব্যক্তির নিকট গেলে ঘর নিতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। দাবি মোতাবেক আত্মীয় স্বজনদের নিকট থেকে ঋণ করে এনে কেউবা গরু বিক্রি করে বাবুর হাতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত তারা দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও বাবু ও সেলিমরা তাদের ঘরও দিচ্ছেনা এবং টাকাও ফেরত দেন না তারা।

ঘর না দিয়ে টাকা আত্মসাতকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রদানের জন্য উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ করেন। সেইসাথে ঘর দিতে না পারলে টাকা ফেরত দেয়ার দাবী জানান তারা। এ বিষয়ে বর্তমান মেম্বর আব্দুর রশিদ বলেন, এভাবে এরা টাকা নিয়েছে লোক মারফত শুনেছি। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতি করি। তানোর-গোদাগাড়ীর সংসদ সসদস্য আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীর আস্থাভাজন হয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করছি। যদি কেউ দলের সুনাম নষ্ট করার জন্য ঘৃণিত কাজ করে থাকে তাহলে তার জোর শাস্তি দাবী করেন তিনি।

তবে অভিযুক্তরা টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, তারা সরকারী ঘর ও ভিডিজি কার্ডের জন্য কারও নিকট থেকে কোনো টাকা পয়সা নেন নি এবং কোন চাউল আত্মসাৎও করেননি। এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। একটা চক্রান্তকারী দল তাদের সম্মান নষ্ট করার জন্য এরকম মিথ্যা তথ্য দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করছে বরে জানান তারা।