রামগতি উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের মাস্ক বিতরণ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের বাঁধা ও হামলা

0
618

সাইফুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ লক্ষ্মীপুর জেলার অন্তর্গত রামগতি উপজেলা শাখার মাসব্যাপী জনসচেতনতা মুলক কর্মসূচীর অংশ হিসেবে গত ২১ শে এপ্রিল (বুধবার) বাদ আসর রামগতি উপজেলার ৬ নং চর আলগী ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার, মসজিদ, মাদরাসায় জনসাধারণের মাঝে মাস্ক বিতরণ করে এবং জনসচেতনতামূলক দিক নির্দেশনা দেয়। তারা সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে তাদের কর্মসূচি সম্পন্ন করে। তাদের কর্মসূচি শেষে তাদের সাধারণ সদস্যরা স্থান ছেড়ে চলে যায় এবং রামগতি উপজেলা আহবায়ক মোহাম্মদ শরীফ, যুগ্ন আহবায়ক নাহিম ইসলাম সৌরভ গাজী, যুগ্ন আহবায়ক মোঃ হাসান সহ আরো দুইজন ঘটনাস্থলে ঘটনা ঘটার পূর্বে কিছু সময় অপেক্ষা করে। এক পর্যায়ে চর আলগী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন তাদের দেখতে পায় এবং তাদের দেখে সে ওখানে কিছু সন্ত্রাসী জড়ো করে। পরে তার নেতৃত্বে রামগতির আহ্বায়ক মোহাম্মদ শরিফ, যুগ্ম আহ্বায়ক নাঈম ইসলাম সৌরভ গাজী ও মোঃ হাসান সহ চার পাঁচজনকে চড়থাপ্পড় কিল ঘুষি মারে।
ছাত্র অধিকার পরিষদের আহবায়ক মোহাম্মদ শরীফ উশৃংখল পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করলেও তারা আরো বেশি উত্তেজিত হয়ে চড়াও নির্যাতনে শামিল হয় এবং আরো বেশি মারমুখী আচরণ করে। পরে বাজারের লোকজন এসে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে শরীফ, সৌরভ, হাসান সহ বাকীদের উদ্ধার করে এবং তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে নিয়ে যায়।
এই হামলার প্রতিবাদে, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, রামগতি উপজেলা শাখার সমন্নয়ক ও বর্তমান ঢাকা কলেজ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রাকিব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে বলেন,
আমি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
আমার আহ্বান থাকবে রামগতিতে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ রামগতির মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করবে, এখানে কেউ বাধা দিবেন না। সবার মনে রাখা উচিত বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে সবার বাকস্বাধীনতা রয়েছে। সামাজিক কর্মকান্ডে কারো কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয়না। এসব সামাজিক কাজে যেখানে প্রশাসনের অনুমতির প্রয়োজন হয়না সেখানে ছাত্রলীগ কে? ছাত্রলীগ থেকে কেনো অনুমতি নিতে হবে?
তিনি আরো বলেন, রামগতি উপজেলা ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামীলীগের প্রতি আমার অনুরোধ রইলো, আপনারা রামগতিতে প্রতিহিংসার রাজনীতি করে বৃশিঙ্খলার সৃষ্টি করবেন না। রাজনীতি প্রতিহিংসার নয়, প্রতিযোগিতার।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকে অনেক প্রতিবাদমূলক পোস্ট করে। ফলে সমন্নয়ক রাকিবের ফেসবুক লাইভ, আহবায়ক শরীফসহ অনন্য যারা প্রতিবাদমূলক পোস্ট করেছে তাদেরকে উদ্দেশ্য করে সন্ত্রাসীরা এখন পর্যন্ত কড়া হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তারা তাদের হুমকিতে বলতেছে “যদি বেচে থাকি তোদের চামড়া কেটে লবন মরিচ দিবো। তোদের কলিজাটা বের করে দেখবো। তোদের নুরা গং এর খবর আছে।” এ ধরনের হুমকি তারা এখন পর্যন্ত দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে শরীফ এবং সৌরভ বলতেছে “আমরা এখন নিরাপদ নয়। আমরা এখন সন্ত্রাসীদের মূল টার্গেট। আমরা নিরাপত্তা চাই। আমরা এই দেশে শান্তিতে বাস করতে চাই। এই দেশ কারো বাপ দাদার সম্পত্তি নয় যে এখানে কেউ অরাজকতার সৃষ্টি করবে আর আমরা তা মেনে নিবো। ভবিষ্যতে কেউ এমন করতে চাইলে কঠোরভাবে এর জবাব দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।”