রাজশাহী বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীদের প্রতিবাদ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

0
163

লিয়াকত রাজশাহী ব্যুরোঃ ‘জাতির পিতার সন্মান রাখবো মোরা অম্লান’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীতে প্রতিবাদ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজশাহী বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ এ প্রতিবাদ ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। শনিবার সকাল ১০ টায় নগরীর শিল্পকলা একাডেমীতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবীর।
এ সময় বক্তব দেন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল বাতেন, রাজশাহী বিজ্ঞ জেলা জজ মীর শফিকুল আলম, রাজশাহী জেলা জজ মীর শফিকুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সুজায়েত ইসলাম, র‌্যাব-৫ এর অ্যাডিশনাল ডিআইজি মাহাফুজুর রহমান, জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল প্রমুখ।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী ওয়াশা ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতান আব্দুল হামিদ, গণপূর্ত বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী, পুলিশ সুপার বিপিএম এবিএম মাসুদ হোসেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শারমিন ফেরদৌস চৌধুরী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শামসুল হক, ইসলামী ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোঃ জালাল আহমেদ, নিউ গভঃ ডিগ্ৰী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ অলীউল আলম, রাজশাহী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সানিউল হক, ডেপুটি সিভিল সার্জন মোঃ রাজিউল হক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুস সালাম।

এসময় বক্তারা বলেন, আমাদের মনের যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার প্রকাশ ঘটাতে এসেছি। সকলেই আজকে মনের টানে, অস্তিত্বের টানে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিশ্বাসে বঙ্গবন্ধু প্রতি ভালোবাসার টানে এসেছি। ৫২ সালের ৪ নভেম্বর শনিবার চারটি মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্ম নিরেপেক্ষ এই বিষয়ে বঙ্গবন্ধু এক ঘন্টা ২৪ মিনিট বক্তব্য দিয়েছিলেন।
এই সংবিধান চার মূলমন্ত্রের উপর। বঙ্গবন্ধু যে কথা বলেছিলেন এই দেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ধর্মনিরপেক্ষ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ ও দেশের মানুষ এখানে বসবাস করবে। আমরা মনে করি না চোরের দল রাতের অন্ধকারে একটি ভাস্কর্যের ওপরে নিক্ষেপ করে বঙ্গবন্ধুর সম্মানকে হানি ঘটাতে পারে। এটা আমরা বিশ্বাস করি না। কিন্তু এখানে চিন্তার বিষয় রয়েছে।
১৯৭১ এ আমরা এ দেশ স্বাধীন করে পরাজিত শক্তিকে দেশের মাটিতে তাদের থাকার অধিকার বঞ্চিত করেছিলাম। সেই প্রেতাত্বা এই দেশেই রয়েছে। এটাই উদ্বেগের বিষয় । আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। শুধু আইনি বিষয় নয় আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী, বঙ্গবন্ধুর কণ্যা এই দেশকে যে জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে এটাতে তাদের গাত্রদাহ হচ্ছে।
তাদের বলতে চাই আপনি পরাজিত হয়েছে। আপনি এ দেশের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বসবাস করেন, পছন্দ না হলে এ দেশ ছেড়ে চলে যান। আমরা এই সোনার বাংলাদশকে গড়ে তুলবো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা একই সূত্রে গাঁথা। এখানে আঘাত করা মানেই বাংলাদেশের অস্তিত্বকে আঘাত করা। এখানে অসম্মান করা মানেই আমাদের স্বাধীনতাকে অসম্মান দেখানো। দেশের প্রশাসন বিচার বিভাগ সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান আজ সমবেত হয়েছে। এই দেশে যদি কোন ধরণের অসম্মানবোধ তৈরি হয়। চিন্তায় চেতনায় মননে বিশ্বাসে আমরা বসে থাকবো না। ১৯৭১ সালে দেশের সকল পেশাজিবী মানুষ রক্ত দিয়ে যুদ্ধ করে আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি। দেশ আজ উন্নয়নের মডেল। এই উন্নয়ন কেউ থামাতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে পবা উপজেলায় শনিবার সকালে উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণের উদ্যোগে ‘জাতির পিতার সম্মান, রাখবো মোরা অম্লান’ প্রত্যয় নিয়ে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল আকতার এর সভাপতিত্বে ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সঈদ আলী রেজার পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন পবা সহকারি কমিশনার ভূমি শেখ এহসান উদ্দীন, উপজেলা পরিষদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরজিয়া বেগম, ভাইস চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা, শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম, ওসি জিল্লুর রহমান, ওসি এসএম মাসুদ পারভেজ, ওসি আনোয়ার আলী তুহিন, উপজেলা কর্মচারি ক্লাবের সভাপতি দুরুর হুদা, সাধারণ সম্পাদক সায়েদুজ্জামান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মফিদুল ইসলাম বাচ্চুসহ উপজেলা প্রশাসনের প্রতিটি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ।