রাজশাহীতে সমাজসেবক শামিমকে ফাঁসাতে মিথ্যা হত্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ

0
196

লিয়াকত রাজশাহী ব্যুরোঃ রাজশাহীতে সমাজ সেবক ও বিশিষ্ট ব্যাবসায়ীকে ফাঁসাতে মিথ্যা হত্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ। এমনটি অভিযোগ করেছেন ভুগরোইল পশ্চিমপাড়া এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে দেওয়ান শামিম আহমেদ।

শামিম আহমেদ বলেন, আমি ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না, সেই দিন আমি তানোর উপজেলা কালিগঞ্জ বাজারের তামান্না কোল্ডস্টোরেজ এ ব্যবসার কাজে ব্যস্ত ছিলাম।
তার পরেও আমাকে এ মামলার আসামি করা হয়েছে বলে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন।

আমি একজন সমাজ সেবক ও স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ভূগরোইল কেন্দ্রীয় গোরস্থান কমিটির সভাপতি ধর্মীয় শিক্ষা মূলক প্রতিষ্ঠান সানবীম একাডেমীর পরিচালক।
আমাকে সমাজের চোখে হেই প্রতিপন্ন করার জন্য চক্রান্ত করে পরিকল্পিতভাবে আমার নামটি হত্যা মামলায় যোগ করা হয়েছে। তাদেরকে কেনই বা হত্যার হুকুম দিবো তাদের সাথে আমার কোন ব্যক্তিগত লেনদেন বা আক্রোশের লেশমাত্র নেই। অথচ আমাকে ৪ নং আসামি ও হুকুম দাতা বলে উল্লেখ করেছেন।
এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
এতে কোন নিরীহ ও নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।

আমার সাথে একই এলাকার বাসিন্দা হান্নান ও তার ছেলে সেলিম রেজার সহিত আমার সম্পর্ক খুবই ভালো ছিলো তাদের সাথে আমার কোন পূর্ব শত্রুতা বা মনোমালিন্য ছিল না তার পরেও আমাকে অন্যায়ভাবে মিথ্যে হুকুমের আসামিসহ ৪ নং আসামি করা হয়েছে। কে বা কাহার প্রচোরনায় আমাকে হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়।

এ ঘটনায় ভুগরোইল পশ্চিমপাড়া এলাকায় সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে এলাকাবাসী ও সাক্ষীদের মারফত জানা যায়,আসামি সামিমের বিষয়ে ভিন্নকথা।
এতে উঠে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ঘটনার সূত্রপাত গত রমজানে ঝুমুর ও হান্নানদের মধ্যে ঈদগাহ ময়দানে বাকবিতন্ডা ও মারামারির মত ঘটনা ঘটেছে যা শাহমখদুম থানায় মামলা পর্যন্ত গড়ায়।
এ এরই ধারাবাহিকতায় হান্নান ও সেলিমের সাথে আজাদ সাজ্জাদ ও ঝুমুরের মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটে।

এদিকে ঘটনার প্রতক্ষ্যদর্শী স্থানীয় লোকজনও শামিমকে ঐদিনের ঘটনায় আসামি করায় অনেকটাই বিস্মিত হয়েছেন। তারা বলছেন, শামিম ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তারপরও তাকে আসামি করা হয়েছে । এটা উদ্দেশ্যমূলক ভাবে শামিমকে হয়রানী করার জন্যই আসামি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাদি পক্ষের সাক্ষি ও অনেকেই।

অন্যদিকে মামলার স্বাক্ষী শরিফ বলেন, শামিম ঘটনার সময় ছিলোনা এবং জড়িতও নয়। শামিমকে অন্যায় ভাবে এ মামলায় জরানো হয়েছে। এ হত্যা মামলার সাথে তার কোন সংপিক্ততা নেই। তিনি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন না বা অন্য কোন ভাবেও জড়িত না।
আমাকে যেহেতু ঘটনার স্বাক্ষি করা হয়েছে। আদালতে আমি সত্য কথাই বলবো।

অপর সাক্ষী জুয়েল বলেন,শামিম একজন ভালো মানুষ তিনি একটি ধর্মীয় শিক্ষা মূলক প্রতিষ্ঠান সানবীম একাডেমীর পরিচালক। এখানে কুরআন হাদিসের আলোকে মক্তবে পাঠ্যদানের মাধ্যমে শিক্ষা দান করা হয়। এবং কুরআন শিক্ষা লাভ শেষে সবাইকে কুরআন বিতরণ করা হয়। আসলে তিনি ভালো বলেই আমরা জানি।

অপর প্রতিবেশী পারুল বেগম বলেন ঘটনার দিন আমি মাঠে ছাগল চরাচ্ছিলাম এসে শুনি হান্নান সেলিমদের সাথে সাজ্জাদ,ঝুমুর ও আজাদ নামে প্রতিবেশীর সাথে মারামারির হয়েছে এতে হান্নান ও সেলিম গুরুতর আহত হয়। ওখানে শামিম ভাই ছিলেন না এটা আমি লোকমুখে শুনেছি।
একই কথা বলেছেন, ঘটনার স্বাক্ষী সোহেল রানা তিনি বলেন, আমি ওই দিন এলাকাতেই ছিলাম না, তারপরও আমাকে স্বাক্ষী করা হয়েছে। আমি লোকজনের মুখে শুনেছি শামিম ঘটনার সময় ছিলেন না।

এ ছাড়া মামলাটির অপরাপর স্বাক্ষী, আব্দুল হাকিম, কাইমুদ্দিন, মাইনুল, বাবু এবং সোবহানও একই কথা বলেন। ঘটনার সময় শামিমকে তারা ঘটনাস্থলে দেখেননি।

ভুক্তভোগী দেওয়ান শামিম আহমেদ আক্ষেপ করে বলেন, ঘটনার দিন ওই সময়ে আমি তানোর উপজেলা কালিগঞ্জ বাজারের তামান্না কোল্ডস্টোরেজ এ ব্যবসার কাজে ব্যস্ত ছিলাম।

সে কোল্ডস্টোরেজ এর কাজের জন্য ব্যাস্ত থাকলেও তাকে উদ্দেশ্যের্মূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। ঘটনার সঠিক তদন্ত হলে সত্যটা বেরিয়ে আসবে। যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তি হোক এটি আমিও চাই।

উল্লেখ্য,রাজশাহী পবা উপজেলার ভুগরোইল পশ্চিমপাড়া মোড় এলাকার মোঃ হান্নানের ছেলে সেলিম রেজা হত্যার ঘটনা ঘটে। ২০১৯ সালের ২৬ জুলাই ভুগরইল পশ্চিমপাড়া এলাকার প্রতিবেশীদের নৃশংস হামলার শিকার হন আবদুল হান্নান ও তার ছেলে সেলিম রেজা।
এর দুইদিনের মাথায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রিলিজ দেই এবং তিন দিনের মাথায় আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে (২৯ জুলাই) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সেলিম। সেলিম হত্যা ঘটনায় ওই দিনই ২১ জনকে আসামী করে শাহমখদুম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা আবদুল হান্নান।