রাজশাহীতে নভেম্বর মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিস্থিতির অবনতি

0
132

লিয়াকত, রাজশাহী ব্যুরোঃ হত্যা ৩, আত্মহত্যা ৬, ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন ০৭ এবং নির্যাতন ১৩ জন নারী ও শিশু।

উন্নয়ন সংস্থা লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোসাল ওয়েলফেয়ার (লফস) অত্র জেলায় দীর্ঘদিন যাবৎ নারী ও শিশুর উন্নয়নে কাজ করছে। মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে লফস সংস্থার ডকুমেন্টেশন সেল থেকে রাজশাহীর প্রচারিত দৈনিক পত্রিকার সংবাদের ভিক্তিতে নিয়মিত নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিস্থিতি প্রকাশ করে। লফস মনে করে অত্র অঞ্চলে নারী ও শিশু নির্যাতন পরিস্থিতি বিভিন্ন মাত্রায় অবনতি ঘটছে। যৌতুক ও পরকীয়ার কারনে অধিকাংশ নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি কিছু টিভি সিরিয়াল পরকিয়াকে উৎসাহিত করছে। এছাড়া পারিবারিক কলহ ও প্রেম ঘটিত কারনে হত্যা-আত্মহত্যা ও অমানবিক নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটছে। বিষয়গুলো কারও জন্য সুখকর নয়। নভেম্বর মাসে অমানবিক কিছূ ঘটে যাওয়া ঘটনার চিত্র –

বাগমারার মারিয়া গ্রামে সেলিনা খাতুন (৪২) নামের গৃহবধুর চরিত্র ভালো না এমন সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, গোদাগাড়ীতে নারী সবজি বিক্রেতাকে (৪০) দলবেধে ধর্ষণের অভিযোগ, নগরীর যাদুঘর মোড় এলাকার মেসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া ছাত্রী পারিবারিক কলহের জের ধরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে, মোহপুরের গোছা খন্দকার পাড়া গ্রামে গৃহবধুকে (৩৫) ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তাকে মারপিট করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ, তানোরের কলমা ইউনিয়নের গংগারামপুর বদলিপাড়া গ্রামে স্বামী ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী রহিমা বিবি (৩৮) নামের দুই সন্তানের মা কে মুখে বালিস চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে, পুঠিয়ার জিউপাড়া ইউনিয়নের ধোপা পাড়া গ্রামে সকিনা বেগম (৩৫) নামের এক গৃহবধু পরকিয়ার বলি, দুর্গাপুরে শারমিন শিলা (২৫) নামের গৃহবধু বিষপানে করে আত্মহত্যার অভিযোগ, বাগমারায় ভবানীগঞ্জ পৌরসভার দানগাছি মহল্লার পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গৃহবধু জোস্নাকে তিন না্রী মিলে বটির আঘাতে জখম করে রক্তাত্ত করার অভিযোগ, পুঠিয়ায় জমি সংক্রান্ত বিষয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মারপিটের ঘটনায় এক নারী সহ ৩ জনকে জখম করার অভিযোগ, নগরীতে উপরভদ্রা এলাকায় রিনা বেগম (৪৫) গলায় ফঁাস দিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ, বাগমারার গনিপুর ইউনিয়নের রঘুপাড়া গ্রামে যৌতুকের জন্য এক সন্তানের জননী শ্যামলী বেগম (২৮) নামের গৃহবধুকে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা শারীরক ও মানুষিক ভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ, বাঘায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারনার ফাদে ফেলে এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ সহ ভিডিও ধারনের অভিযোগ, নগরীতে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণ করার অভিযোগ, বাগমারায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় মৃত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী (৫০) কে সহ দুই ছেলে আহত হয়, দুর্গাপুর ইপজেলার পৌর এলাকার হারপুর গ্রামে গলায় ফঁাস দিয়ে সাদিয়া খাতুন (১৮) নামের কিশোরী আত্মহত্যা, দুর্গাপুরের মারিয়া গ্রামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভিক্ষুকের মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ধর্ষণ ও এক পর্যায়ে সে ৪ মাসের অন্ত:সত্বা হয়ে পড়েন (১৮) বছরের কিশোরী এবং কৌশলে বাচ্চা নষ্ট করার অভিযোগ, নগরীর ভদ্রা পার্কের পশ্চিমে রাজ্জাকের মোড়ের ড্রেন থেকে নবজাতকের মৃতদেহ উদ্ধার, পবার ভুগরোইল এলাকায় ৪ বছরের শিশু তানিশা জান্নাত তানহা কে মিষ্টি, চকলেট ও ফুল দেবার লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ, নগরীর ভদ্রা রেলের ধারে বাবা নেসা গ্রস্থ্য হওয়ায় মা ৬ মাসের বাচ্চা কে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করে, বাঘার মনিগ্রাম ইউনিয়নের হরিরামুর এলাকার রুপপুর গ্রামের মিনহাজুল ইসলাম (১৭) এর আত্মহত্যার অভিযোগের ঘটনাগুলো সকলের জন্য উদ্বেগজনক। লফস এর নির্বাহী পরিচালক শাহানাজ পারভীন বলেন সংবাদ পত্রে প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও অনেক ঘটনা ঘটে যা প্রকাশিত হয় না বা কোন তথ্য জানা যায় না এমন বাস্তবতায়। রাজশাহীতে নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রকাশিত তথ্য হতাশাজনক। রাজশাহী অঞ্চলে নারী – শিশু নির্যাতন সহ সার্বিক ঘটনাগুলোর সুষ্ঠ তদন্ত ও দায়ীদের দিষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তিনি বলেন অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে ক্রমশই অপরাধীরা উৎসাহিত হবে এবং অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। লফস সকল নারী-শিশু নির্যাতন ঘটনাগুলোর সুষ্ঠ তদন্ত স্বাপেক্ষে অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবী জানান।

নভেম্বর মাসের নারী ও শিশু পরিস্থিতির তথ্য তুলে ধরা হলো-

হত্যাঃ শিশু – ০০ জন নারী – ০৩ জন মোট – ০৩ জন

আত্বহত্যা ঃ শিশু – ০২ জন নারী – ০৪ জন মোট – ০৬ জন

ধর্ষনঃ শিশু – ০৩ জন নারী – ০৩ জন মোট – ০৬ জন

ধর্ষন চেষ্টা ঃ শিশু – ০০ জন নারী – ০১ জন মোট – ০১ জন

নির্যাতনঃ শিশু – ০১ জন নারী – ১২ জন মোট – ১৩ জন

অস্বাভাবিক মৃত্যুঃ শিশু – ০২ জন নারী – ০২ জন মোট – ০৪ জন

সর্বমোট – শিশু – ০৮ জন নারী – ২৫ জন মোট – ৩৩ জন।