রাজশাহীতে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা

0
181

লিয়াকত, রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহী বোয়ালিয়া থানা জিন্নাহ নগর এলাকায় জমি জমার সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বীর মুক্তিযোদ্ধার মরহুম মো সাদরুল আমিন এর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসী বখাটে যুবকরা। এসময় মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সাবেক শিক্ষিকা মোছা শিরিন বেগম (৬৫) কে বাড়িতে থাকা অবস্থায় ৩ থেকে ৪ জন যুবক বাড়িতে জোর করে প্রবেশ করে গালা গালি ও তাকে লাঞ্চিত করে।

গত ২ তারিখ নগরীর জিন্নাহ নগর ১৪০ নং হোল্ডিং নাম্বার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানায় গত দুই তারিখ জিন্নানগর ম্যসফেক্ট্ররি এলাকার মাসুম হায়দার (৫০), মো মুকুল, রসিখ ও সনেট কে আসামী করে একটি অভিযোগ করেন ভুক্তভোগি শিরিন বেগম।

থানায় অভিযোগ দেয়ার পরে আবার গত শুক্রবার বিভিন্ন ভাবে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। এঘটনার পরে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কোন আসামী কে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। গত শনিবার প্রতিপক্ষ গনমাধ্যম কর্মীদের কে ভূল তথ্য দিয়ে একটি মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে সম্মানহানি করেছে বলে অভিযোগ করেন মোছ শিরিন বেগম।

ঘটনা সূত্রে জানান গেছে, রাজশাহী বোয়ালিয়া থানা জিন্নাহ নগর এলাকায় মোট ১৮ কাঠা জমি। সেই জমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন আছে। র্দীঘদিন যাবত মরহুম মুক্তিযোদ্ধার মো সাদরুল ইসলামের পরিবার সেই পৈত্রিক সম্পত্তিতে বসবাস ও ভোগ দখল করে আসছে। মুক্তিযোদ্ধার পৈত্রিক সম্পত্তি ওয়ারিস মোতাবেক যে টুকু জমি মুক্তিযোদ্ধা পাবে সেই পরিমান জমির ওপর তারা দীর্ঘদিন যাবদ ভোগ দখল করে বসবাস করে আসছে। সেই বাড়িতে প্রচুর বৃষ্টিতে বাড়িতে পানি উঠে ডুবে যাওয়ার কারনে আধাপাকা ঘরের দেয়ালে ফাটল ধরেছে।

নির্মানকৃত একটি ঘরের দেয়াল ভেঙ্গে যায় এ কারনে। সেই বাড়িটি মেরামত করার জন্য কাজ করছে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী শিরিন বেগম। সেই বাড়িটি শুধু মাত্র থাকার জন্য নতুন করে ঘর মেরামত করে নির্মাণ করা হচ্ছে মাত্র। ওই জমিতে নতুন করে কোন ঘর নির্মান করা হচ্ছে না।

১৮ কাঠা জমিটি র্দীঘদিন যাবত মুক্তিযোদ্ধার পরিবার তারা ভোগ দখল করে আসছে। গত ২৭ বছর আগে আদালতে মামলা করে আসাদুজ্জামান এবং মামলার প্ররিপ্রেক্ষিতে সেই সময় মুক্তিযোদ্ধার একটি কাউন্টার মামলা করে আদালতে। সেই থেকে মামলাটি চলছে। সামনে মাসে ওই মামলার ডেট রয়েছে এবং মামলা প্রায় দ্রুত শেষ হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সাবেক শিক্ষিকা মোছা শিরিন বেগম বলেন, আমার বাড়িতে ছেলেরা থাকে কেউ থাকে না। আমি ও আমার মেয়ে থাকি। কিছুদিন ধরে তারা মরহুম আসাদুজ্জামানের পরিবারের লোকজন মামলাটি সমাধান করার জন্য আমাদের উপরে চাপ প্রয়োগ করছে। কিন্তুু গত ২৭ বছর ধেরে যে হেতু মামলা চলছে। এতো দিন ওই মামলা চালিয়ে আসছি এ জন্য। মামলাটি আদালত যে রায় দেবে সেটা আমরা মেনে নেব। গত শনিবার একটি অনলাইন ও পত্রীকায় প্রতিপক্ষ গনমাধ্যম কর্মীদের ভূল বুঝিয়ে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে প্রতিবেদন করেন। ওই প্রতিবেদনে যে সব তথ্য দেয়া হয়েছে তা মিথ্যা বানোয়াট।

তিনি আরো জানান, এর আগেও আমাকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়েছে সন্ত্রাসী দিয়ে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আমার মৃত স্বামীকে নিয়ে গালি গালাজ করেছে। আমাকে তারা ভয় ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমার বাড়িতে জোর করে প্রবেশ করে আমাকে লাঞ্চিত করা হয়েছে এর সঠিক বিচার চায় আমি। প্রয়োজনে আমি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যাবো। আমি এ হামলার বিচার চাই বলে জানান তিনি।

এ বিষয় বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, জমি জমা সংক্রান্ত বিষয় আদালতে মামলা চলছে। আদালত যে রায় দেবে তা মুক্তিযোদ্ধার পরিবার মেনে নেবে। তারা নতুন করে কোন ঘর নির্মান করেনি। একটি ঘরের ওয়াল ভেঙ্গে গেছে তা মেরামত করছে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী।

মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে ডুকে হামলা ও তার পরিবারকে হুমকির বিষয় একটি অভিযোগ দিয়েছেন থানায় শিরিন বেগম। বিষটি তদন্ত করে আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান ওসি।