রাজশাহীতে কলেজছাত্র রাজু হত্যায় ৫ জনের ফাঁসি – Corporate Sangbad

61



নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় চাঞ্চল্যকর কলেজছাত্র রাজু আহমেদ হত্যা মামলায় পাঁচজনের ফাঁসির রায় দিয়েছে দ্রুত ট্রাইবুনাল আদালত। একই সঙ্গে তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৯ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে আদালতের বিচারক অনুপ কুমার এই রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- রাজশাহী নগরীর দড়িখড়বোনা এলাকার আজিজুর রহমান রাজু, সাজ্জাদ হোসেন সাজু, মো. রিংকু ওরফে বয়া, দুর্গাপুর উপজেলার ব্রম্ভপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেন ও বাগমারা উপজেলার মাদারীগঞ্জ গ্রামের মাহাবুর রশীদ রেন্টু।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ১৫ মার্চ রাতে রাজশাহী মহানগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে কলেজ ছাত্র রাজু আহম্মেদ খুন হন। রাজু রাজশাহী জেলার দুর্গাপুরের দাওকান্দি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। তার বাড়ি বাগমারা উপজেলার হাসনিপুর গ্রামে। রাজু মহানগরীর মন্নাফের মোড় এলাকায় এক বন্ধুর সঙ্গে মেসে থাকতেন। আসামি মাহাবুর রশীদ ওরফে রেন্টুর সঙ্গে বাগমারার একটি জমি নিয়ে রাজুর পরিবারের বিরোধ ছিল। এর জের ধরে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে মাহাবুর রশীদ রাজুকে হত্যা করেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর তিনি তার কম্পিউটার সারাতে নিউমার্কেটে আসেন। এক সময় রাজু নিউ মার্কেটের পশ্চিম প্রান্তে ‘ভাই ভাই হোটেল’ এর পেছনে এলে অজ্ঞাত পরিচয়ের দুর্বৃত্তরা তাকে ঘিরে ধরে পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত রাজুকে স্থানীয় লোকজন দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সোয়া ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় পরদিন ১৬ মার্চ নিহত কলেজছাত্র রাজুর বাবা এসার উদ্দিন বাদী হয়ে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ১৫ জন আসামী ছিলেন। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন। ১৪ আসামীর মধ্যে আদালত পাঁচজনের ফাঁসি ও নয়জনকে খালাসের আদেশ দিয়েছে। এ মামলায় ৫৮ জন সাক্ষী ছিলেন। আদালত ৩১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা সবাই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

রায় ঘোষণা শেষে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।





Source link