রাজপথে এক দফার আন্দোলনে ‘সঠিক সময়ে’র অপেক্ষা বিএনপির

192


আজমল হক হেলাল, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবি কেবল বিএনপি নয়, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ অনেক রাজনৈতিক দলেরই। রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, প্রয়োজনে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে পদত্যাগ করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে বাধ্য করা হবে। এই দাবিতে মাঠে নেমে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও এসেছে বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে। তবে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনই জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজপথের আন্দোলনে নামতে চায় না দলটি। অতীত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে সক্রিয় থেকে তারপর সরকার পতন ও নির্দলীয় সরকারের দাবিতে চূড়ান্তভাবে মাঠে থাকতে চায় বিএনপি।

সরকারের মেয়াদ পূর্তির আগের তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন হলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সেটি না হলেও নির্বাচন হবে ২০২৪ সালের শুরুতেই। বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, আগামী বছর থেকে জাতীয় নির্বাচন ইস্যুতে সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়াবে মাঠে। সেক্ষেত্রে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়েই রাজপথে যুগপৎ আন্দোলনে নামতে চায় বিএনপি। এই আন্দোলন সফল করতে একদিকে যেমন জনমত গড়ে তোলার কাজ চলছে, তেমনি সর্বদলীয় একটি জোট গড়ার অনানুষ্ঠানিক আলোচনাও চলমান।

২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা বলছেন, ২০১৪ সালে দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘প্রতিহত’ করতে তারা প্রকৃতপক্ষে ব্যর্থ হয়েছিলেন। নির্বাচন পরবর্তী সময়েও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি বা তাদের জোট সরকারবিরোধী আন্দোলন জমাট বাঁধাতে ব্যর্থ হয়েছিল— এমন আত্মসমালোচনাও রয়েছে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের মধ্যে।

সেবারে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি ২০ দলীয় জোটের কর্মসূচি হিসেবে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। লক্ষ্য ছিল সরকার পতন। তবে এই ঘোষণার ৭২ ঘণ্টা আগেই গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হন তিনি। সেবারের ৯০ দিনের এই আন্দোলনই রাজপথে বিএনপির শেষ আন্দোলন। সেবারের অভিজ্ঞতা থেকে নিজেদের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো খুঁজে বের করতে চায় তারা, আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আগের ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি এড়াতে চায়।

এসব বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, এই মুহূর্তে আমরা কঠোর কোনো আন্দোলনে যাচ্ছি না। জনগণের ন্যায্য দাবি নিয়ে আমরা রাজপথে আছি, থাকব। তবে এখন বিএনপি চেয়ারপারসনকে (খালেদা জিয়া) বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর দাবিটি সামনে চলে এসেছে। এই দাবিতে আমরা রাজপথে আছি। অন্যান্য দলগুলোর প্রতিও আহ্বান জানিয়েছি, আপনারাও তার জীবন বাঁচানোর জন্য রাজপথে আসুন।

সাম্প্রতিক সময়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপি কর্মসূচি পালন করলেও সেগুলো সমাবেশ-বক্তৃতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে গত কয়েকদিনে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দলটি রাজপথে বেশ সরব। সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ছাড়াও আট দিনের কর্মসূচি পালন করছে দলটি। তবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনই থাকবে বিএনপির সামনের দিনের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে— এমনটিই বলছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রসঙ্গে বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনেই হতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী ২০২৩ সালে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হলে আগামী বছরের শুরু থেকে তত্ত্বাবধায়ক বা নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যু নিয়ে বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে থাকবে। প্রয়োজনে ২০২৩ সালের শুরু থেকে এক দফা সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করা হবে। তবে এই মুহূতে আমরা কোনো কঠোর আন্দোলনে যাচ্ছি না।

এর কারণ হিসেবে মির্জা ফখরুলও বলছেন, আন্দোলনের মাঠে নেমে এবারে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে চায় না বিএনপি। তিনি বলেন, আন্দোলনের কর্মসুচি ঘোষণা করে সেই আন্দোলন থেকে যেন সরে আসতে না হয়, সেদিকে নজর রেখেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অতীতের আন্দোলনগুলোর অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। সেগুলো তো গুরুত্বপূর্ণই।

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলো সবাই বিএনপির পাশে এসে দাঁড়াবে বলেও আশাবাদী বিএনপি মহাসচিব। সঠিক সময়েই সেটি স্পষ্ট হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এতটুকু জোর দিয়ে বলতে পারি— আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হতে হবে। এই দাবি আদায়ের জন্য সময়মতো জোট হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে সব জনগণ মাঠে নামবে। সবকিছু সময়ই বলে দেবে।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/টিআর





Source link