রাউজানে চিত্র নায়ক ইলিয়াছ কাঞ্চন- অপ্রাপ্ত কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি দেবেননা ছেলেদের

0
558

এম বেলাল উদ্দিন, রাউজান :
নিরাপদ সড়ক চাই পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা চিত্রনায়ক ইলিয়াছ কাঞ্চন বলেছেন, ডিসেম্বর মাসে আমরা বিজয় অর্জন করেছিলাম, আমাদের আরেকটি বিজয় দরকার, সেটি হলো সড়কে অহেতুক দুর্ঘটনায় প্রাণ দেয়া বন্ধ করা। পিচঢালা পথ রক্ত রঞ্জিত থেকে আমাদের উদ্ধার হতে হবে। ইরাকে, সিরিয়ার যুদ্ধে যে পরিমাণ মানুষ মারা গেছে, তার চেয়েও বেশি মানুষ এদেশে প্রতিবছর দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে। প্রতিবছর দুর্ঘটনায় ৪০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। এ ৪০ হাজার কোটি টাকা রক্ষা করতে পারলে, পদ্মা সেতুর মতো আরো বেশি সেতু, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল নির্মাণ করা যেতো। তিনি রোববার রাত সাড়ে ১০টায় রাউজান সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা কাজী আব্দুল ওহাবের সভাপতিত্বে ও সচিব, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজ এবং পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসিফের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ এহ্ছানুল হায়দর চৌধুরী বাবুল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোনায়েদ কবীর সোহাগ, সংগঠক জহির উদ্দিন, সংগঠক শওকত বাঙালি, বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক পরামর্শক শাহ্ আলম চৌধুরী, নিরাপদ সড়ক চাই পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আজাদ হোসেন, ওসি কেপায়েত উল্লাহ। বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক বশির উদ্দিন খাঁন, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, ইউপি চেয়ারম্যান বিএম জসিম উদ্দিন হিরু, আলহাজ নুরুল আমিন, এসএম লিটন, দিপলু দে দিপু, ভানু দে, আবু ছালেক, সাইদুল ইসলাম, আরমান সিকদার, ফয়সাল মাহামুদ প্রমুখ।
ইলিয়াছ কাঞ্চন আরো বলেন, আমি মা-বাবাদের বলব আপনার আদরের সন্তানকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটর সাইকেল দেবেননা। ছেলে আবদার করবে এরপরও বলবেন বাবা মোটর সাইকেল থেকে তুমি আমার কাছে আপন। তাই অপ্রাপ্ত বয়সী কিংবা লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি দেবেননা ছেলেদের। তিনি বলেন স্বজন হারানোর বেদনা আমি বুঝি, কারন আপনাদের চট্টগ্রামে ২৮ বছর আগে আমার ৪ বছরের ছেলে আর ৬ বছরের কন্যা সন্তান রেখে আমার স্ত্রী সড়ক দূর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন। তিনি বলেন ১৯৯২ সালে ১লা ডিসেম্বর এফডিসিতে লাখো মানুষের পদচারনার মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক চায় আন্দোলন সূচনা করেছিলাম। আজ দেশে ১২০টি শাখা ও দেশের বাইরে ২০টি শাখা নিরাপদ সড়ক চাই ব্যানারে কাজ করছেন। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যায় ৫ হাজার ৬‘শ মানুষ। এতে ৫৫% মানুষ মারা যায় পথচারী। তিনি একই মঞ্চে শিক্ষা ও সামাজিক বান্ধব সংগঠন সেন্ট্রাল বয়েজ অব রাউজানের আয়োজনে প্রায় ৭০০ জন শীতার্থদের মাঝে কম্বল তুলে দেন। পরে তিনি রাউজানের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র গীরিছায়া পরিদর্শন করে সৌন্দর্য বর্ধন উপভোগ করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে