রাউজানের গ্রামে বিদেশী মসজিদ একসাথে ৬‘শ মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবে

0
439

এম বেলাল উদ্দিন, রাউজান
রাউজানের গ্রামে নতুন আদলে গড়ে তুলা হয়েছে একটি বিদেশী মসজিদ। উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডস্থ গর্জনীয়া এলাকায় এ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। বিশাল আকারে মফস্বল এলাকায় এ মসজিদটি চোখে পড়ার মত। রাউজান সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার উত্তরে হলদিয়া ভিলেজ সড়কের পাশে গর্জনীয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন জায়গায় মসজিদটি নতুন আঙ্গিকে ফের নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় দু‘শ বছর আগে ঐ জায়গার পুরাতন মসজিদটি সংস্কার করে বিদেশী আদলে গড়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে ফিতা কেটে এটি উদ্বোন করেন ইউএই বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রিয় কমিটির উপদেষ্টা সদস্য ও দানবীর আলহাজ্ব একে এম মনির চৌধুরী। এসময় সাথে ছিলেন অধ্যক্ষ আলহাজ্ব আল্লামা সৈয়দ আহছান হাবিব, চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়ার প্রভাষক আলহাজ্ব আল্লামা আবুল আসাদ জোবায়ের রেজভী, প্রবাসী ও দানবীর আলহাজ্ব মাওলানা ওসমান তালুকদার, উপাধ্যক্ষ আল্লামা কাজী সাঈদুল আলম খাকী, প্রবাসি আলহাজ্ব মাওলানা আলী রেজা, আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম সিকদার সহ অনেকেই। এসময় প্রধান অতিথিকে ক্রেষ্ট ও ফুল দিয়ে বরণ করা হয় মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে। এর আগে মাগরিব থেকে নাতে রাসুল (স.) পরিবেশন করেন শায়ের আবু তালেব রেজভী, শায়ের আবদুল মাবুদ, শায়ের মিনহাজ।
প্রধান বক্তার ত্বকরির করেন আলহাজ্ব আল্লামা আবুল আসাদ জোবায়ের রেজভী (মা.জি.আ)। সভাপতির সমাপনি বক্তব্য রাখেন মসজিদের খতিব আলহাজ্ব আল্লামা অধ্যক্ষ সৈয়দ মুহাম্মদ আহসান হাবিব (মা.জি.আ)। প্রবাসী আলহাজ্ব মাওলানা আলী রেজার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি একে এম মনির চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রবাসী আলহাজ্ব মাওলানা ওসমান তালুকদার, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারী আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম সিকদার। উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী আলহাজ্ব শফি সওদাগর, ব্যাংকার মাকসুদুল আলম, মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা রফিকুল ইসলাম, আলহাজ্ব এসএম শহিদুল্লাহ, এসএম হারুন, এসএম কামাল উদ্দিন, আবদুল ওহাব সিকদার, এসএম এয়াছিন, মাওলানা হারুন রশিদ কাদেরী, সাংবাদিক এম বেলাল উদ্দিন, মুহাম্মদ মনসুর, মাওলানা সৈয়দ লুৎফুর রহমান, সৈয়দ মাওলানা গিয়াস উদ্দিন, নুরুল ইসলাম সিকদার, শামসুল আলম সিকদার, শাহাবুল আলম সিকদার, মাওলানা মোরশেদ রেজা কাদেরী, মাওলানা আবদুল মালেক, প্রবাসী গিয়াস সিকদার, প্রবাসী নাসির সিকদার, প্রবাসী হায়দার সিকদার, প্রবাসী মুনসুর সিকদার, মুহাম্মদ রাশেদ, মাওলানা ইমরান, মোহাম্মদ বোরহান, সৈয়দ কপিল উদ্দিন প্রমুখ। পরে মিলাদ কিয়াম, আখেরী মোনাজাত ও তাবরুক বিতরন করা হয়।
সরেজমিন গিয়ে জানাগেছে, ঐ স্থানের ২‘শ বছরের প্রাচীনতম নড়েবড়ে মসজিদটি ভেঙ্গে বিদেশী আদলে করার প্রথম উদ্যোগটি নেন দুবাই প্রবাসী স্থানীয় গর্জনীয়া নিবাসি মরহুম হাজী ইদ্রিস মিয়া মিস্ত্রির মেঝ ছেলে আলহাজ্ব মাওলানা ওসমান তালুকদার। ৬০ ফুট দৈর্ঘ ও ৫০ ফুট প্রস্থের বিশাল মসজিদটিতে একসাথে ৬‘শ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মসজিদের ভিতরে মারবেল পাথর দিয়ে টাইলস, অর্ধশতাধিক বৈদ্যতিক পাঁকা, আধুনিক প্রযুক্তির আলোক বাতি, শিততাপ নিয়ন্ত্রিত দরজা জানালা, বিশাল গম্বুজ, প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতার মিনার তৈরি করা হয়েছে। আনুষ্টানিকতা ছাড়া গত মাহে রমজান শুরুর কয়েকদিন আগে মুসল্লিদের নামাজের জন্য মসজিদটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ২০১৭ সালে ডিসম্বরের প্রথম সপ্তাহে মসজিদটি বিদেশী আদলে নির্মাণ করার মানষে নির্মাণ কাজের আনুষ্টানিক উদ্বোধন করা হয়।
সূত্র জানান, আবুধাবী প্রবাসী আলহাজ্ব মাওলানা ওসমান তালুকদার মসজিদটি নতুন আদলে নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য এলাকাবাসির সাথে মতবিনিময় করেন বেশ কয়েকবার। এলাকার মুসল্লিদের নিয়ে একটি নির্মাণ কমিটি করে দেওয়া হয়। পরে ওসমান তালুকদার দুবাইতে রাউজান এলাকায় একটি মসজিদের বেশি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রবাসী আলহাজ্ব একে এম মুনির চৌধুরীর সাথে আলাপ আলোচনা করেন, আর মুনির চৌধুরী এতে মসজিদ করার পক্ষে সাই দেন। ওসমান তালুকদার, মাওলানা আলী রেজা সহ আরো বেশ কজন প্রবাসী মিলে মুনির চৌধুরীর সাথে বৈঠক করে দিনক্ষন ঠিক করে দেশে এসে মসজিদটির জায়গা পরিদর্শন করেন। এরপর তারা বিদেশী আদলে তৈরী করেন বেশ কয়েকটি আধুনিক নকশা। এলাকার মুসল্লিদের থেকে নেওয়া হয় নকশার মতামত। এরপর পছন্দের নকশাটি দিয়ে মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুরু হয় কর্মযজ্ঞ। মসজিদটি নির্মাণে আর্থিক সহোযোগিতার দাড়টি উম্মুক্ত রাখা হয় যাতে ছোট বড় গরীব তোয়াঙ্গার সকলে সহযোগিতা করতে পারেন। শুর হয় প্রাচীনতম এ মসজিদটির নতুন শৈলিতে কাজ।
উত্তর চট্টগ্রামের পীরে কামেল, রাউজান হলদিয়া গর্জনীয়া রহমানিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার প্রতিষ্টাতা হযরত শাহসূফি আলহাজ্ব সৈয়দ আবদুল গফুর মাষ্টার শাহ (রহঃ) স্মৃতি বিজরিত এ মসজিদটিতে তিনি নিজেই ইমামতি করেছেন দীর্ঘ ৭০ বছর কাল। এ মসজিদটি নিয়ে হুজুরের জবানে পাকের বহু কেরামত, বহু ইতিহাস বিরজমান। হারিকেন নিয়ে ইমামতি করা এ বুজুূর্গ ব্যাক্তি বলতেন এ মসজিদে অলিয়ে কেরামগন নামাজ পড়তে আসতেন রাতের বেলায়। যাদেরকে (রেজাওল গায়েব বলা হয়) এক কথায় এটি একটি বুজুর্গো মসজিদও বটে। বর্তমান হুজুরের সুযোগ্য উত্তরসুরি গর্জনীয়া ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক সফল প্রিন্সিপাল আলহাজ্ব আল্লামা শাহজাদা সৈয়দ আহছান হাবিব (মা.জি.আ) এ মসজিদে খতিবের দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে মানুষকে হেদায়েত প্রদান করছেন দীর্ঘ ৪০বছর ধরে।
এ মসজিদটি নির্মাণে যার বেশি অবদান রাউজান উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান একে এম এহেছানুল হায়দার বাবুলের ছোট ভাই প্রবাসী আলহাজ্ব একে এম মুনির চৌধুরীর। মুনির চৌধুরী, মাওলানা ওসমান তালুকদার, মাওলানা আলী রেজা সহ অনেকে মসজিদটি নির্মাণে প্রবাস থেকে আর্থিক যোগান দিয়েছেন। তাদের এ আর্থিক অনুদান না হলে বিশাল একটি মসজিদ নির্মাণ করা আদৌ হত কিনা প্রশ্ন থেকে যায়?

স্থানীয় মুসল্লিদের মতে বিশাল এ মসজিদটি রক্ষনা-বেক্ষন সহ প্রতিনিয়ত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে কমপক্ষে দুজন কর্মচারী নিয়োগের প্রয়োজন। প্রতিদিন মসজিদ পরিস্কার পরিচ্চন্ন করা না-হলে মসজিদের সৌন্দর্য-বর্ধন কমে যাবে। মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী জাহাঙ্গীর সিকদার বলেন, সমগ্র রাউজান এলাকায় এ ধরনের আধুনিক পদ্ধতি ও বিদেশী আদলে মসজিদ নির্মাণ হয়নি। তবে কথা হচ্ছে মসজিদের খোরাক হচ্ছে মুসল্লি।
এদিকে একতালা বিশিষ্ট মসজিদটি নির্মানে অর্ধশতাদিক রাজমিস্ত্রি রাত-দিন কাজ করেছেন দীর্ঘ দেড় বছর। তাদের কাজ তদারকি করেছেন ব্যাংকার মকসদুল করিম ও একজন ইঞ্জিনিয়ার। সব মিলিয়ে নতুন মসজিদে মুসল্লিগন ওয়াক্ত মত নামাজ আদায় করলেই শ্রম সার্থক হবে উদ্যাক্তাদের।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে