রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য ভারতীয় মন্ত্রীর

83


আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা সুভাষ সরকার বলেছেন, রবীন্দ্রনাথের গায়ের রঙ ছিল কালো। এ কারণে কবির মা তাকে ভিন্ন চোখে দেখতেন। খবর পিটিআই।

বুধবার (১৮ আগস্ট) বিশ্ব ভারতীতে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার এই বক্তব্য ভারতজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।

মন্ত্রী বলেন, পরিবারের অন্যদের তুলনায় তার গায়ের রঙ ছিল কালো, ফর্সার মধ্যে অনেকবেশি লালচে ভাব ছিল। কালো গাত্রবর্ণের জন্য ঠাকুরের মা এবং অন্য আত্মীয়দের মধ্যে কয়েকজন তাকে কোলেও নিতেন না।

তিনি বলেন, দুই ধরনের ফর্সা লোক হয়। একদল খুবই ফর্সা, হলদে রঙয়ের; অন্যরাও ফর্সা, তবে তাদের মধ্যে লালচে ভাব থাকে। কবিগুরু ছিলেন দ্বিতীয় গোত্রের।

এদিকে, সুভাষ যে অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ও তার পরিবারকে নিয়ে এ মন্তব্য করেছেন সেখানে বিশ্ব ভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীও উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা উপার্চর্যেরও সমালোচনা করেছেন।

এ ব্যাপারে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপির অনেক নেতার উপস্থিতিতে উপাচার্যের সমালোচনা করেছেন বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল।

তিনি বলেন, বিশ্ব ভারতীর উপাচার্য পাগল। বাড়িতে তাকে ইনজেকশন দিতে হয়। এই পাগল উপাচার্য বিশ্ব ভারতীর সংস্কৃতি নষ্ট করে দিচ্ছে। বিশ্ব ভারতীর রাজনীতিকরণ আগে দেখিনি। এবার বিশ্বভারতীর মধ্যে আমিও অনুষ্ঠান করব।

শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার বলেছেন, তার (রবীন্দ্রনাথ) বাড়িতে সবাই ফর্সা ছিলেন, উনি একটু কম ফর্সা ছিলেন। কালো মানে কি? পরিপ্রেক্ষিত না বুঝে একটা কথা বলে দিলেন।

তিনি আরও বলেন, ঠাকুরবাড়িতে কাউকে কোলে নেওয়া হত না। ওভাবে কোলে করে আদর করার প্রথা ছিল না। দাসদাসীদের কাছে থাকতেন, মা একটু আদর করতেন। শিক্ষামন্ত্রীর মুখে এই কথাগুলি শুনে খুব হাসি পাচ্ছে। কাদের হাতে আমরা ক্ষমতা অর্পণ করে বসে আছি!

বিজেপি অবশ্য এ প্রসঙ্গে সুভাষের পাশেই আছে। তারা বলছে, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যকে ভুলভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।

আর যার মন্তব্যে এই তোলপাড় সেই সুভাষ সরকার বলছেন, রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বিতর্কে জড়ানো উচিত নয়। তিনি যা বলেছেন তার রেকর্ড আগে নিতে হবে। কেউ বললে তাকে তিনি লিঙ্ক দিয়ে দেবেন।

তিনি রবীন্দ্রনাথের সম্মান আরও বাড়াতে চেয়েছেন, বলেছেন সুভাষ।

সারাবাংলা/একেএম





Source link