যেভাবে হয়েছিল ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়ার একতরফা নির্বাচন

0
108

বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বর্জনের মুখে যে কয়েকটি একতরফা এবং বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেই তালিকায় রয়েছে ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রচলনের আন্দোলনের পটভূমিতে।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি ছিল সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রচলন করা, যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সব রকমের সহায়তা দেবে।

ফিরে দেখা: যেভাবে হয়েছিল ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচন
ওই সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি। দাবি আগে উঠলেও ১৯৯৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করে তীব্র এক আন্দোলন শুরু করে।

শেষ পর্যন্ত আন্দোলন, সংঘাত এবং সহিংসতার ভেতর দিয়ে ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি একতরফা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যায় তৎকালীন সরকার।

মাগুরা উপনির্বাচন ও সংঘাতের বীজ
বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা আবারও চালু হওয়ার পর থেকে মোটামুটি স্থিতিশীলই ছিল দেশের রাজনৈতিক অবস্থা। কিন্তু বিপত্তি দেখা দেয় মাগুরা-২ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে।

মাগুরা-২ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৪ সালের ২০শে মার্চ। কিন্তু নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি এবং জালিয়াতি হয়েছে এমন অভিযোগ উত্থাপন করে তৎকালীন বিরোধীদল আওয়ামী লীগ।

ওই নির্বাচনের পর থেকে বিএনপি সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচনে অংশ নেয়নি আওয়ামী লীগ।

২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচন: পর্দার ভেতরে-বাইরে যা ঘটেছিল
মাগুরার নির্বাচনের পরপরই আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামী-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তোলে।

১৯৯৪ সালের জুন মাসে একটি সম্ভাব্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ।

এরপর ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতে ইসলামী-সহ রাজনৈতিক দলগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য ২৭শে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএনপি সরকারের জন্য সময় নির্ধারণ করে দেয়।

কিন্তু সরকার ছিল তাদের অবস্থানে অনড়
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বিএনপির নেতারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি কেবল নাকচই করেননি, বরং পুরো ধারণাটি নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে নানা রকম বক্তব্য দেন, যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে দাবি মানা হয়নি এই কারণ দেখিয়ে ১৯৯৪ সালের ২৮শে ডিসেম্বর সংসদ থেকে একযোগে পদত্যাগ করেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামীর ১৪৭ জন সংসদ সদস্য।

কিন্তু পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে স্পিকার শেখ আবদুর রাজ্জাক তাদেরকে অনুপস্থিত হিসেবে বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত দেন। অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিতির ৯০ কার্যদিবস পূরণ হওয়ার পর সংবিধানের বিধি মোতাবেক ১৯৯৫ সালের ৩১শে জুলাই সংসদীয় আসনগুলো শূন্য ঘোষণা করা হয়।

এরপর ওই সব আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করে সরকার ও নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বিরোধীদলগুলো উপনির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়।

বিরোধীদের আন্দোলনের মুখে উপনির্বাচনের চিন্তা থেকে পিছু হটে বিএনপি সরকার। এসব দলের ডাকা টানা হরতাল ও অবরোধের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু বিরোধীদল এবং সরকার পরস্পরের অবস্থানে অনড় থাকে।

প্রবল আন্দোলন এবং সহিংসতার মুখে ১৯৯৫ সালের ২৪শে নভেম্বর ৫ম জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দেয়া হলে ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

যে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে, সেটি হচ্ছে ১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগের আন্দোলন করা।

প্রতিচিন্তা ম্যাগাজিনে ৩রা এপ্রিল ২০১৭ সালে প্রয়াত সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান লিখেছিলেন যে প্রথমবারের মতো অনির্বাচিত ব্যক্তি সমন্বয়ে ‘তত্ত্বাবধায়ক’ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি তুলেছিল জামায়াতে ইসলামী।

দলটির মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামকে উদ্ধৃত করে তিনি লেখেন, ১৯৮৩ সালে জামায়াত এক জনসভায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ফর্মুলা দিয়েছিল।

তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সব সময় এমন দাবি করা হয়েছে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণা তাদের এবং দলটি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে একত্রিত হয়ে কোন আন্দোলন করেনি।

“জামায়াতের সাথে আমরা রাজপথেও কোন আন্দোলন করি নাই বা জামাতের সাথে আমরা কোন ঐক্যও করি নাই,” ২০১২ সালে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদ।

“জামায়াতে ইসলামীর যারা নির্বাচিত সদস্য ছিল, তারা তাদের প্লাটফর্ম থেকে আন্দোলন করেছে।”

রাজনৈতিক সমঝোতার ব্যর্থ চেষ্টা
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে গড়ে তোলা আন্দোলনের অংশ হিসেবে হরতাল-অবরোধে বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় জনজীবন স্থবির ছিল, ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছিল অর্থনীতি আর মানুষের জীবিকা।

শেষ পর্যন্ত মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয় সাবেক ব্রিটিশ কলোনী দেশগুলোর জোট কমনওয়েলথ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্র সংহত করতে সংস্থাটির তরফ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়।

কমনওয়েলথ মহাসচিবের বিশেষ দূত হিসেবে ঢাকায় আসেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক গভর্নর জেনারেল স্যার নিনিয়ান স্টেফান। বেশ লম্বা সময় ধরে আলোচনা চালিয়েও সফল হতে পারেননি তিনি।

সমঝোতার প্রয়াসের অংশ হিসেবে স্যার নিনিয়ান ঢাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায়-দফায় বৈঠক করেছিলেন।

এক পর্যায়ে তিনি সর্বদলীয় একটি সরকার গঠনের প্রস্তাব করেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকারী দলের প্রতিনিধি এবং বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তাব করা হয়।

সমঝোতা করে যে পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন তারেক রহমান

এছাড়া একজন টেকনোক্রেট মন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন কমনওয়েলথ মহাসচিবের দূত। কিন্তু আওয়ামী লীগ ওই ফর্মুলা গ্রহণ করেনি।

এমনকি স্যার নিনিয়ান স্টেফানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলেছিল আওয়ামী লীগ।

শেষ পর্যন্ত কোন রকম সমাধান খুঁজে না পেয়ে ফিরে যান স্যার নিনিয়ান।

এরপর আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য দলগুলো তাদের আন্দোলন আরো জোরদার করে, আর অন্যদিকে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে থাকে বিএনপি।

শেষ পর্যন্ত প্রধান প্রধান সব রাজনৈতিক দলের বর্জনের মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি একটি একতরফা এবং বিতর্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে ওই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।

এরপর জুনে অুনষ্ঠিত হয় আরেকটি সাধারণ নির্বাচন।

বিতর্কিত নির্বাচন
ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচনটি কেবল একতরফাই ছিল না, সেটি বেশ সহিংসও ছিল। ১৯৯৬ সালের নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের আগের দিন বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের পাঁচ কোটি ভোটারের মধ্যে বেশিরভাগই ভোট দেননি। নির্বাচনে ভোট প্রদানের হার ১০ শতাংশের কম হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয় নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় ৪৮টি আসনে ভোট গ্রহণের আগেই ক্ষমতাসীন বিএনপি’র প্রার্থীরা বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে গেছেন।

বিতর্কিত সেই নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছিল ২৮৯টি আসন। ওই সংসদে আনুষ্ঠানিক কোন বিরোধীদল ছিল না, কিন্ত একটি আসন পেয়ে বিরোধী নেতার চেয়ারে বসেছিলেন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের স্বঘোষিত হত্যাকারীদের অন্যতম ফ্রিডম পার্টির সৈয়দ ফারুক রহমান। বাকি ১০টি আসন পান স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

নির্বাচনের আগেই দেশজুড়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।

নির্বাচনের আগের দিন থেকে বিরোধীদল আওয়ামী লীগ ৪৮ ঘণ্টার হরতাল আহবান করলেও নির্বাচনটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।

ভোটের পর আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভোট দেওয়ার হার এতোটাই নগণ্য যে এটা প্রমাণ করে জনগণ এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে।

তবে বিএনপি’র পক্ষ থেকে সব সময়েই ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন আয়োজনের রাজনৈতিক যুক্তি দেয়া হয়।

‘বাংলাদেশে এক-এগারো আরও শক্তিশালী করেছে হাসিনা ও খালেদাকে’
২০১২ সালে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দলটির সিনিয়র নেতা রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেছিলেন, এক রকম ঝুঁকি নিয়েই নির্বাচনের পথে এগিয়েছিল বিএনপি।

ওই নির্বাচনের মাধ্যমে তৎকালীন বিএনপি সরকার ‘গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা এবং সংবিধান রক্ষা’ করেছিল বলে মনে করেন তিনি।
মিয়া বলেন, “সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়া সংবিধান সংশোধন করে কেয়ারটেকার বিল পাশ করা সম্ভব ছিল না। তখন (অর্থাৎ ৫ম সংসদে) বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না।”

বিএনপি এমন যুক্তি দিয়ে আসছে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত বিল সংসদে পাশ করতে হলে বিরোধী দলগুলোর সমর্থন প্রয়োজন ছিল সরকারের। কিন্তু তাদের সদস্যরা ইতোমধ্যে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছেন, আর অন্যদিকে পঞ্চম জাতীয় সংসদের মেয়াদও শেষ হয়ে যাচ্ছিল।

“পঞ্চম সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে যদি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হয়, তাহলে দাঁড়াবেটা কি? তাহলে তো সরকারই নাই,” নিজেদের পদক্ষেপের সমর্থনে বলেন রফিকুল ইসলাম মিয়া। “সরকার না থাকলে কে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবে? এ রকম একটা সংকটের সময়ে ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদের নির্বাচন দিতেই হলো।”বিএনপি’র নেতারা বলেন, ১৫ই ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল সংসদে উত্থাপন করা এবং সেটি পাশ করানো।
এই নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি সরকার অন্য কোন কাজ করেনি, শুধুমাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিলটি পাশ করেছিল, দলটির যুক্তি।

জনতার মঞ্চ
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বর্জনের মুখে ১৫ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও আন্দোলনের মাঠ থেকে সরে যায়নি আওয়ামী লীগ।

রাজপথে আরও জোরদার আন্দোলন শুরু করে দলটি। শুরু হয় টানা হরতাল ও অসহযোগ আন্দোলন।

রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সংঘাত জোরালো রূপ ধারণ করার প্রেক্ষাপটে মার্চ মাসের প্রথম দিকে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ঘোষণা করেন যে ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল উত্থাপন করা হবে।

কিন্তু আওয়ামী লীগ দাবি ছিল নতুনভাবে গঠিত বিএনপি সরকারের পদত্যাগ এবং সংসদ ভেঙ্গে দেয়া। আর এই দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখে আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল।

সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে শেষ পর্যন্ত ২১শে মার্চ সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রচলন সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করা হয়।

এই অবস্থায় ২৩শে মার্চ ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘জনতার মঞ্চ’ নামে একটি রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজন করেন ঢাকার তৎকালীন মেয়র ও আওয়ামী নেতা মোহাম্মদ হানিফ।

হাসিনা-খালেদা গ্রেপ্তার নিয়ে মইনুল যা বলেছিলেন
সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয় জনতার মঞ্চ থেকে। এই মঞ্চে আওয়ামী লীগের সমমনা রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী এবং সরকারি কর্মকর্তারাও যোগ দেন।

জনতার মঞ্চ গঠিত হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই ওই সময়ে কর্মরত সচিব পর্যায়ের অধিকাংশ কর্মকর্তা বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসের সাথে দেখা করেন।

ঘটনাবলীর দিকে খুব ঘনিষ্ঠ নজর রাখছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের তৎকালীন সাংবাদিক শাহজাহান সরদার। ২০১২ সালে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সচিবরা যেদিন বঙ্গভবনে যাচ্ছিলেন, সেদিন তিনি তৎকালীন সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রীর অফিসে বসে ছিলেন।

“অধিকাংশ সচিব প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়ে তাদের অসন্তোষের কথা জানান। সচিবরা বলেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের দায়িত্ব পালন সম্ভব না,” জানান শাহজাহান সরদার।

বঙ্গভবনে যাওয়া এবং জনতার মঞ্চে যোগদানের ক্ষেত্রে যিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি হচ্ছেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, যিনি পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী হয়েছিলেন।

২০১৬ সালের ২৪শে মার্চ দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় ‘জনতার মঞ্চ-ফিরে দেখা’ শিরোনামে একটি কলাম লেখেন মহীউদ্দীন খান আলমগীর।

তাতে তিনি জানান, “৭ই মার্চ সন্ধ্যায় অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, আওয়ামী লীগ নেতা খ ম জাহাঙ্গীর ও শিল্পীদের মুখপাত্র সৈয়দ হাসান ইমাম সুধা সদনে জননেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তৎকালীন সিভিল সার্ভিস প্রশাসনের মহাসচিব হিসেবে আমার সঙ্গে আলোচনা করে তাদের নেত্রীর কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন সহকর্মী রবিউল আলম মোক্তাদির চৌধুরী (এখন সংসদ সদস্য)।”

“মুনতাসীর মামুন, খ ম জাহাঙ্গীর ও হাসান ইমামের সঙ্গে আলোচনা করে জননেত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার নির্বাচিত মেয়র আওয়ামী লীগের নগর নেতা মোহাম্মদ হানিফকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি একক মঞ্চ স্থাপন করে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং দাবি সমন্বিত ও সোচ্চারভাবে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন,” ড. আলমগীরের বক্তব্য।

যখন নানা দিক থেকে আন্দোলন তীব্রতর হচ্ছে, তখন ৩০শে মার্চ প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পরামর্শে সংসদ ভেঙ্গে দেন রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস। পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে প্রধান উপদেষ্ঠা হিসেবে নিয়োগ করে গঠিত হয় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

ওই সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর নির্বাচনে জয়লাভ করে ২১ বছর পরে ক্ষমতায় ফিরে আসে আওয়ামী লীগ।

সূত্র : নতুন সময়
এন এ/ ১৫ ফেব্রুয়ারি

Source link