‘যারা সরকারে থাকে তারাই করে’

70


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘এটি সত্য, সরকারের মদত ছাড়া কখনো সাম্প্রদায়িক সমস্যা তৈরি হয় না। যারা সরকারে থাকে তারাই করে,‘— এমনটিই মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে পূজা মণ্ডপে হামলার প্রসঙ্গ টেনে শুক্রবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে বাংলাদেশ লেবার পার্টির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘পত্র-পত্রিকা দেখলেই বুঝতে পারবেন, ইকবাল অপ্রকৃতিস্থ ও মাদকসেবী। তাকে ধরা হয়েছে। ইকবাল এতদিন কোথায় ছিল? এই বিশ্বাসটা কে করবে? কারা তাকে সেখানে নিল?’

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কেন আপনারা (সরকার) ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে গেল, সেখানে কোনো পুলিশ পাঠালেন না বা পুলিশ গেল না বা পুলিশ থেকেও কোনো ব্যবস্থা নিল না? কেন এটা হলো? রংপুরের ঘটনায় দেখলাম একদিকে ওসি-চেয়ারম্যান মিলে আলোচনা করে আপস করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বাইরে থেকে এসে লোকজন মাঝি পাড়া জ্বালিয়ে দিয়েছে। তাহলে কি আমরা বলব যে তাদের ছত্রছায়ায় এই ঘটনা ঘটেছে?’

‘কুমিল্লার ঘটনার পর ওবায়দুল কাদের কী করলেন? সেদিন যখন ঘটনা ঘটল, প্রথমেই ওবায়দুল কাদের বললেন, এটা বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা করেছে। কথায় কথায় উনি একটাই কথা বলেবেন, যত দোষ নন্দ ঘোষ,’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের চরম ব্যর্থতা যে আজ এই সমাজে কোনো মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারেন না। হিন্দু সম্প্রদায় যে ধর্ম বিশ্বাস করেন তারা তাদের সেই ধর্ম পালন করবেন, মুসিলম ধর্মের মানুষেরা তাদের ধর্ম পালন করবেন, বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম পালন করবেন, খ্রিষ্টানরা তাদের ধর্ম পালন করবেন— এটাই তো বাংলাদেশ। আপনারা (সরকার) কী করছেন? অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছেন, যা হাজার বছর ধরে চলে আসছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে কেবল মানুষের দৃষ্টিটা, মানুষের মনোযোগকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য এই বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছেন।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকার একেক সময়ে একেকটা বিভাজন তৈরি করছে। সেই বিভাজনে একেক সময় একেকটাকে সামনে নিয়ে আসে। স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি, বিপক্ষের শক্তি, গণতন্ত্রের পক্ষে শক্তি, বিপক্ষের শক্তি। এখন তারা ধর্মীয় বিভাজনে নেমে পড়েছে— কী করে মানুষের মূল যে সমস্যা সেই সমস্যা থেকে তাদের বিভ্রান্ত করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সমস্যা এখন জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, আমরা ভোট দিতে পারি না, আমরা কথা বলতে বলতে পারি না, আমাদের অধিকার নেই, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ধবংস হয়ে গেছে। সেই জায়গাগুলো থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে এসে সাম্প্রদায়িক সংকট, সাম্প্রদায়িক সমস্যা তৈরি করছে সরকার।’

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরা খাতুন জুঁই ও মেজবাউল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এলডিপির একাংশের শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন, জাগাপার খন্দকার লুতফুর রহমান, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফারুক রহমান, সহসভাপতি এস এম ইউসুফ আলী, রামকৃষ্ণ সাহাসহ অন্যরা।

সারাবাংলা/এজেড/টিআর





Source link