মেয়ার্সের মায়াবী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের হার

0
76

চট্টগ্রাম, ০৭ ফেব্রুয়ারি – একে একে অন্য সতীর্থরা আউট হয়ে ফিরতে থাকলেও কাইল মেয়ার্স খেলে গেলেন শেষ পর্যন্ত। আর নিজের অভিষেক টেস্টে মায়াবী ব্যাটিংয়ে রেকর্ড গড়া জয় উপহার দিলেন দলকে। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান মেয়ার্সের অপ্রতিরোধ্য ডাবল সেঞ্চুরির উপর ভর করে ৩ উইকেটে জয় তুলে নেয় সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এটা তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতা ম্যাচ। আর টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার তালিকায় এর অবস্থান পাঁচ নম্বরে। এ জয়ের ফলে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারীরা।

অথচ চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিনেও ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রণেই। কিন্তু টাইগারদের সামান্য কিছু ভুলে পঞ্চম দিনটা আর নিজেদের করে নেওয়া হলো না। দিনের প্রথম দুই সেশনে উইন্ডিজের একটি উইকেটও ফেলতে পারেননি স্বাগতিক বাংলাদেশের বোলাররা। সেই সঙ্গে কয়েকটি ক্যাচ ছাড়ার ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে। টাইগারদের এই ভুলগুলো পুঁজি করে নিয়েছেন মায়ার্স-বোনাররা।

বাংরাদেশের বেঁধে দেওয়া ৩৯৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খুব একটা ভালো ছিল না সফরকারীদের। দলীয় ৩৯ রানে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার জন ক্যাম্পবেল। আউট হওয়ার পূর্বে করেন ২৩ রান। ব্যক্তিগত ২০ রানে ফেরেন আরেক ওপেনার ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট। দ্বিতীয় উইকেটে ব্যাট করতে আসা শেইন মসেলি আউট হন ১২ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম তিন উইকেটই নেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

আরও পড়ুন : শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম টেস্টের শেষ দিনের খেলা

নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৯ রানে ৩ উইকেট হারানো উইন্ডিজের হয়ে মাঠে শক্তভাবে অবস্থান নেন কাইল মেয়ার্স এবং এনক্রমা বোনার। অভিষিক্ত এই দুই ব্যাটসম্যান ২১৬ রানের জুটি গড়ে রেকর্ডে নাম লেখান। টেস্ট ইতিহাসের দুই অভিষিক্ত ক্রিকেটারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি এটি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ। আর চতুর্থ ইনিংসে দুই অভিষিক্ত ক্রিকেটারের সেরা জুটি এটিই। ২৪৫ বলে খেলে ৮৬ রান করা বোনারকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল। পরের উইকেটে ব্যাট করতে নামা জার্মেইন ব্ল্যাকউড আউট হন ৯ রানে।

উইকেটের পর জয়ের আশা দেখছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু সেটা আর সম্ভব হয়নি। ষষ্ঠ উইকেটে জশুয়া ডা সিলভাকে নিয়ে ১০০ রানের পার্টনারশিপ গড়ে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় উইন্ডিজ। এরই মধ্যে অভিষেক ম্যাচই ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেন এই ক্যারিবীয় তারকা কাইল মেয়ার্স। অভিষেকে ডাবল সেঞ্চুরি করা ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান এখন তিনি।

দলীয় ৩৯২ রানে ফেরেন সিলভা। তিনি করেন ২০ রান। পরের উইকেটে খেলতে আসা কেমার রোচ আউট হন শূন্যরানেই। এরপর রাখেম কর্নওয়ালকে সঙ্গে নিয়ে জয় তুলে নেন মেয়ার্স। মেয়ার্স ২১০ রানে এবং কর্নওয়াল ০ রানে অপরাজিত থাকেন।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় ম্যাচটি। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪৩০ রান করে অলআউট হয়েছিল। মেহেদী হাসান মিরাজ সেঞ্চুরি করেছিলেন। ১০৩ রান করে আউট হয়েছিলেন এই ব্যাটসম্যান।

পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করতে নেমে ২৫৯ রান করে অলআউট হয়। সফরকারী দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট। বল হাতে মিরাজ ৪টি উইকেট নিয়েছিলেন।

এরপর বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ২২৩ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে। প্রথম ইনিংস শেষে বাংলাদেশ ১৭১ রানের লিডে ছিল। তাই জয়ের জন্য ক্যারিবীয়দের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ৩৯৫ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪৩০ (১৫০.২ ওভার)

(সাদমান ৫৯, তামিম ৯, শান্ত ২৫, মুমিনুল ২৬, মুশফিক ৩৮, সাকিব ৬৮, লিটন ৩৮, মিরাজ ১০৩, তাইজুল ১৮, নাঈম ২৪, মোস্তাফিজ ৩; রোচ ১/৬০, গ্যাব্রিয়েল ১/৬৯, কর্নওয়াল ২/১১৪, মেয়ার্স ০/১৬, ওয়ারিকান ৪/১৩৩, ক্রেইগ ০/১৩, বোনার ১/১৬)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ২৫৯ (৯৬.১ ওভার)

(ক্রেইগ ৭৬, ক্যাম্পবেল ৩, মোসেলে ২, বোনার ১৭, মেয়ার্স ৪০, ব্লাকউড ৬৮, জশুয়া ৪২, কর্নওয়াল ২, রোচ ০, ওয়ারিকান ৪, গ্যাব্রিয়েল ০*; মোস্তাফিজ ২/৪৬, সাকিব ০/১৬, মিরাজ ৪/৫৮, তাইজুল ২/৮৪, নাঈম হাসান ২/৫৪)।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ২২৩/৮ডি (৬৭.৫ ওভার)

(সাদমান ৫, তামিম ০, শান্ত ০, মুমিনুল ১১৫, মুশফিক ১৮, লিটন ৬৯, মিরাজ ৭, তাইজুল ৩, নাঈম হাসান ১*; রোচ ০/১৭, কর্নওয়াল ৩/৮১, গ্যাব্রিয়েল ২/৩৭, ওয়ারিকান ৩/৫৭, বোনার ০/১৩, ক্রেইগ ০/৭, মেয়ার্স ০/১১)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংস: (ব্র্যাথওয়েট ২০, ক্যাম্পবেল ২৩, মসেলি ১২, বোনার ৮৬, মেয়ার্স ২১০*, ব্ল্যাকউড ৯, সিলভা ২০, রোচ ০, কর্নওয়াল ০*; মোস্তাফিজ ৭০/১, তাইজুল ২/৯১, মিরাজ ৪/১১৩, নাঈম ১/১০৫)

সূত্র : ঢাকাটাইমস
এন এইচ, ০৭ ফেব্রুয়ারি

Source link