মেয়র রেজাউলের দ্বিতীয় বাজেট ২১৬১ কোটি টাকার

36


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো : আগামী অর্থবছরের জন্য ২১৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বিদায়ী অর্থবছরের চেয়ে বাজেটের আকার কমেছে। বাজেটে আয়ের মূল খাত দেখানো হয়েছে উন্নয়ন অনুদান এবং বিভিন্ন ধরনের কর আদায়কে। আর বাজেটে ব্যয়ের মূল খাত দেখানো হয়েছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে।

রোববার (২৬ জুন) দুপুরে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাজেট ঘোষণা করেন সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। নির্বাচিত মেয়র হিসেবে তিনি দ্বিতীয় দফায় এ বাজেট ঘোষণা করলেন।

২০২২-২০২৩ নতুন অর্থবছরের বাজেটের পাশাপাশি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১২০২ কোটি ৫৭ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ২৪৬৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল। বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ। নতুন অর্থবছরের বাজেটেও আয়ব্যয়ের পরিকল্পনায় নতুন তেমন কিছুই নেই।

২০২২-২৩ অর্থবছরে উন্নয়ন খাতে ১ হাজার ১১২ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। যদিও বিদায়ী অর্থবছরে উন্নয়ন খাতে ৭৪০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও শেষ পর্যন্ত ৬৫৪ কোটি টাকা খরচ করতে পেরেছে চসিক।

নতুন অর্থবছরের বাজেটে বলা হয়েছে, কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পারিশ্রমিক খাতে দিতে হবে ২৯০ কোটি ১০ লাখ টাকা। বকেয়া দেনা পরিশোধ করতেই সিটি করপোরেশনের তহবিল থেকে যাবে ১৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। শুধুমাত্র বেতন-ভাতা, পারিশ্রমিকসহ চসিকের বার্ষিক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ব্যয় হবে ৫৬৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ভাড়াকর ও অভিকর বাবদ ৭ কোটি ৩৫ লাখ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও পানি ব্যয় বাবদ ৫০ কোটি ৫০ লাখ, কল্যাণমূলক ব্যয় বাবদ ৪২ কোটি ৭০ লাখ, ডাক তার দূরালাপনী বাবদ ১ কোটি ২০ লাখ, আতিথেয়তা ও উৎসব বাবদ ৬ কোটি ৫ লাখ, বীমা বাবদ ৬৫ লাখ, ভ্রমণ ও যাতায়াত ব্যয় বাবদ ১ কোটি ৩০ লাখ, বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা ব্যয় বাবদ ৬ কোটি টাকাসহ মুদ্রণ ও মনিহারী বাবদ ৬ কোটি ৮১ লাখ, ফিসবৃত্তি ও পেশাগত ব্যয় বাবদ ১ কোটি ২৩ লাখ, প্রশিক্ষণ বাবদ ১ কোটি, ভাণ্ডার ও বিবিধ খাতের ব্যয় মিলিয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

এছাড়া ত্রাণ ক্রয়সহ বিবিধ খাতে চসিক ১ হাজার ৫৯৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বাজেটে।

নতুন অর্থবছরের ব্যয় নির্বাহের জন্য ১২১২ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে পাওয়ার আশা করছেন মেয়র, যা তার মোট বাজেটের অর্ধেকের বেশি। যদিও বিদায়ী অর্থবছরে উন্নয়ন অনুদান খাতে ১৫৭০ কোটি টাকা পাওয়ার আশা করে শেষ পর্যন্ত ৬৮৯ কোটি টাকা পেয়েছে চসিক। আর নিজস্ব উৎস থেকে ৮৫২ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যের বিপরীতে আয় হয়েছে ৪৭৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। যদিও কর আদায়ের চসিকের ব্যর্থতার কথা বাজেট বক্তব্যেই স্বীকার করে নিয়েছেন মেয়র। বক্তব্যে বলা হয়েছে, ঢাকা সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ যেখানে ৯০ শতাংশের বেশি সেখানে বিদায়ী অর্থবছরে চসিকের আদায়ের হার ৪৭ শতাংশ মাত্র।

এবারের বাজেটে বকেয়া কর ও অভিকর হিসেবে ২১৫ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর, ফি, ভাড়াসহ নিজস্ব উৎস থেকে আরও ৯০৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা আয়ের লক্ষ্য ঠিক করেছেন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।

ব্যয় নির্বাহের জন্য হালকর ও অভিকর খাতে আয় দেখানো হয়েছে ২১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এছাড়া ফিস আদায় বাবদ ১২৫ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার, জরিমানা আদায় বাবদ ৬০ লাখ, সম্পদ হতে অর্জিত ভাড়া বাবদ ১১১ কোটি ৮০ লাখ, ব্যাংক স্থিতি থেকে ৫ কোটি ও ভর্তুকিসহ নিজস্ব উৎস থেকে ৯০৪ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় করার আশা করছেন মেয়র।

বাজেট বক্তব্যে মেয়র জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকা ২১টি খাল উদ্ধারে সমীক্ষার জন্য পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর প্রধান ৩৬টি খালে ৫ হাজার ৬শ ১৬ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প সিডিএ কর্তৃক বাস্তবায়িত হচ্ছে। যার বাস্তবায়নের দায়িত্ব বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সরকারের প্রকল্প সহায়তায় জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। এছাড়া নগরীর অবশিষ্ট ২১টি খালে উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধারের বিষয়ে ফিজিবিলিটি স্ট্যাডির জন্য কনসালট্যান্ট নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

চট্টগ্রাম বন্দরের আয়ের এক শতাংশ সিটি করপোরেশনের তহবিলে দেয়ার দাবিও করেছেন মেয়র।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্যানেল মেয়র, কাউন্সিলর ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সারাবাংলা/আরডি/একে





Source link