মেহনতি জনতার দীপ্ত ঐক্যের প্রত্যয় ‘মে’ দিবস : ন্যাপ

0
185

করোনাভাইরাস সংকটকালে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত, শ্রমিকদের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান ও চিকিৎসার নিশ্চয়তার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, মেহনতি জনতার প্রত্যয় দীপ্ত ঐক্যের মহিমায় আত্মোৎসর্গের পথ বেয়ে আবার ফিরে এসেছে মে দিবস।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ১মে ‘মহান মে দিবস’ উপলক্ষে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বাণীতে নেতৃদ্বয় এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, ১৮৮৬ সালের এমন একটি দিনে শিকাগোর হে মার্কেটে শ্রমিক শ্রেণীর প্রাপ্য অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্যে, শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং আত্মত্যাগের যে গৌরবময় ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছিলো, তা অনাদিকাল ধরে বিশ্বের সকল শ্রমিকের কাছে স্বর্নোজ্বল হয়ে থাকবে।

নেতৃদ্বয় এই মহান দিবসে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মেহনতি মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আরো বলেন, অম্লান মে দিবসের অন্তর্নিহিত শক্তি ও তাৎপর্য আমাদের জাতীয়, রাষ্ট্রীয় এবং সমাজ জীবনের সর্বক্ষেত্রে অনুসরণ করে চলতে হবে। শিকাগোর শ্রমিক আন্দোলনের সেই মহান নেতা পারসন্স ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলে গেছেন, “আমাদের প্রাণ উৎসর্গ করছি পৃথিবীর সকল মানুষের দাবী প্রতিষ্ঠার জন্য।”

নেতৃদ্বয় বলেন, বাংলাদেশের শাসকগোষ্টির অবহেলার কারণে শ্রমিক শ্রেণী তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে আজও বঞ্চিত। একদিকে মালিক শ্রেণী লুট করছে আর শ্রমিক শ্রেণী লড়াই করছে। বর্তমান করোনাভাইরাস সংকটকালে চাকরিচ্যুতির ভয় দেখিয়ে কিছু গার্মেন্টস ও কারখানা খুলে দিয়ে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করা সে লুটেরা শ্রেণীরই কাজ। বর্তমান পরিস্থিতিতে গার্মেন্ট, কারখানা খুলে দেয়া চরম হঠকারিতা। এটা মালিকের মুনাফার স্বার্থে শ্রমিকদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া ছাড়া কিছুই নয়। দেশে যখন ‘সাধারণ ছুটি’, ‘লকডাউন’ চলছে এবং দেশবাসী চরম আতঙ্কে, তখন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়াই একেবারে অপ্রস্তুত অবস্থায় এভাবে গার্মেন্টস খুলে দেয়াটা গোটা জাতির জন্যই আত্মঘাতী। এই অবস্থা থেকে শ্রমিক শ্রেণীকে মুক্তি দিতে প্রয়োজন দেশপ্রেমিক সরকার।

নেতৃদ্বয় বলেন, জরুরি প্রয়োজনে চালু রাখা গার্মেন্টে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে চালু গার্মেন্টে শ্রমিকদের থাকা ও খাওয়া, যাতায়াত, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করার উপযুক্ত ব্যবস্থা, মাস্কসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য-সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান, স্যানিটাইজেশন ইত্যাদি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ সময়কালে শ্রমিক ছাঁটাই, লে-অফ করা যাবে না।

তারা বলেন, করোনা সংকটকালে যে গণমাধ্যম বন্ধ ও সংবাদ কর্মীদের ছাটাই করেছেন তারাও লুটেরাগোষ্টির স্বার্থ রক্ষারই বাহক। এই সকল মালিকরা মানুষ নামে অমানুষ। তাদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীসহ দেশবাসীর প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত এবং সামাজিকভাবে এদের বয়কট করা উচিত।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে