মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা: স্বাস্থ্যবিধির চক্করে স্বাস্থ্যঝুঁকির উত্থান

0
127

মাহমুদা হক মনিরা :: আজ ২ এপ্রিল (শুক্রবার), ১ বছরের বিশাল জড়তা ভেঙ্গে অনুুুুুুষ্ঠিত হয়েছে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা। সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) ভর্তি পরীক্ষায় এ বছর ১ লাখ ২২ হাজার ৮৭৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। সারাদেশের ১৯টি কেন্দ্রের ৫৫টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

করোনার ঢেউয়ে শিক্ষাঙ্গনে এসেছে বিশাল ভাটি। স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় কোথাও নেই শিক্ষার্থীদের ভিড়। দীর্ঘ ১ বছর পর আবারো আড়মোড়া দিয়ে উঠেছে শিক্ষার আলো। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার মতো এত বড় একটি পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই করোনাকালেই, যেখানে এখনো বিরূপ পরিস্থিতিতে রয়েছে সারা বিশ্ব।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও, পরীক্ষা কেন্দ্রের চিত্র একদমই ভিন্ন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরীক্ষা দিতে এসেছেন অনেকে। প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর সাথেই রয়েছে ১-২ জন অবিভাবক। করোনা সংক্রামক রোগ হওয়ার ফলে প্রশ্ন উঠেছে পরীক্ষার্থীর পুরো পরিবার নিয়ে।

আলোচনা-সমালোচনার গণ্ডিতে রয়েছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। কারো মতে পরীক্ষা হওয়ায় জট খুলছে শিক্ষার্থীদের, আবার কারও মতে দেশের এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে এমন নিশ্চিত জনবহুল পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়াটা নিতান্তই অযুক্তিক।

যতই স্বাস্থ্যবিধি মানা হোক, অভিভাবকের মনও কিছু কিছু জায়গায় অনেকটা শিশুর মতো আচরণ করে। পরীক্ষার সময় নিজের বাচ্চাকে দোয়া করে কেন্দ্র পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়া যেন প্রতিটি অভিভাবকের স্বভাবিক আচরণ, যেটাকে তারা নিজেদের দ্বায়িত্ব মনে করেন।

টাংগাইল থেকে আসা এক অবিভাবক জানান, “করোনা সবার জন্যই সমস্যার। তবে নিয়ম বিধি মেনে থাকা সবার জন্য প্রয়োজন। রাস্তায় গাড়ি কম থাকায় ও সিটিং থাকায় গাড়ি পেতেও একটু সমস্যা হয়েছে।”

গাজীপুর থেকে আসা এক পরীক্ষার্থীর অবিভাবক বলেন, “বাচ্চারা অনেকদিন পড়াশোনা থেকে দূরে থাকায় তাদের মনোযোগ কমে যাচ্ছিল। তাই পরীক্ষা হওয়ায় একদিকে ভালোই হয়েছে। কিন্তু করোনার ঝুঁকিতে বাচ্চাদের এত ভিড়ের মধ্যে ছাড়তেও ভয় হয়। তাই প্রশাসন ব্যবস্থা আর একটু কঠোর হলে ভালো হতো।”

পরীক্ষার অনুভূতি প্রকাশকালে নাদিয়া ইসলাম নুপুর বলেন, “করোনা পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়াটা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। কারন এখন করোনার পরিস্থিতি যেই হারে বাড়ছে, এমন অবস্থায় তো আমাদের আরো বেশি সতর্ক থাকা উচিত। পরীক্ষা নেওয়াটা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য অনেক প্রয়োজন। তবে সে ক্ষেত্রে আমাদের নিরাপত্তার বিষয়টি তাদের ভালো করে দেখার দরকার ছিল। পরীক্ষার কেন্দ্রে এসে জনসমাগম আমাকে বেশ ভীত করে দিয়েছে। তবে পরীক্ষা হওয়ার ফলে আমাদের মাথা থেকে একটা চাপ কমে গেছে।”

নিজের অভিমত প্রকাশ করে আরেক পরীক্ষার্থী ইফতি হক জানান, “দীর্ঘ সময় পর পরীক্ষায় বসে বেশ ভালো লাগছে। তবে সাময়িক পরিস্থিতির জন্য আতঙ্কে আছি। কেন্দ্রে এ জর মাপার যন্ত্র ছিল না। সবার তাপমাত্রা না দেখেই কেন্দ্রে ঢুকিয়েছে এবং স্যানিটাইজার এর তেমন কোনো ব্যবস্থা ছিল না। যা শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তবে পরীক্ষা নেওয়াতে ভালই হয়েছে। না হলে সবার প্রিপারেশন আবার ডাউন হয়ে যেতো। এখন সামনের পরীক্ষায় ফোকাস দেওয়া যাবে।”

Print Friendly, PDF & Email

Source link