মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে আনা রিট খারিজ – Corporate Sangbad

34



কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক : ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বিষয়ে দায়ের করা রিট পর্যবেক্ষণসহ খারিজ করে আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২৭ মে) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর সমন্বয়ে গঠিত একটি ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, যদি কোনো পরীক্ষার্থী ফলাফল ত্রুটির বিষয়ে আবেদন করেন, তাহলে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরকে তা সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছেন। গত ১৯ মে ভর্তিচ্ছু ফেরদাউস জাহান মারিয়াসহ ৩২৪ পরীক্ষার্থী এ রিট করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদী হাসান চৌধুরী ও ডেপুটি এটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। রিট আবেদনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ও পরিচালক এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে বিবাদী (রেসপনডেন্ট) করা হয়।

রিটে বলা হয়, গত ৪ এপ্রিল প্রকাশিত ২০২০-২০২১ ইং শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা ফলাফলে অসংখ্য ভুল এবং বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদফতর কর্তৃক গত ৭ ফেব্রুয়ারি তারিখে প্রচারিত ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ি একজন পরীক্ষার্থী কোনো মেডিকেল কলেজে ভর্তি থাকা অবস্থায় যদি দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন, তবে তার মোট প্রাপ্ত নম্বর থেকে ৭.৫ নম্বর কর্তন করা হবে। আবার কোনো পরীক্ষার্থী যদি গতবছর এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে থাকেন, তাহলে তার ৫ নম্বর কাটা যাবে। কিন্তু, প্রকাশিত ফলাফল থেকে দেখা যায়, অনেক পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রেই এই নিয়মটি পালন করা হয়নি। যেসব পরীক্ষার্থীদের ৭.৫ নম্বর কর্তন করার কথা সেখানে মাত্র ৫ নম্বর কর্তন করা হয়েছে। ফলে ওইসব ভর্তি পরীক্ষার্থীদের ২.৫ নম্বর বেশি দিয়ে মেধা তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। আবার প্রথমবার পরীক্ষায় যেখানে কোনো নম্বর কাটার কথা নয়, সেখানে অনেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকেই ৫ নম্বর কেটে মেধা তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।

ত্রুটি ও অসঙ্গতি রেখে মেধা তালিকা প্রণয়ন করার ফলে হাজার হাজার যোগ্য ও মেধাবী পরীক্ষার্থী মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি হওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার মুখে পড়েছে। এসব কারণে প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করে এবং এসব ত্রুটি ও অসঙ্গতি সংশোধন করে নতুন মেধা তালিকা প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বরং ত্রুটিপূর্ণ মেধাতালিকার ভিত্তিতেই মেডিকেল কলেজগুলোতে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে আগামী ২২ মে থেকে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর ভর্তি কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।

রিটে বলা হয়, যে ত্রুটিপূর্ণ মেধা তালিকার ভিত্তিতে মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর অর্থই হলো প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীকে বঞ্চিত করা, তাদের আজীবন লালিত আকাক্সক্ষা চিকিৎসাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা থেকে বঞ্চিত করা। সেইসঙ্গে দেশের সামগ্রিক জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া, যা বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭, ৩১, ৩২ ও ৪০ এর পরিপন্থী।

আদালত শুনানি শেষে রিটটি আজ পর্যবেক্ষণসহ খারিজ আদেশ দেন। তবে পর্যবেক্ষণে কোনো পরীক্ষার্থীর ফলাফলে ত্রুটির বিষয়ে আবেদন করলে তা স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরকে সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।





Source link