“মুজিববর্ষের অঙ্গীকার-সুরক্ষিত ভোক্তা-অধিকার”

0
230

১৫ মার্চ বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস-২০২০ চট্টগ্রাম বিভাগে বর্ণ্যাঢ্যভাবে উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উদযাপনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ হতে বেলুন উড়িয়ে শুভ সুচনা করা হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে “মুজিববর্ষের অঙ্গীকার-সুরক্ষিত ভোক্তা-অধিকার” নির্ধারণ করা হয়েছে। দিবসটির প্রতিপাদ্য এবং ভোক্তা অধিকারের গুরুত্বের উপর আলোকপাত করে সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চট্টগ্রাম সভাপতিত্ব করেন। প্রফেসর এবিএম আবু নোমান, ডিন, আইন অনুষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জনাব আব্দুর রউফ, সহকারী পুলিশ কমিশনার, সিএমপি, এএসএম আজিম উদ্দিন, পরিচালক ও অধিনায়ক, আনসার ও ভিডিপি, চট্টগ্রাম বিভাগ, এডভোকেট আবুল হাশেম, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল, ইঞ্জিনিয়ার সেলিম রেজা, পরিচালক, বিএসটিআই, চট্টগ্রাম, জনাব মাহফুজুল হক শাহ, প্রাক্তন পরিচালক, দি চিটাগং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, জনাব এসএম নাজের হোসাইন, প্রেসিডেন্ট, কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), চট্টগ্রাম, ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম, জনাব মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ, উপপরিচালক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন।

বক্তব্যে সভাপতি বলেন যে, সমাজে ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে সবার আগে প্রয়োজন সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ীবৃন্দের সচেতনতা। সবাই সচেতন হলে খাদ্যে ভেজাল, ভোক্তা অধিকার বিরোধী অপরাধ দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বিশেষ অতিথির বক্তেব্যে প্রফেসর এবিএম আবু নোমান, ডিন, আইন অনুষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বলেন যে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২009 একটি যুগোপযোগী আইন। এ আইনের প্রতারিত ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ করতে পারেন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলো আদায়কৃত জরিমানার ২৫% অভিযোগকারীকে প্রদান করা হয়। তবে তা অভিযোগকারীর ক্ষতিপূরণ নয়, বরং প্রণোদনা হিসেবে প্রদান করা হয়। অভিযোগকারী চাইলে ফৌজদারি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পরেও তাঁর আর্থিক ক্ষতির ৫ গুণ ক্ষতিপূরণ দাবি করে দেওয়ানী প্রতিকার চাইতে পারেন। উপপরিচালক জনাব মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ, তাঁর বক্তব্যে বলেন এই অধিদপ্তর ভোক্তাগণের নিকট হতে অভিযোগ গ্রহণে একটি হট-লাইন নম্বর চালু করেছে। হটলাইন নম্বর হচ্ছে 16121 এ ছাড়াও ৩৩৩ নম্বরে কল করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করা যায়। তিনি আরো বলেন, তাঁর দপ্তর আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছে, ভোক্তা অধিকার বিষয়ক প্রচারণা চলছে, ভোক্তাগণের নিকট হতে প্রাপ্ত অভিযোগ আন্তরিকতার সাথে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে এবং নিয়মিত বাজার তদারকি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জনাব এসএম নাজের হোসাইন, প্রেসিডেন্ট, ক্যাব, চট্টগ্রাম তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, ভোক্তা অধিকার বলতে খাদ্য, পণ্য, সেবা, সবই বোঝাই। শিক্ষা সেবা, মেডিকেল সেবা ইত্যাদিও ভোক্তা অধিকারের আওতাভুক্ত করা প্রয়োজন। তিনি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও এ অধিদপ্তরকে আরো শক্তিশালী করতে ভোক্তা অধিকার বিষয়ক পৃথক মন্ত্রণালয় করারও দাবি জানান।
সভায় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, সুধীসমাজ, ভোক্তা সাধারণ এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।
আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন জনাব কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, সহ সভাপতি, ক্যাব, চট্টগ্রাম।

পাশাপাশি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিভাগ এর উদ্যোগ্যে দিনব্যাপী ২টি ট্রাক-শো’র আয়োজন করা হয়েছে। ট্রাক-শোতে ভোক্তা অধিকার আইন বিষয়ক জারিগান প্রচার করা হচ্ছে এবং ২টি ট্রাক হতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত লিফলেট, প্যাম্ফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে