মুজিবনগর মহাজনপুর ইউনিয়নে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে সমাবেশ ও শোভাযাত্রা

86

মেহেরপুর প্রতিনিধি।
মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলার মহাজনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দেওয়া মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় যতারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও মহাজনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মহাজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমাম হোসেন মিলু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমাম হোসেন মিলু বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে জেলার কিছু কুচক্রি মানুষ নেত্রীকে ভূল বুঝিয়ে আমার মনোনয়ন পরিবর্তন করেন। এ বিষয়ে আমার নেতা আমার অভিভাবক ফরহাদ হোসেন মর্মাহত, তিনি স্থবির হয়ে গেছেন। তিনি বলেন, ১৯৮৭ সাল থেকে নিজের জীবন যৌবন বিসর্জন দিয়ে এই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলাম।
এমন একটা সময় ছিল এখানকার নেতা-কর্মীরা পরিচয় দিতে পারতোনা। ভয়ে নির্বাচনে কেউ অংশ নিতে চাইতোনা। কিন্তু আমি বিএনপি-জামাত জোটের সময় নৌকা নিয়ে লড়েছি। তারপর দুইবার দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হয়েছি।

দলের মনোনয়ন পরিবর্তন হতে পারে এতে আমার কোন দুঃখ নেই। কিন্তু এমন একজন ব্যক্তিকে নমিনেশন দিয়েছে যার প্রত্যেকটা সময় অনাচার মিথ্যাচারে ভরপুর।

আমি আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামাত কোন ভেদাভেদ রাখিনি। যার যেমন মান আছে তাকে সেই জাগাতে রেখেছি। আমি চোরকে চোরের জায়গায় সন্ত্রাসীকে সন্ত্রাসীর জাগায় রেখেছি। তাই ইউনিয়নের সবাই শান্তিতে বসবাস করছে। এক সময় ষড়যন্ত্র ছিলো বিরোধী দলের এখন ষড়যন্ত্র নিজের দলে। এই নিজের দলের ষড়যন্ত্রকে রুখতে হবে। একদিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্ত আরেকদিকে আমার জনগনের সিদ্ধান্ত। আমার জনগনের উপর একটিও টোকা পড়লে কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহাজনপুর ইউনিয়নের নেতাকর্মীর দিকে তাকিয়ে একটিবার আমাকে নৌকা ভিক্ষা দেন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন মহাজনপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শেখ সাদী, ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম, মহাজনপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শেখ রাসেল, মুজিবনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. হেলাল উদ্দীন লাভলু, মহাজনপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ইমাম হাসান ইমন।

বক্তারা বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের পরিবর্তন না হলে আগামী ১১ নভেম্বরের নির্বাচনে আমাম হোসেন মিলুকে সাথে নিয়ে নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করে কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্তের উচিত জবাব দেবো।
উল্লেখ্য, গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনীত প্রার্থীদের তালিকায় মহাজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মো. আমাম হোসেন মিলুর নাম প্রকাশ করা হয়। পরেরদিন ১০ অক্টোবর সংশোধিত তালিকায় মো. রেজাউর রহমানের নাম চুড়ান্ত করা হয়।
সমাবেশ শুরুর আগে নেতাকর্মীরা কোলা মোড় থেকে আমাম হোসেন মিলুকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেল র‌্যালি করে সমাবেশস্থলে আসেন।