মুচলেকায় মুক্ত জামালপুর টুইন টাওয়ারের মালিক

0
265

ভাড়াটিয়াকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে গ্রেপ্তার হন বাংলাদেশ জাতীয় বঙ্গলীগের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট শওকত হাসান মিয়া। পরে মুচলেকা দিয়ে তিনি আদালত থেকে জামিন নেন। ইউআইটিএস (ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস) কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে ‘জামালপুর টুইন টাওয়ার’-এর মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। গতকাল বুধবার গুলশান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, রাজধানীর বারিধারা (বাঁশতলা) এলাকার জামালপুর টুইন টাওয়ারের কয়েকটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত প্রথম তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউআইটিএস। চুক্তি অনুযায়ী এককালীন ১০ বছরের ভাড়াসহ যাবতীয় পাওনাও ভবন মালিককে পরিশোধ করে প্রতিষ্ঠানটি; কিন্তু ইউআইটিএস কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব ক্যাম্পাসে আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র স্থানান্তরের উদ্যোগ নিতেই বাগড়া দেয় ভবন মালিক শওকত হাসান। তার নির্দেশে গত ৩ নভেম্বর ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা মালামাল সরানোর কাজে নিয়োজিত কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

এর পরই শওকতের কাছে বাড়িভাড়ার চুক্তিপত্রের অনুলিপি চেয়ে চিঠি দেয় ইউআইটিএস কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বাড়ির মালিক এর জবাবে মূল বাড়িভাড়া চুক্তির বদলে বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টি ও পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সূফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া চুক্তিপত্র সরবরাহ করে। সেই সঙ্গে ৫৭ কোটিরও বেশি টাকা দাবি করা হয় ভাড়া বাবদ।

গত ১২ নভেম্বরও শওকত হাসান তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মালামাল স্থানান্তরে বাধা এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন। এর পর ২০ নভেম্বর ভবনের মালিক তার স্টাফ আবুল কাশেম, এসএম মাহমুদ হাসান এবং সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য পনির, জুয়েল, সোহেলসহ অচেনা আরও কয়েকজনকে দিয়ে সরাসরি ও মোবাইল ফোনে ইউআইটিএস কর্তৃপক্ষের অনেককেই প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ান। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সার্বিক বিষয় জানিয়ে ওই দিনই গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-১৪৫২) করেন ইউআইটিএসের রেজিস্ট্রার মো. কামরুল হাসান।

তদন্ত শেষে গুলশান থানার এসআই কামরুল ইসলাম ২৩ ডিসেম্বর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন- আদালতের আদেশ পেয়ে কয়েকজন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তিনি। ঘটনাস্থল জামালপুর টুইন টাওয়ারের আশপাশের লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদেও জিডিতে উল্লিখিত অভিযোগের সত্যতা পান তদন্ত কর্মকর্তা।

তদন্তে উঠে আসে- ভবন মালিক ১০ বছরের জন্য ভবনটি ইউআইটিএসের কাছে ভাড়া দেন এবং চুক্তির শর্তানুযায়ী এককালীন পুরো ভাড়ার টাকা নেন। এর পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জিডির বাদীর নিজস্ব ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ শেষ হলে ভবন মালিক বরাবর নোটিশের মাধ্যমে অবহিত করে আসবাবপত্র ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। কিন্তু ভবন মালিক মালামাল সরানোর কাজে বাধা দেন।

বিবাদী পক্ষ মো. শওকত হাসান মিয়া, এসএম মাহমুদ, মো. পনির মিয়া, মো. সোহেল মিয়া, মো. জুয়েল ও তাদের ভাড়াটে লোকজনের মাধ্যমে বাদীপক্ষদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং প্রাণনাশেরও হুমকি-ধমকি দেন বলে তদন্তে উঠে আসে। বিবাদীরা বিভিন্ন বিল বকেয়া আছে জানিয়ে ইউআইটিএস কর্তৃপক্ষকে তা পরিশোধের জন্য চাপ দিলেই মূলত এ বিরোধের সূত্রপাত হয়।

এসআই কামরুল ইসলামের এই তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকেই আদালত শওকত হাসানসহ অন্যান্য আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ পরোয়ানার ভিত্তিতে গতকাল গ্রেপ্তার হন তিনি। আদালতে বিবাদীর পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান মানিক। শুনানি শেষে বিকালে ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেস চৌধুরীর আদালত ৫০০ টাকা বন্ডে শওকত হাসানের জামিন মঞ্জুর করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে