মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মোহাম্মদ মুছার প্রয়াণ

78


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন প্রগতিশীল গণআন্দোলনের সংগঠক, বামপন্থি রাজনীতিক মোহাম্মদ মুছা আর নেই।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হলেও শারীরিক বিভিন্ন জটিলতায় ভুগে তিনি মারা গেছেন।

তিনি দীর্ঘসময় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

শুক্রবার (২০ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রবীণ এই নেতার মৃত্যু হয়েছে বলে কমিউনিস্ট পার্টি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

৭৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ মুছার বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়ায়। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর মোহাম্মদ মুছা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সুস্থ হয়ে তিনি বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু ডায়াবেটিস, রক্তে সংক্রমণসহ শারীরিক বিভিন্ন জটিলতায় তিনি আক্রান্ত হয়ে পড়েন। এরপর তাকে নগরীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে তার মৃত্যু হয়েছে।

সিপিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ষাটের দশকে ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মোহাম্মদ মুছা। ১৯৬৩ সালে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে জড়িত হন। তিনি ছাত্র ইউনিয়নের বৃহত্তর চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি বৃহত্তর চট্টগ্রাম কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

সিপিবির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহআলম সারাবাংলাকে বলেন, ষাটের দশক থেকে প্রথমে পূর্ব পাকিস্তান এবং পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে যত আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে, সবগুলোতেই সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মোহাম্মদ মুছা। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ একটি গোপন সেল করা হয়েছিল। সেই সেলের তিনি সদস্য ছিলেন। তিনি একজন অসম্ভব জনপ্রিয় কৃষক নেতা ছিলেন। খুবই সাধারণ জীবনযাপন করতেন। একজন জননেতা হিসেবে উনাকে সবাই শ্রদ্ধা করতেন।

নব্বইয়ের দশকে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণফোরাম গঠিত হওয়ার পর মোহাম্মদ মুছা সিপিবি ছেড়ে ওই দলে যোগ দেন। তবে দলটিতে তিনি খুব বেশি সক্রিয় ছিলেন না।
মোহাম্মদ মুছার মৃত্যুতে সিপিবি, ছাত্র ইউনিয়ন, উদীচী চট্টগ্রাম, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

সিপিবির চট্টগ্রাম জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আবদুল নবী ও সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা শোকবার্তায় বলেন, নীতিনিষ্ঠ ও আদর্শিক রাজনীতির জন্য মোহাম্মদ মুছা প্রগতিশীল ধারার সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধার আসনে ছিলেন। আমরা তার রাজনৈতিক জীবন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তার মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

ছাত্র ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অ্যানি সেন ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান চৌধুরী শোকবার্তায় বলেন, মোহাম্মদ মুছা এদেশের প্রগতিশীল আন্দোলনের নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক ছিলেন। স্কুলে পড়ার সময়েই তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের সমন্বয়ে চট্টগ্রামে বিশেষ গেরিলা বাহিনী গঠনের দায়িত্ব পালন করেন। আমৃত্যু তিনি মানুষের অধিকার ও মুক্তির জন্য লড়াই করে গিয়েছেন। তার মৃত্যু এদেশের প্রগতিশীল আন্দোলনের অপূরনীয় ক্ষতি।

মোহাম্মদ মুছার মৃত্যুতে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত ও যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, পাহাড়তলী আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মীর মোহাম্মদ ইলিয়াছ ও সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দত্ত এবং বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি ফজলুল কবির মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এছাড়া উদীচী চট্টগ্রামের পক্ষে শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফী, ডা. চন্দন দাশ ও শীলা দাশগুপ্ত গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন।

সারাবাংলা/আরডি/একেএম





Source link