মিতু হত্যার ৭দি‌নে গ্রেফতার হয়নি কোন আসামী, প্রশাস‌নের চরম ব্যর্থতা!

0
465

মোঃ গিয়াস উদ্দিন রু‌বেলঃ
ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া উপজেলায় শ্বশুর বাড়ির লোকজন কর্তৃক গৃহবধু হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় ৭দিন অ‌তিবা‌হিত হ‌লেও গ্রেপ্তার হয়নি কোন আসামী। তবে দাগনভূঁইয়া থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, আসামীরা পলাতক থাকায় এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি, গ্রেপ্তারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে দাগনভূঁইয়া থানা পুলিশ।

এদিকে মামলার এক সপ্তাহ আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় সঠিক বিচার প্রাপ্তি নিয়ে আশংকা প্রকাশ করে ভিকটিম গৃহবধুর ভাই মিশু চন্দ্র দাস বলেন, ‘গরিব বলে হয়তো আমার বোনের হত্যাকান্ডের সঠিক বিচার পাবো না’। তিনি এ সময় কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, তার বোনকে হত্যার পর শ্বশুরালয়ের লোকজনের রহস্যজনক আচরণ ও হত্যাকান্ডের পর ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন থাকার পরেও বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল কর্তৃক ঘটনাকে আত্নহত্যা বলে ধামাচাপা দেয়ার প্রবণতা তাকে এবং তার পরিবারকে হতাশাগ্রস্থ করেছে।

ভিকটিম গৃহবধুর মা রীনা রানী দাস জানান, আমার মেয়েকে তার দেবর শ্যামল প্রতিনিয়ত কু-প্রস্তাব দিত। আমার মেয়ে এ বিষয়ে আমাকে একাধিকবার জানানোর পর লোকলজ্জার ভয়ে আমাদের পরিবারের পরামর্শে আমার মেয়ে মিতু তার শ্বশুর বাড়িতে ঘটনাটি জানালে তারা তা বিশ্বাস না করে আমার মেয়ের উপর ক্ষিপ্র হয়ে ওঠে এবং সর্বশেষ তারা আমার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

উল্লেখ্য, গত বৎসর ফেনী জেলার দাগনভুঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর আলীপুর গ্রামের হারাধন ডাক্তার ধুপি বাড়ীর কিশোর কুমার দাসের পুত্র প্রবাসী ডালিম কুমারের সাথে নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগ‌ঞ্জ উপ‌জেলার ১নং সিরাজপুর ইউনিয়‌নের (৪নং ওয়ার্ড), দ‌ক্ষিণ বিরাহীমপুর গ্রা‌মের মোগরাপাড়া এলাকায় নান্টু মাষ্টা‌রের বা‌ড়ির হতদরিদ্র রন‌জিত চন্দ্র দা‌সের একমাত্র মে‌য়ে মিতু রানী দাস (১৯) এর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী ডালিম কুমারের প্রবাসে থাকার সুযোগে তার ছোট ভাই শ্যামল চন্দ্র দাস প্রতিনিয়ত মিতু রানী দাস কে যৌন হয়রানি করে আসছিলো। এ বিষয়ে মিতু রানী তার স্বামীকে একাধিকবার জানালেও কোন সুরাহা হয়নি।

এরই প্রেক্ষিতে গত ১০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৮ টার দিকে গৃহবধু মিতুকে তার শ্বশুরালয়ের লোকজন প্রথমে ফেনীর কনসেপ্ট হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে সেখান থেকে মিতুকে মৃত অবস্থায় আবার শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যায়। এদিকে মিতুর অসুস্থতার খবর পেয়ে মিতুর বাবার বাড়ির লোকজন মিতুর শ্বশুরালয়ে গিয়ে মিতুকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। এ সময় তারা মিতুর হাত-পা ও নাকে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়। পরে খরব পেয়ে দুগনভূঁইয়া থানা পুলিশ গিয়ে মিতুর লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় মিতুর মা রীনা রানী গত ১১ ডিসেম্বর মিতুর দেবর শ্যামল চন্দ্র দাস (প্রকাশ বাসু), শ্বাশুড়ী সিতা রানী দাস ও শ্বশুর কিশোর কুমার দাসের নামে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করে।

পরবর্তিতে দাগনভঁইয়া থানায় অভিযোগপত্রটি মামলায় রজু করা হয়। (মামলা নং-০৪, তারিখ- ১১/১২/১৯)

এ বিষয়ে দাগনভূঁইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম সিকদার জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগের পর লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পলাতক থাকায় এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের সর্বাত্নক চেষ্টা করে যাচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে