“মা” বোরহান উদ্দিন রব্বানী

0
165

মোঃ সাইফুল ইসলাম, (লক্ষ্মীপুর)

রাত দুপুরে ঘামে নেয়ে জেগে দেখি পাশে,
শরীর আমার জুড়ায় কারো হাত পাখার বাতাসে। ঘুমে ঢুলু, ক্লান্ত দেহ হয় না তাতে বাধ,
আমার পানে চেয়ে আছে মেটেনা তার স্বাদ।
গড়িয়ে পড়া ঘামের ফোটা আঁচল দিয়ে মুছে,
শুকনো কাঁথার স্বস্তি আমায় বিছিয়ে দিলো নিচে।

ঘুমের ঘোরে শীতের কাঁথা ছিঁটকে গেলে দূরে,
কে যেন তা উঠিয়ে, দিয়ে যায় শরীরে মুড়ে।
মশার কামড় যখন রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়,
চুপিসারে কে এসে মোর মশারীটা টাঙ্গায়।
আলতো চুমোর পরশ দিয়ে কপালে হাত রেখে,
সে এসে রাত বার কয়েকে যায় বিছানায় দেখে।

‘শুকিয়ে কেমন কাঠ হয়েছিস’ অভিযোগের তীর,
বাড়ি গেলেই কানের কাছে করে এ কথা ভীড়।
নাওয়া খাওয়ায় আমার নাকি অবহেলা ঢের,
দিনে দিনে ওজনে তাই কমছি কয়েক শের।
অভিযোগের তকমা দিয়ে খাবার যত ঘরে,
সুকৌশলে একটা একটা খাওয়ায় হাতে ধরে।

‘বাড়ি যাবো’-এমন খবর জানলে কোনো মতে,
আমার প্রিয় সকল খাবার হাজির হয় যে পাতে।
গাছে পাকা বাতাবি লেবু, কোণার গাছের আম,
জামরুল, ডাব, গাছের লিচু ধরা ফল তামাম।
সযত্নে লুকিয়ে রেখে আসার খবর দিয়ে,
সে যে শুধু চেয়েই থাকে আমার পথে চেয়ে।

এ যে আমার মা জননী জগত সেরা প্রাপ্তি,
তাকে ছাড়া জীবন আমার শূন্যতায় সমাপ্তি।
রোগে-শোকে-যন্ত্রণাতে,দুঃখ-সুখের প্রকাশে,
এ নামটি বেরিয়ে আসে অবলীলায় মুখ খসে।

প্রফেসর ভিলা
পৌরসভা ২নং ওয়ার্ড।
লক্ষ্মীপুর।

মতামত