মানুষকে জিম্মি করে মাস্ক, জীবানু ধ্বংসকারী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য-পণ্যের অধিক মূল্য আদায়কারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও ক্রেতাদের সংযমী হবার জন্য আহবান

0
270

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সব মানুষ আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তখন দেশে করোনা ভাইরাসের অজুহাতে শুধু মাস্কই নয়, লাগামহীন বেড়েছে ডেটল, স্যাভলন, হেক্সিসল, হ্যান্ডওয়াশ, সাবানসহ বিভিন্ন প্রকার জীবাণু ধ্বংসকারী (সেনিটাইজার) সহ খাদ্য-পণ্যের দাম। একই সাথে সরবরাহ কমে গেছে ডেটল, স্যাভলন, হ্যান্ড স্যানিটাইজারও। যে যেভাবে পারছে সেভাবেই বেশি দামে বিক্রি করছে এসব পণ্য। ওষুধ প্রশাসন থেকে এসব পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও তা মানছে না কেউ। এদিকে করোনার কারণে প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন খাদ্য পণ্যের দামেও। করোনার অজুহাতে খাদ্য পণ্য মজুতেও একশ্রেণীর ভোক্তারা তৎপর হলে চাল, ডাল, গুড়োদুধ, পেয়াজসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দাম দ্বিগুন করে দেন, একশ্রেণীর অসাধুব্যবসায়ী। দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের সংবাদে আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই সামনের দিনগুলোতে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার আশংকায় অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাল, ডাল, তেল পেঁয়াজ কিনে রাখছেন। এতে বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা গুঁড়াদুধের দাম বেড়েছে। এ অবস্থায় করোনা ভাইরাসকে পুঁজি করে মাস্ক, জীবানু ধ্বংসকারী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য-পণ্যের অধিক মূল্য আদায়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, ভোক্তা সংরক্ষন অধিদপ্তর, খাদ্য অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতি দাবি জানানো হয়। একই সাথে আতংকিত হয়ে অধিক পণ্য ক্রয় থেকে বিরত থাকার জন্য ভোক্তাদের প্রতি আহবান জানান।

২১ মার্চ নগরীর ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলার প্রতিনিধি সভায় বিভিন্ন বক্তাগন উপরোক্ত দাবি জানান। ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন। ক্যাব দক্ষিন জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক শাহনেওয়াজ আলী মির্জার সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশনেন বোয়ালখালী উপজেলা চেয়ারম্যান সমিতির সাবেক সভাপতি নুর মোহাম্মদ চেয়ারম্যান, শিক্ষাবিদ রফিক আহমদ, সমাজ কর্মী আলহাজ্ব নুরুল আলম, আবদুল মাজেদ ভাষানী, জামাল উদ্দীন চৌদুরী, সংগঠক চৌধুরী জসিমুল হক, ক্যাব পাচলাইশের যুগ্ন সম্পাদক সেলিম জাহাঙ্গীর, নুরুল আমিন চৌধুরী প্রমুখ।

সভায় বিভিন্ন বক্তাগন অভিযোগ করে বলেন বাজারে ওষুধের দোকানগুলোতে মাস্ক, হেক্সিসল, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ জীবাণুনাশক উপাদান কিনতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু চাহিদামাফিক পণ্য না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বাজারের দোকানিদেরও একই বক্তব্য‘সাপ্লাই কম’। সুযোগ পেয়ে বিদেশ থেকে আমদানি করা গুঁড়াদুধের দামও বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে গুঁড়াদুধ আমদানি করা যাচ্ছে না।

বক্তাগন চট্টগ্রামে মাস্ক, সেনিটাইজার ও চাল, পেয়াজসহ খাদ্য-পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সাথে জড়িত অসাধুব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে কঠিন ও দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা করা, বিজিএমইএ এর সাথে যোগাযোগ করে স্থানীয় উৎপাদান বাড়ানো, ওষুধ প্রশাসন, ভোক্তা অধিদপ্তর, ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সাথে মতবিনিময় করে স্যানিটাইজার সরবরাহ নিশ্চিত করা, চাল, ডাল, গুড়া দুধ সরবরাহ নিশ্চিতে বাজার তদারকি জোরদার করার দাবি জানান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে