মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে : বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ

0
430

মানুষের কল্যাণের জন্যই সমাজ, রাষ্ট্র, আইন ও বিচার ব্যবস্থার সৃষ্টি। আইন ও বিচার ব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে মানবাধিকার বাস্তবায়ন বলে মন্তব্য করে বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়জী বলেছেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে।

রবিবার ( ১ মার্চ) রাজধানীর পুরানাপল্টনের একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কেক কাটা ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মানবাধিকার বিশ্বজনীন। এই মানবাধিকার অর্থ মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারগুলোসহ মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের জন্য স্বীকৃত বিভিন্ন অধিকার। আমাদের দেশের অনেকেরই মানবাধিকারের ধারণা দুর্বল। এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।

জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা’র সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুরুল হক সিকদার, সাবেক ছাত্রনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল করিম, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, এইচ.আর.এইচ.এফ চেয়ারম্যান ডা. এস এম শাহজাহান, অনন্যা সোসাল ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান মো. মুজবুর রহমান খোকন, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক আর কে রিপন, সংগঠনের কুমিল্লা জেলার আহ্বায়ক পারভেজ হোসেন বাবু, ঢাকা মহানগর নেত্রী আয়শা সিদ্দিকা প্রমুখ।

ভাষা সৈনিক মঞ্জুরুল হক সিকদার বলেন, নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ শিক্ষার সঙ্গে সুশাসন তথা মানবাধিকারের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। দীর্ঘদিনের আচার-আচরণ, বিশ্বাস এবং দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে গড়ে ওঠে মূল্যবোধ। যা জীবন ধারণের অংশ এবং দীর্ঘদিনের অনুশীলনের প্রক্রিয়ায় সঠিক উচিত ও নৈতিক দিয়ে যথার্থ মূল্যবোধই সমাজে প্রতিষ্ঠা পায়।

মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল করিম বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকারের সামষ্টিক রূপ হলো মানবাধিকার। প্রতিটি মানুষেরই রয়েছে বেঁচে থাকার অধিকার, বস্ত্র এবং বাসস্থানের অধিকার, শিক্ষা ও চিকিৎসা লাভের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা লাভের অধিকার, ন্যায়বিচার প্রাপ্তির অধিকার, নাগরিক সুবিধাপ্রাপ্তির অধিকার, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রাষ্ট্র সমাজকে শাসন করার অধিকার প্রভৃতি।

ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রই পারে মানবাধিকারকে নিশ্চিত করতে। অপরদিকে মানবাধিকারের প্রতিষ্ঠা ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাও অসম্ভব। এক কথায় মানবাধিকার এবং গণতন্ত্র একে অপরের পরিপূরক। একটি ছাড়া অপরটির অস্তিত্ব¡ নিশ্চিত করা যেতে পারে না।

সভাপতির বক্তব্যে মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, ‘দুর্নীতি-মাদক-সন্ত্রাসকে না বলি : মানবিক স্বদেশ গড়ি’ শ্লোগানকে সামনে রেখে ১ মার্চ ২০২০ বুধবার পালিত হচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার সমিতি’র ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। আমরা এই শ্লোগানকে সামাজিরভাবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষে কাজ করে যাবো।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে