মাদারীপুরে আলোচনায় কাদের মির্জার ছেলে তাশিক মির্জা

0
236

মাদারীপুর, ৩০ মার্চ – মাদারীপুরের সর্বত্র মুখে মুখে গত ৩ দিন ধরে আলোচনায় নোয়াখালীর বসুরহাট পৌর মেয়র কাদের মির্জার ছেলে তাশিক মির্জা।

তিনি প্রাইভেট কারে ‘সংসদ সদস্য’ লেখা মেটাল ডিস্ক লাগিয়ে মাদারীপুরের একটি ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারনায় নেমে এই আলোচনার জন্ম দেন। এজন্য সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে জরিমানাও দিতে হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাশিক মির্জা মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার নিখলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ওয়াসিম মাদবরের পক্ষে এই প্রাইভেট কার নিয়ে প্রচার চালাচ্ছিলেন। বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে নজরে এলে শনিবার (২৭ মার্চ) রাতে ওই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান।

স্থানীয় ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, শনিবার বিকেলে কিছু বহিরাগত লোক সংসদ সদস্য লেখা মেটাল ডিস্ক লাগানো একটি প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো-খ ১৩-১৭৫৬) নিয়ে নিলখী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ওয়াসিম মাদবরের বাড়িতে এসে অবস্থান করেন। তারা ওই প্রার্থীর পক্ষে প্রাইভেটকারটি নিয়ে ঘুরে কলাতলা, নিলখীবন্দর, বাগমারাসহ নির্বাচনী এলাকা ভোটারদের কাছে ভোট চান। প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা বিষয়টি প্রশাসনের কাছে জানান। নির্বাচন চলাকালীন আচরণ বিধি লঙ্ঘন হওয়ায় শিবচর থানা পুলিশ ওই প্রাইভেট কারসহ চেয়ারম্যান ও বহিরাগতদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নিয়ে আসেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

আরও পড়ুন : প্রাণী থেকেই মানুষের শরীরে করোনার প্রবেশ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

শিবচর থানার উপ-পরিদর্শক বরুণ হিরা জানান, ‘দুটি প্রাইভেট কার ছিল। একটিতে সংসদ সদস্য লেখা মেটাল ডিস্ক লাগানো কার। সেই কারে তাশিক মির্জা নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জার ছেলে বলে নিজেকে পরিচয় দেন। জরিমানা দেওয়ার পরে ওই প্রাইভেট কার দুটি ছেড়ে দেওয়া হয়।’

জানতে চাইলে ওই চেয়ারম্যান প্রার্থী ওয়াসিম মাদবর বলেন, ‘সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো গাড়িতে বসুরহাটের পৌর মেয়র কাদের মির্জার ছেলে তাশিক মির্জা। সে আমার ভাগ্নে রাইসুল ইসলাম অনিকের বন্ধু। সে শিবচরে এসেছিল, আমার ভাগ্নের বন্ধু হওয়ায় সেই সুবাদে রাতে আমার নির্বাচনী এলাকা নিলখীতে এসেছিল। এর চেয়ে বেশি কিছু না।’

তাশিক মির্জা আমার নির্বাচনে কোন প্রচারণা চালাননি বলে তিনি দাবি করেন তিনি।

জরিমানার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জরিমানার ১০ হাজার টাকা আমি প্রদান করিনি। ওই টাকা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে কে পরিশোধ করেছে সেটা আমি জানি না।’

ওই ইউনিয়নে আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুণ-অর রশীদ বলেন, ‘ওয়াসিম মাদবর বর্তমান নিখলী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান। তাই তার দাপট বেশি। নির্বাচনী আচরণ বিধি তিনি কিছুই মানে না। প্রার্থী ওয়াসিমের ভাগ্নে রাইসুল ইসলাম এলাকায় প্রভাব খাটাতে সংসদ সদস্যের ব্যবহৃত গাড়িতে তাশিক মির্জাকে নিয়ে আসে।’

এ ব্যাপারে শিবচর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিরাজ হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ দুটি প্রাইভেট কার শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে নিয়ে আসে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার যাচাই-বাছাই করে ওই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে অর্থদণ্ড করেন। আটককৃত প্রাইভেট কারে কারা ছিল এ বিষয় আমরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।’

জানতে চাইলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রাইভেট কার নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করলে আচরণ বিধি লঙ্ঘন হবে। কিন্তু এক চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ম না মেনে দুটি প্রাইভেট কার নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করছিলেন। আচরণ বিধি লঙ্ঘন করায় ওই প্রার্থীকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করে সর্তক করা হয়েছে।’

সূত্র : রাইজিং বিডি
এন এ/ ৩০ মার্চ

Source link