মাঠে মাঠে দুলছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন

0
102

নয়ন বাবু, নওগাঁ : নওগাঁর উত্তর-পশ্চিমে ভারতের সীমান্ত ঘেষা উপজেলা পত্নীতলা, অতি প্রচীন কাল থেকেই ধান উৎপাদনের সুনাম রয়েছে এ উপজেলার। কৃষি প্রধান এ উপজেলার ধান চাষাবাদ প্রধান ফসল। সারা দেশে বন্যার কবলে ফসল নষ্ট হলেও এ উপজেলা ছিল সুরক্ষিত তবে টানা বর্ষনে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কিছুটা ক্ষতি হলেও দমিয়ে রাখতে পারেনি এখানকার অদম্য কৃষকদের।

শষ্যখ্যাত পত্নীতলা উপজেলার ফসলের মাঠগুলো যেন এখন সবুজের সমারোহ। যতদুর চোখ যায় সবুজ আর সবুজ দৃশ্য চোখ জুড়ানো মনোরম দৃশ্য। আর মৃদু মন্দ বাতাসে মাঠে মাঠে দুলছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন আমণ ধানের শীষ। আবার কোন কোন জমিতে পাকতে ধরেছে তাদের বুনানো স্বপ্ন। যত দিন অতিবাহিত হচ্ছে ততোই কৃষকের হৃদয়ে সঞ্চারিত হচ্ছে ভিন্ন আমেজ।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা আমণ আবাদে সুফল পাবেন। ভালো ফলনের পাশাপাশি এবার আমণ ধানের ন্যায্য মূল্য পাবে বলে কৃষকরা আশায় বুক বাঁধছে। করোনা ভয় কে উপেক্ষা করে তারা মাঠে আমণ রোপণে ব্যস্ত ছিল। দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের দুশ্চিন্তার মাঝেও কর্মবীর কৃষকরা বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা মেটাতে দিন-রাত সমানতালে পরিশ্রম করে আসছেন। জমি থেকে এক মুহূর্তের জন্য বসে থাকার ফুরসত নেই তাদের। রোপা আমণের আগাছা ও পোকামাকড় দমন, সেচ ও বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানা যায়, চলতি রোপা আমণ মৌসুমে ১ টি পৌরসভা ও ১১ টি ইউনিয়নে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৮ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে। অর্জিত হয়েছে ২৮ হাজার ৬০৫ হেক্টর। উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৩.৬ মেট্রিকটন, হেক্টর।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে দ্রুতগতিতে বেড়ে যাচ্ছে আমণ ধানের চেহারা। মাঠে মাঠে হাওয়ায় দুলছে ধানের থোড়। আর আনন্দে দুলছে কৃষকদের মন। আর ২০/২৫ দিনের মধ্যেই ধান কাটা মাড়াই শুরু হবে। তবে আগাম জাতের ধান যেমন ব্রিধান ৫৭,৬২,৭১,৭৫ কাটা শুরু হয়েছে কৃষকরা মনে করছেন, মাঝেমধ্যে নানামুখী সমস্যায় কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়ে এটি সত্য। এবার সাথে যোগ হয়েছে করোনায় চলমান সারাদেশে অঘোষিত লকডাউন। তারপরেও তারা আশাবাদী।

বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। সময়মতো শ্রমিক না পেলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। দক্ষিণের জেলাগুলো থেকে ধানকাটা শ্রমিক না আসলে পড়তে হবে বিপাকে। ধান ঘরে তুলে নেয়ার আগ পর্যন্ত যাতে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় সেই প্রত্যাশা করছেন কৃষকরা। তারা জানিয়েছেন সবকিছু ঠিক থাকলে এ বছর পত্নীতলা উপজেলায় আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কষ্টার্জিত ফসলের যাতে নায্য দাম পান সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবী জানিয়েছেন তারা।

উপজেলার নাদৌড় গ্রামের কৃষক মোতাহার হোসেন সহ কয়েকজন কৃষক জানান, এবার প্রতিটি মাঠে পতিত জমি সহ প্রায় সব জমিতে আমণ আবাদ করা হয়েছে। এখন সবুজ থেকে সোনালী রং ধারণ করছে ফসলের মাঠ। ভালো ফলন হবে বলে আমরা আশা করছি। বাবনাবাজ গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন ৩ বিঘা জমিতে স্বর্না ৫ জাতের ধান চাষ করেছেন, ধানের গাছ খুব ভাল হয়েছে, বিগত ৫ বছরে এত সুন্দর ধান হয়নি তার, ফলনও ভাল হবে আশা করছেন তবে কারেন্ট পোকার উপদ্রব ছিল প্রচুর এর মধ্যে ৫ বার বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে আরও ২ বার বিষ দিতে হবে। এ জন্য অন্যবছরের তুলনায় একটু খরচ বেশী হয়েছে।

পত্নীতলা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ প্রকাশ চন্দ্র সরকার জানান,করোনাভাইরাসে সৃষ্ট পরিস্থিতিতেও আমি এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছি। নিয়মিত উঠান বৈঠক সহ কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অধিক ফলনের জন্য পরিমিত সার ব্যবহার, কীটনাশক, পানি সাশ্রয়, পোকামাকড় দমনে আলোকফাঁদ পদ্ধতী এবং সার্বিক পরিচর্যায় কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করেছি। এর ফলে কৃষকরা সঠিক সময়ে সার ও কীটনাশক তাদের ফসলি জমিতে প্রয়োগ করতে পেরেছে। আশা করা যাচ্ছে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অন্য বছরের চেয়ে এ বছর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।