মশা নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার

ব্যাকটেরিয়ার ব্যবহার : গুয়াংজু উপকূলে একটি ‘মশার কারখানা’ চালু করা হয়। এ কারখানা থেকে প্রায় ১০ লাখ বন্ধ্যা পুরুষ মশা শহরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ড্রোনের সহায়তা নিয়ে ডেঙ্গুপ্রবণ এলকায় এ পালিত মশা ছেড়ে দেওয়া হয়। ‘উলবেচিয়া’ নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে পুরুষ মশাকে বন্ধ্যা করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব বিশেষ মশার সঙ্গে মিলিত হয়ে নারী মশা যে ডিম দেয়, তা কখনো ফোটে না; যা এসব এলাকায় মশা উৎপাদন হ্রাসে সহায়তা করে। এভাবেই মশা নিয়ন্ত্রণে মশা ব্যবহার করা হচ্ছে চীনে। এ গবেষণাগারে সপ্তাহে এক কোটি মশা উৎপাদন করা যায়।

মশার জিন এডিটিং : জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মশা রোধে একটি বিশেষ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। ম্যালেরিয়া প্যারাসাইট রোধে তারা সিআরআইএসপিআর জিন এডিটিং পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন। সিআরআইএসপিআর বা ক্যাশ৯ জিন এডিটিং পদ্ধতিতে মশার ম্যালেরিয়ার জিন সরিয়ে ফেলা হয়। এরই মধ্যে এ পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছেন তারা। এতে তারা দেখেছেন, মশার শরীরে ম্যালেরিয়া প্যারাসাইট মানুষের জন্য ক্ষতিকর পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে তা নষ্ট হয়ে যায়।

!-- Composite Start -->
Loading...

advertisement
ফেন্সফোটোনিক : এটি মূলত লেজারের বিশেষ জাল। মশার পাখার আওয়াজ শুনে স্বল্পশক্তির লেজারের মাধ্যমে তা মেরে ফেলা বা পুরোপুরি অকার্যকর করে ফেলতে সক্ষম এ পদ্ধতি। ঘরবাড়ি, প্রতিষ্ঠান বা কোনো কার্যালয়ে এ যন্ত্র স্থাপন করে মশা শনাক্ত করামাত্রই তা চালু করলে ৯৯ শতাংশ মশা মারা সম্ভব।

মশা শনাক্তের অ্যাপ : মেশিন লার্নিং পদ্ধতি অ্যাকুয়াস্টিক শব্দ ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রজাতির মশা শনাক্ত করতে পারে এমন একটি অ্যাপ তৈরি করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। এ অ্যাপের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে অ্যানোফিলিস প্রজাতির মশা শনাক্ত করা যায়। এ প্রজাতির মশা ম্যালেরিয়া ছড়াতে পারে। গবেষকরা দাবি করেন, অ্যাপের মাধ্যমে অ্যানোফিলিস মশা শনাক্তের সফলতার হার ৭২ শতাংশ।

advertisement
রিস্ট ব্যান্ড : মশা থেকে মারাত্মক ভাইরাস ছড়ালেও ক্ষুদ্র এ প্রাণীটি বড় ঝড়ের পূর্বাভাস বুঝতে পারে। তখন তারা দূরে সরে যায়। ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সংকেত দিয়ে মশার মস্তিষ্কে ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব। এতে মশার কামড় থেকে সাময়িক মুক্তি পাওয়া যায়। এ রকম ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সংকেত দিতে সক্ষম রিস্ট ব্যান্ড তৈরি করেছে নোপিক্সগো নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের তৈরি ডিভাইসে দুর্বল তরঙ্গ তৈরি হয়, যা মশাকে ঝড়ের সংকেত দেয়। এতে মশা দূরে চলে যায়।

কিলার মশা : যখন কোনো উদ্যোগে ঠিকমতো কাজ হয় না, তখন জেনেটিক পদ্ধতিতে বিশেষ প্রকৌশলে তৈরি কিলার মশা মাঠে নামানো যায়। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানটাকিভিত্তিক বায়োটেক কোম্পানি ‘মসকিউটোমেট’ এ ধরনের কিলার মশা উৎপাদন করেছে। তাদের প্রকল্পে পুরুষ মশাকে মশা মারার কীটনাশকবাহী হিসেবে তৈরি করা হয়। এসব মশা যখন নারী মশার সঙ্গে মিলিত হয়, তখন মশার ডিম ফোটে না।

মতামত দিন

Post Author: bdnewstimes