মলদ্বারের জটিল রোগ এনাল ফিসার

0
369

এনাল ফিসার মলদ্বারের রোগ। এতে মলদ্বারের নিচের অংশ ফেটে গিয়ে তীব্র ব্যথার সৃষ্টি হয়। ব্যথার কারণে রোগী মলত্যাগে ভয় পায়। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। পরবর্তীকালে শক্ত মলত্যাগের কারণে মলদ্বার আরও বেশি ছিঁড়ে যায়। এইভাবে একটি চক্রের সৃষ্টি হয়। এনাল ফিসারে রোগী মলত্যাগের সময় বা মলত্যাগের পর কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত (কারো কারো সারাদিন) ব্যথা থাকে। এমনকি বসতে গেলে ব্যথার কারণে একদিকে কাত হয়ে বসতে হয়। ফোঁটায় ফোঁটায় রক্ত বের হতে পারে। অনেকের এনাল ফিসার থেকে ফিস্টুলায় ভোগে। তাদের এ ব্যথার সঙ্গে মলদ্বার ভিজে থাকে বা চুলকায়।

এনাল ফিসারের বাংলা হলো গেজ। তাই এনাল ফিসার ও পাইলস দুটি ভিন্ন রোগ। এনাল ফিসারের অনেক রকম চিকিৎসা রয়েছে। চর্বিযুক্ত মাংস কম খেলে, শাকসবজি, ফলমূল বেশি খেলে এবং বেশি পানি পান করলে মল নরম থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের মাধ্যমে ৪-৬ সপ্তাহের মধ্যে রোগটি সম্পূর্ণ দূর হয়। একে বলে অপঁঃব এনাল ফিসার। যখন দীর্ঘমেয়াদি এনাল ফিসারে পরিণত হয়, তখন মলদ্বারে আঘাত পেয়ে চামড়া বেড়ে যায়। একে বলে ক্রনিক এনাল ফিসার। দীর্ঘমেয়াদি এনাল ফিসারে খানাখাদ্যে অভ্যাস পরিবর্তন জরুরি। ব্যথা ও নাইট্রোগ্লিসারিন মলম দিতে হয়। এতেও নিরাময় না হলে অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি এনাল ফিসারে মলদ্বার চেপে সরু হয়ে যায়, ঘা গভীর হয় বা চামড়া বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে অপারেশন ছাড়া রোগ নিরাময় সম্ভব হয় না।

অপারেশনের অনেকগুলো পদ্ধতি আছে। যেমনÑ খধঃবৎধষ ওহঃবৎহধষ ঝঢ়যরহপঃবৎড়ঃড়সু. এতে মলদ্বারের অন্তর্দ্বার কেটে দেওয়া হয়। লেজার চিকিৎসার মাধ্যমে সামান্য ছিদ্র করে অন্তর্দ্বার কেটে দেওয়া হয়। কিন্তু বাইরে কোনো কাটাছেঁড়া পড়ে না। ঘায়ের ওপর লেজার প্রয়োগ করলে ওপরের আবরণটি নতুন করে গজিয়ে ঘা সারাতে সহায়তা করে। অর্থাৎ কোনো ধরনের কাটাকাটি ছাড়াই রোগীর এনাল ফিসার অপারেশন সম্ভব। লেজারে কাটাছেঁড়া না থাকায় সাধারণত রক্তক্ষরণ হয় না। ব্যথাও কম করে। এ ছাড়া ওহপড়হঃরহবহপব (মলদ্বারের বাতাস বা পানি ধরে রাখার ক্ষমতা) সাধারণত হয় না।

আমাদের দেশে এনাল ফিসার চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে আছে কবিরাজি চিকিৎসা। যেহেতু এনাল ফিসার পাইলস মনে করে তারা, তাই মলদ্বারে ইনজেকশন বা গাছের পাতা লাগিয়ে দেয়। ফলে জায়গাটি পুড়ে গিয়ে তীব্র ব্যথা ও ঘায়ের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে মলদ্বার স্থায়ীভাবে চেপে গিয়ে সরু হয়ে যায়। তাই রোগীদের মনে রাখতে হবে, ভুলেও এমন অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা নেবেন না। এ ছাড়া অতিরিক্ত ভীতি মারাত্মক সমস্যা। যারা ভয় পান, তাদের জন্য লেজার হতে পারে আকর্ষণীয় একটি পদ্ধতি।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা

চেম্বার : লেজার কলোরেক্টাল সেন্টার, রূপায়ণ প্রাইম টাওয়ার, গ্রিন রোড, ধানম-ি, ঢাকা

০১৭২১০৩৬৬৪৪

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে