আন্তর্জাতিক ভয়ংকর প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত সাধনা!

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ ভিডিও ভাইরালের পর অফিস সরকারী নারীর সাথে কি আপনার যোগাযোগ হয়েছে? এমন এক প্রশ্নে আহমেদ কবির বলেন, হ্যাঁ, আমার সাথে ওনার পরিবার ও ওনার কথা হয়েছে।

তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তিনিও এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চায়। জেলা প্রশাসকের বাহিরে আপনি একটি পরিবারের অবিভাবক। এই ঘটনার পর আপনার পরিবারে কি কোন ধরণের আঘাত পড়েছে?

!-- Composite Start -->
Loading...

না, আমার পরিবারে কোন ধরণের আঘাত পড়েনি। আমার পরিবারকে বুঝিয়েছি বিষয়টি। প্রশাসনিক ভাবে কি আপনার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছ? এই ঘটনার কি তদন্ত হবে?

আমার সাথে বিভিন্ন উপর মহল থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। জানতে চেয়েছেন। আমি সঠিকটি বলেছি। এরপর কোন ধরণের তদন্ত হবে কিনা আমি বলতে পারছি না।

তিনি জানান, ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারীরা গত ১২দিন ধরে আমার কাছে প্রথমে ৫০০ ডলার এরপর বাংলা টাকা ১ লাখ দাবি করে। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করি। এরপর ভিডিওটি প্রকাশ করে দেওয়া হয়।

যে ভিডিওটি প্রকাশ হয়েছে সেটা কি জেলা প্রশাসকের আওতাধীন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না, এটা আমাদের আওতাধীন না। সেখানে কি করে সিসি ক্যামেরা আসলো আমি বলতে পারবো না। আমার অফিসের কেউ ষড়যন্ত্র করেছে আমার বিরুদ্ধে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত চাচ্ছি।

জামালপুরের জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) রাজীব কুমার সরকার বলেন, এই ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন মহল থেকে আমারা যারা চাকরিতে কর্মরত রয়েছি তাদের কাছে ফোন আসছে, জানতে চাওয়া হচ্ছে। যেটা আমাদের জন্য লজ্জাকর। আমরা বিব্রতকর পরিস্থিতি পড়েছি। এমন ঘটনা আমাদের জন্য কাম্য ছিল না।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে ডিসির সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে আগামী রোববার থেকে নতুন করে পাঁচদিনের ছুটির আবেদন করেন তিনি।

অবশ্য বেশি দিনের ছুটি পাওয়ার জন্য সাধনা এর আগে ঘটিয়েছেন অন্য এক কান্ড। তলপেটের ব্যথার কথা বলে চিকিৎসকের কাছ থেকে মেডিকেল সনদ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

এতে তিনি চিকিৎসকের ওপর ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়েছেন। রাগে-ক্ষোভে চিকিৎসককে দেয়া ৫শ’ টাকা ফিস ফেরত নিয়েছেন তিনি। বেশ কয়েকদিন ধরেই দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছেন জামালপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ভাইরাল হওয়া সাধনা।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের ওই চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করা শর্তে তিনি জানান, গত বুধবার (২৮ আগস্ট) তলপেটে ব্যথার সমস্যা নিয়ে তার কাছে যান সাধনা।

এই অসুস্থতার জন্য তিনি ১৫ দিন তাকে রেস্টে থাকতে হবে এই মর্মে একটি মেডিকেল সার্টিফিকেট দাবি করেন। চিকিৎসক এ সময় তাকে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন, তার পেটে ব্যথা হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।

যেকারণে তিনি সাধনাকে ওই সার্টিফিকেট দেননি। এ জন্য তার ওপর বেশ ক্ষিপ্ত হন সাধনা। পরে সার্টিফিকেট না পেয়ে চিকিৎসককে দেয়া ভিজিটের ৫শ’ টাকা ফেরত নেন তিনি।

অপরদিকে আহমেদ কবীরের যৌ’ন কেলেঙ্কারির খবর জানাজানির পর থেকেই জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহায়ক (পিয়ন) সানজিদা ইয়াসমিন সাধনাকে নিয়ে কথা বলতে ডিসি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাহসী হতে শুরু করেছেন।

ডিসি ও সাধনার ভাইরাল হওয়া ভিডিও যারা দেখছেন তারা বলছেন, সাধনা নিজেই ওয়েভ ক্যামেরা স্থাপন করে ডিসিকে ফাঁসিয়েছেন।

যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে বলে বলা হচ্ছে, সেই ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় হিজাব পরা নারীটি বার বার দেয়ালের দিকে তাকিয়ে দেখছে ক্যামেরা ঠিকঠাক মতো চলছে কিনা। সাধনার সঙ্গে ডিসি অফিসের কতিপয় কর্মচারীও এ কাজে জড়িত বলা তারা বলছেন।

সাধনা যে একটা সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত তার বড় প্রমাণ হিসেবে, সে ডিভিওটি প্রথমে সাংবাদিকদের ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। বিদেশি পপুলার পর্ণ সাইটে আপলোড করা হয়। এ কাজটা তার একার পক্ষে করা সম্ভব হয়নি।

এর সঙ্গে ক্রাইম জগতের লোকদের হাত রয়েছে অনেকে ধারণা করছে। বিটিআরসি পর্ণ সাইট লক করে দেওয়ায় এটি বাংলাদেশ থেকে দেখা যায় না। তখনই এই ভিডিওটি একটি ফেক আইডিতে আপলোড করা হয়।

তার আগে ডিসির কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলে গুঞ্জন রয়েছে। কিন্তু তাতে সাড়া দেননি ডিসি। সঠিক তদন্ত করলেই বিষয়টি বেরিয়ে আসবে বলে বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে।

প্রশাসন ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্টিং আইনোনুযায়ী সাধনার ভিজিটিং কার্ডের মোবাইল নং গোপন রাখা হয়।

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.