ভোট এলেই প্রার্থী হওয়া যার নেশা!

0
500

ফেনী, ২৪ জানুয়ারি – ভোট এলেই প্রার্থী হয়ে যান তিনি, গত অর্ধ যুগেরও বেশি সময়ে সংসদ নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন ও পৌর নির্বাচনসহ সব নির্বাচনেই ছিলেন প্রার্থী। যতবারই ভোটে দাঁড়িয়েছেন একবারও টিকেনি জামানত।

এমনি কোনো বারই দুই সংখ্যা অতিক্রম করতে পারেননি ভোটের হিসেবে। নির্বাচন এলেই কিসের নেশায় কেমন করে যেন তিনি প্রার্থী হয়ে যান।

ভোট পাগল এ মানুষটি হলেন ফেনী পৌরসভার বারাহীপুর এলাকার বাসিন্দা তারিকুল ইসলাম মজুমদার, পেশায় ব্যবসায়ী, তারেক ফিজিওথেরাপি নামের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার। তৃতীয় ধাপের অনুষ্ঠেয় ফেনী পৌরসভা নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) এর মনোনয়নে সিংহ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন তিনি।

সাধারণ ভোটাররা ভোট পাগল এ মানুষটিকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করে বিনোদন নিলেও ভোটের ব্যাপারে ভীষণ সিরিয়াস তারিকুল। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনিও মাঠে চালাচ্ছেন প্রচারণা, করছেন গণসংযোগ। তার ভোটের প্রচারণা করতে ফেনী আসছেন সামাজিক মাধ্যম থেকে পরিচিতি পাওয়া আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম।

তারিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে জনগণের ভোট না পেলেও দুঃখ নেই তার, তবে দুঃখের বিষয় হলো- যতবারই তিনি প্রার্থী হয়েছেন নিজের ভোটটাই তিনি নিজেকে দিতে পারেননি।

আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে নির্বাচনের পরিবেশ আমেরিকার চেয়েও ভালো

তিনি জানান, সর্ব প্রথম ২০১৪ সালে ফেনী সদর উপজেলা নির্বাচনে কল্যাণ পার্টি থেকে জাহাজ প্রতীক নিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলেন। এরপর থেকে প্রতিবারই তিনি প্রার্থী হয়েছেন।

২০১৬ সালে ফেনী পৌরসভা নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র কিনেছিলেন তারিকুল। তবে শেষ পর্যন্ত তা জমা পড়েনি।

তারিকুল বলেন, অব্যাহত হুমকি-ধামকি আর অশুভ শক্তির কারণে সেবার মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারিনি।

২০১৮ সালে তারিকুল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসনে এনডিএম থেকে হারিকেন প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থী হয়েছিলেন। সেবার সাকুল্যে ভোট পেয়েছিলেন মাত্র ছয়টি। তবুও তিনি থেমে থাকেননি। আগামী ৩০ জানুয়ারির অনুষ্ঠেয় ফেনী পৌরসভা নির্বাচনে আবার মেয়র প্রার্থী হলেন।

বার বার প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে কথা হয় তারিকুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এভাবে প্রার্থী হয়েই একদিন লেগে যাবে- সফলতা আসবেই। ’

আরও পড়ুন : কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে ৫ জনের বেশি নয় : ঢাবি কর্তৃপক্ষ

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের হারানো সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চাই। প্রজন্ম জানতে হবে এদেশে একদিন গণতন্ত্র ছিল, ভোটের রাজনীতি ছিল। কোনো দিন যদি নির্বাচিত হই- তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করবো সবার আগে।

জেলার পরশুরাম উপজেলার ভারতীয় সীমান্ত ঘেষা বিলোনীয়া এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে তারিকুল ইসলাম ছোট থেকেই বসবাস করেন ফেনী পৌর এলাকার বারাহীপুর গ্রামে। উপজেলার মেজর সালাহ উদ্দিন স্কুলে পড়ালেখা করলেও এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

সূত্র: বাংলানিউজ
এন এ/ ২৪ জানুয়ারি

Source link