ভোটাধিকার প্রয়োগে গ্রামে ছুটছে মানুষ ঢাকা ফাঁকা

একদিন পরই একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটযুদ্ধ। তাই নিজের রায় জানাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী কর্মজীবীরা এখন বাড়িমুখো। ভোট উৎসবে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি যোগ হয়েছে প্রিয়জনদের সঙ্গে শীতের পিঠা-পুলি ভাগাভাগি করে খাওয়ার আনন্দও।

৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ওইদিন দেশে সাধারণ ছুটি। তাই বন্ধ থাকবে সরকারি অফিস ও আদালতপাড়া। এর আগে ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। এ সময় বন্ধ থাকবে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও। আবার ভোটের পরদিন ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংক হলিডে। এ হিসাবে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ, সাপ্তাহিক ছুটি ও ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে ২৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা চারদিন দেশের কোনো ব্যাংকেই লেনদেন হবে না।

!-- Composite Start -->
Loading...

এ দিকে গত ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন উপলক্ষে ছিল সরকারি ছুটি। এ সুযোগে অনেকেই ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। ফলে তারা ছুটি ভোগ করছেন মোট সাতদিন। আবার ভোট সামনে রেখে রাজধানীতে বসবাস করা সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে গতকাল বৃহস্পতিবার ছুটি নিয়ে, কেউ কেউ অফিসে হাজিরা দিয়ে দুপুরেই সপরিবার ঢাকা ছেড়েছেন।

ভোটগ্রহণ উপলক্ষে ইসির পক্ষ থেকে যানবাহন চলাচলে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় তাতে বলা হয়েছে শনিবার মধ্যরাত থেকে রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। এ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে বেবি ট্যাক্সি, অটোরিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন যন্ত্রচালিত যানবাহন।

অন্যদিকে রাজধানীর ব্যাচেলরদের গতকাল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বাসা ছাড়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাসায় ফিরা যাবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ঝুট-ঝামেলা এড়াতে বাস-ট্রেন-লঞ্চ ছাড়াও ভাড়া করা গাড়িতে করে গতকাল যে যেভাবে পেরেছেন আগেভাগেই ঢাকা ছাড়েন। এতে করে রাজধানীর অনেক এলাকাই এখন ফাঁকা। একযোগে সবাই গ্রামমুখো হওয়ায় গতকাল সকাল থেকেই গাবতলী-মহাখালী-সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেল স্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চঘাটে ছিল ঢাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষের উপচেপড়া ভিড়। ব্যাচেলরদের বাসা ছাড়ার নির্দেশনার বিষয়ে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতেই এ বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে।’ তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি (গণমাধ্যম) মাসুদুর রহমান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেননি।

গতকাল বিকাল ৩টার দিকে শনিরআখড়া ফুটওভার ব্রিজের নিচে কুমিল্লাগামী বাসের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন যাত্রাবাড়ীর গোবিন্দপুর এলাকার একটি মেসের ভাড়াটিয়া বিল্লাল হোসেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিল্লাল বলেন, ‘পুলিশের বরাত দিয়ে বাড়িওয়ালা বলেছেন ভোটের নিরাপত্তার কারণে আগামী চারদিন ব্যাচেলরদের ঢাকায় থাকা যাবে না। তাই ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে আগেই ঢাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছি। কিন্তু একঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো বাস পাচ্ছি না।’

মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় ব্যাংকার সাইফুল বাসারের সঙ্গে। তার গ্রামের বাড়ি শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে। লাগেজ নিয়ে তিনি প্লাটফর্মে দাঁড়িয়েছিলেন শেরপুরগামী বাসের জন্য। বললেন, ‘চারদিনের ছুটি। আবার গাড়ি চলাচলের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তাই ঝামেলা এড়াতে আগেভাগেই গ্রামে চলে যাচ্ছি।’ সঙ্গে থাকা স্ত্রী নানজিবা বাসার একগাল হেসে বলেন, ‘ভোট দেওয়া ছাড়াও মা-বাবা ভাই-বোনদের সঙ্গে শীতের পিঠা-পুলি ভাগাভাগি করে খাওয়ার যে সুযোগ পেয়েছি তা হাতছাড়া করতে চাচ্ছি না। এখন ভালোয় ভালোয় বাড়িতে পৌঁছার জন্য দোয়া করবেন।’

গতকাল বেলা ১১টার দিকে গাবতলীতে হানিফ পরিবহনের কর্মকর্তা বাবু বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীদের বাড়তি চাপ। বাড়তি ছুটি আর নির্বাচন উপলক্ষেই মূলত এমন অবস্থা।’

মতামত দিন

Post Author: bdnewstimes