ভালোবাসার আসল নায়ক কে ?

0
860

ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি – নাটক নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই। আবার একই মুখ দেখতে দেখতে বিরক্ত দর্শক এমন কথাও শুনতে হয় অভিনয়শিল্পীদের। বিশেষ করে আফরান নিশো, অপূর্বদের এমন কথার মুখোমুখি বেশি হতে হয়। কিন্তু কেউ যদি নাটক নিয়মিত দেখে তাহলে তাদের মুখে এমন কথা আসার কথা নয়। ইদানীং আমি নিজেও নাটকের নিয়মিত দর্শক। বিশেষ করে বিশেষ দিবসের নাটকগুলো দেখার চেষ্টা করি। সেই চেষ্টা থেকেই এবারের ভালোবাসা দিবসেও বেশকিছু নাটক দেখেছি। গত বুধবার রাতে নিশো অভিনীত ‘মাজনু’ নাটকটি আমাকে মুগ্ধ করেছে। এ নাটক দেখার পর থেকেই মনে হচ্ছিল কিছু একটা লেখা দরকার। মনে খুচখুচানি শুরু হয় তারপর থেকেই। এ নাটকের পরিচালক ভিকি জাহেদ মুন্সিয়ানার পরিচয় দেখিয়েছেন।

নাটকটি এতটাই ক্যারিশমাটিক কখনো কখনো মনে হয়েছে আমি কী সিনেমা দেখছি। কিন্তু না একেবারেই ফুল একটি ড্রামা দেখলাম। যে ড্রামা আমাকে চোখ ফেরাতে দিল না পুরো সময়। নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়া অভিনয়শৈলী দেখিয়েছেন নিশো। পঙ্গু না হয়েও ভালোবাসার জন্য নিজেকে দীর্ঘদিন পঙ্গু হিসেবে অভিনয় করে গেলেন। আর নাটকের শেষে সেই চমকটাই দুঃখের সাগর হয়ে দেখা দিল মেহজাবিনের জন্য। বন্ধুত্বকে ভালোবাসায় রূপ না দিয়ে অন্য একজনকে বিয়ে করেন মেহজাবিন। কিন্তু সেই ঘর বাঁধার স্বপ্ন বেশিদিন টিকেনি। একদিনের বিশাল এক ঝড়ে তছনছ হয়ে যায় মেহজাবিনের জীবন। কিন্তু মেহজাবিনকে ভালোবেসে মাজনু বেশি নিশো নিজের জীবনটাই বিলিয়ে দেয়। হৃদয়স্পর্শী এক কাহিনিকে পর্দায় অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক। আরে নিজের চরিত্রে মিশে যাওয়ার স্বভাব যার রক্তে সেই নিশো দেখিয়ে দিলেন নাটকেও কীভাবে সিনেমা করতে হয়। এ তো গেল একটি নাটকের কথা। নিশোর আরও কয়েকটি নাটক দেখেছি। এর মধ্যে ‘ভুলজন্ম’ নাটকেও নেশাগ্রস্ত এক ছেলের চরিত্রে খুবই ভালো অভিনয় করেছেন। আবার ‘সিদ্ধান্ত’ নাটকে স্মার্ট সংসারী এক যুবকের ভূমিকাতেও সাবলীল অভিনয় করে গেছেন। অন্যদিকে ‘বিলোপ’ নাটকের কথা না বললেই নয়। এতে নিশো-মেহজাবিন দুজনেই খুব ভালো করেছেন।

আরও পড়ুন : অপূর্বকে টপকে গেলেন আফরান নিশো

এবার আসা যাক ভালোবাসার আসল নায়কের কথায়। বর্তমানে টিভি নাটকে রোমান্টিক হিরোর জগতটা পুরোপুরি দখলে রেখেছেন অপূর্ব। সেই প্রমাণই দিলেন এবারের ভালোবাসা দিবসেও। শুধু মেহজাবিনই নয় তাসনিয়া ফারিন, সাবিলা নূর থেকে শুরু করে অনেক নায়িকার সঙ্গেই অভিনয় করেছেন। ভালোবাসার স্মার্ট নায়ক বলতে আসলে অপূর্বকেই মনে হয়। একক আধিপত্যের এই জায়গায় কিছুটা হলেও স্থান করে নিতে পেরেছেন গানের জগত থেকে আসা তাহসান। ভালোবাসার নাটক ‘কমলা রঙের রোদ’-এ তাহসান তার স্বভাবসুলভ অভিনয় করেছেন। তার সঙ্গী হিসেবে দুর্দান্ত উপস্থিতি দেখিয়েছেন ফারিন। নাটকটি পরিচালনা করেছেন শিহাব শাহীন। আবার কাছে আসার গল্পের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যে লেখকের ভূমিকায় খুবই মানানসই অভিনয় করেছেন তাহসান। নাটকে আসার পর থেকেই নিজের অবস্থান সুসংহত করেছেন নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে। তাহসানের অভিনয় দেখলে কেন জানি মনে হয়, খুবই পরিচিত কেউ পর্দায় হাঁটাহাঁটি করছে। মনের ভেতরে যেমন কিছু মানুষের জন্য ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে, তেমনি তাহসানের মতো অভিনেতার জন্যও থাকে কিছু ভালোবাসা।

একটি ঘরে যেমন টিভি থাকতেই হয়, সেখানে কেউ না কেউ নাটক দেখেই। আবার এখন তো স্মার্ট টিভির সময়। যেখানে আপনি ইউটিউবও দেখতে পারেন। সেই সুযোগটাই নিচ্ছে প্রযোজকরা। একের পর এক ইউটিউব চ্যানেলের ভিড়ে শুরু হলো নাটকের রমরমা দিন। এই অস্থির সময়ে যারা একটু সময় পান তাদের বলব, আসুন ভালো বাংলা নাটক দেখি আর ভালো সিনেমার প্রত্যাশায় থাকি।

এন এইচ, ১৯ ফেব্রুয়ারি

Source link