ভারতের বিরোধিতায় বন্ধ টিকা সরবরাহ, ফের চীনের দিকে ঝুঁকছে

0
115

ঢাকা, ২১ এপ্রিল – বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ যখন শুরু হয় তখন থেকেই ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দিকে ছুটে চলে পুরো বিশ্ব। আর বাংলাদেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ভ্যাকসিনের দিকে নজর রেখেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ওই বছরের ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেছিলেন চীনের সিনোভ্যাক নামে একটি কোম্পানির ভ্যাকসিন বাংলাদেশে ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার৷ আইসিডিডিআরবির সহযোগিতায় এই ট্রায়াল হবে। কিন্তু হঠাৎ করেই চীনা কোম্পানির ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বন্ধ করে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট টিকা সরবরাহ ঝুঁকে পড়ে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু বর্তমানে ভারত সরকারের বিরোধিতায় সেরাম বাংলাদেশে টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। সেজন্য বাংলাদেশ সরকার এবার নতুন করে রাশিয়া কিংবা চীনা কোম্পানির ভ্যাকসিনের দিকে ঝুঁকছে।

চীনা কোম্পানির ভ্যাকসিন ট্রায়ালের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের প্রায় সব প্রস্তুতিই শেষ করে এনেছিল আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র। সেজন্য ঢাকার সাত হাসপাতাল চিহ্নিত করা হয়েছিল- কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মহানগর হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল বার্ন ইউনিট-১, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বার্ন ইউনিট-২। কিন্তু হঠাৎ করে চীনা কোম্পানির ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট টিকা সরবরাহ করে বাংলাদেশ সরকার। এখন সেরামের টিকা পাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। সেজন্য গত সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জরুরি বৈঠক করেছে।

আরও পড়ুন : ‘চাহিবামাত্র’ চিকিৎসকদের আইডি কার্ড প্রদর্শনের আহ্বান

করোনাভাইরাসের টিকা সরবরাহ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, দেশে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন সংকটের আগেই সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে যে, ভারত সরকারের বিরোধিতায় সেরাম টিকা পাঠাতে পারছে না। তবে ভারত সরকারের অনুমতি মিললে টিকা রপ্তানি করবে। তারা টিকা দিতে প্রস্তুত। আমরা এখনও মানুষকে টিকা দিচ্ছি, আশা করা হচ্ছে- টিকার সংকট হবে না বিকল্প ব্যবস্থা হয়ে যাবে। টিকার বিকল্প উৎস খুঁজতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি। তারা রাশিয়া ও চীনের টিকা নিয়ে কাজ করছে।

অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, রাশিয়া কিংবা চীনের কাছ টিকা রপ্তানি করা হতে পারে। যাচাই-বাছাই করে কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে একটি রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব, কার কাছ থেকে কীভাবে টিকা সংগ্রহ করব।

খুরশীদ আলম বলেন, চীনের টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে একটি প্রস্তাব দিয়েছে। কমিটি প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে দেখবে। তারা এ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার পর একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন বলেন, করোনা টিকা সরবরাহে সরকার ও বেক্সিমকো সেরামের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখছে। কিন্তু সেরাম এখন টিকা দিতে পারছে না। অন্যদিকে টিকা শেষ হয়ে যাচ্ছে, আমাদের লাগবেই। তাই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।

সূত্র : প্রথম আলো
অভি/ ২১ এপ্রিল

Source link