ভারতীয় দূতাবাসে তালেবানের তল্লাশি, কেড়ে নিয়েছে গাড়ি

103


আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আফগানিস্তানে বন্ধ থাকা ভারতীয় দূতাবাসের দুটি কনস্যুলেটে তল্লাশি চালিয়েছে তালেবান। কান্দাহার ও হেরাতে অবস্থিত দূতাবাস থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে গেছে তালেবান। এছাড়া দুটি দূতাবাসের সামনে রাখা গাড়িগুলোও কেড়ে নিয়েছে তারা। ভারতের সরকারি সূত্রের বরাতে এ খবর প্রকাশ করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো।

সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভির খবরে বলা হয়, গত বুধবার কান্দাহার ও হেরাতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সামনে রাখা গাড়ি ছিনতাই করে নিয়ে গেছে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা। তারা আলমারিতে গোপন নথির খোঁজ করেছে। সেখান থেকে বহু নথিও তারা নিয়ে গেছে।

ভারত সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এনডিটিভিকে এ ব্যাপারে বলেন, এমন কিছু ঘটবে তা আমরা আগেই ধারনা করেছিলাম। তালেবানরা আমাদের দূতাবাসগুলোতে ঢুকে তল্লাশি চালায়, এবং দুটি দূতাবাসের বাইরে রাখা গাড়িগুলো নিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে ভারতের চারটি কনস্যুলেট রয়েছে। রাজধানী কাবুল, কান্দাহার, হেরাত, মাজার-ই-শরিফে এসব কার্যালয় অবস্থিত। আফগানিস্তানে তালেবানের দ্রুত উত্থানে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি টের পেয়ে আগেই দূতাবাস বন্ধ করে দেয় দিল্লি।

গত রোববার (১৫ আগস্ট) কাবুল দখলের মাধ্যমে গোটা আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ হাতে তুলে নেয় তালেবান। এদিন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। কাবুল দখলের পর নিজেদের ব্যাপারে ইতিবাচক বার্তা দিতে চাইছে তালেবানরা। তবে তাদের আচরণে ইতিবাচকতার কোনো ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। আফগানিস্তানে তালেবান আতঙ্কে হাজারো মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এছাড়া নারীদের প্রতিও তারা আগের মতোই খড়গহস্ত।

এদিকে আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনী বা পূর্ববর্তী আফগান সরকারের পক্ষে যারা কাজ করেছেন, তাদের খুঁজতে তালেবান ঘরে-ঘরে অভিযান চালাচ্ছে বলে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবান জঙ্গিরা আগে থেকেই টার্গেট করা মানুষজনকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খুঁজছে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে আসছে।

এ ব্যাপারে বিবিসি জানিয়েছে, এই সশস্ত্র গোষ্ঠী ক্ষমতা দখলের পর থেকে আফগানদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা প্রতিশোধ নেবে না। কিন্তু আশঙ্কার বিষয় হলো, ১৯৯০-এর দশকের নৃশংসতার পর তালেবান খুব সামান্যই বদলেছে।

সারাবাংলা/আইই





Source link