ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রমিকদের চলা কঠিন হচ্ছে : কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন

0
255

বেড়েছে শ্রমিকের জীবন যাত্রার ব্যয়। প্রাপ্ত মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের জীবন চলা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় বাৎসরিক মজুরি বৃদ্ধি ও রেশনিং চালু করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে শ্রমিকদের জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি জনিত অবস্থা সামাল দিতে মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের আহ্বায়ক এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা ও সমন্বয়কারী মো. মহসিন ভুইয়া।

তারা বলেন, যেহেতু দ্রব্যমূল্যের বাজার খুব চড়া, সে ক্ষেত্রে শ্রমিকদের জীবন অনেক কষ্টে আছে। অনতিবিলম্বে পোশাক শিল্প শ্রমিকদের জীবন যাত্রার ব্যয়ের এর উপর নির্ভর করে বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট বৃদ্ধি করাও উচিত।

নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকদের বঞ্চিত করে বেশি মুনাফা করিয়ে নেওয়া যাবে-মালিকদের এ ভুল ধারনা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

অন্যদিকে নেতৃবৃন্দ ‘সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর স্বীকারুক্তি ২০১৯ সালে ৬০-এর অধিক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং ৩২ হাজারের অধিক শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে’ প্রদত্ত তথ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের দাবি জানান।

নেতৃত্রয় বলেন, শ্রম আইনকে উপেক্ষা করে বিশেষ সার্কুলার জারি করে শ্রমিকদেরকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত ওভারটাইম করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এটা সুস্পষ্টভাবে শ্রম আইন ও আইএলও কনভেনশনের লঙ্ঘন। মালিকরা শ্রমিকদের ওভারটাইম ও টার্গেটের চাপের মধ্যে ফেলে জীবনীশক্তি নিঃশেষ করে ফেলছেন। একদিকে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে শ্রমিক কাজ হারাচ্ছেন। অন্য দিকে অল্প শ্রমিকের ওপর বাড়তি কাজের বোঝা চাপিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সঙ্কুচিত করে ফেলা হচ্ছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনে ওভারটাইমের সুযোগ কমিয়ে দিয়ে দুই শিফটে বেশি সংখ্যক শ্রমিকের কাজের সুযোগ করে দিতে হবে।

তারা বলেন, বর্তমানে যে শ্রম আইন ও বিধিমালা আছে সেখানকার ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে শ্রমিকদের। ৪০ বছরের শিল্পে আজ পর্যন্ত অবাধ ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি। ফলে অবিলম্বে শ্রম আইন ও বিধিমালা সংশোধন করে শিল্পের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে