ব্যর্থ স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করা উচিত : বাংলাদেশ ন্যাপ

0
242
nap

চীনের করোনার ভয়াবহতার পর সময় পেয়েও আমাদের দূর্নীতিগ্রস্থ স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে মূল যোদ্ধা চিকিৎসক ও তাদের সহকর্মীদের সময়মত পিপিই দিতে পারেনি মন্ত্রনালয়। সরকারি বেসরকারি হাসপাতালের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় আইসিইউ বেড, ভেন্টিলেশন মজুদ ও সরবরাহ করে সমন্বিত পরিকল্পিত শক্তিশালী চিকিৎসা ব্যবস্তা গড়তে ব্যর্থ বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করা উচিত বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এ মন্তব্য করেছেন।

তারা বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আর মন্ত্রনালয়ের কর্তারা শুধু বড় বড় কথাই বলেছেন। তাদের ব্যর্থতার কারনেই সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক ডা:মঈন উদ্দীন শহীদ হয়েছেন। সুনামগন্জের সন্তান এ ডাক্তার করোনার যুদ্ধে প্রথম সারির যোদ্ধা। সিলেটে করোনায় আক্রান্ত হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছিলেননা। একটা ভেন্টিলেশন পাননি। ঢাকায় আসতে এয়ার এম্বুলেন্স দূরে থাক আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কত আকুতি করেও পায়নি। বুধবার ভোরে ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস। ১২ ও ৭ বছরের দুটি সন্তান এতিম হলো। স্ত্রী রিফাত অকালে বিধবা, সেও ডাক্তার। বড় অমায়িক রুগির প্রতি যত্নশীল ডা. মঈন গরিবের ফি নিতেননা। দেশ তার মত একজন মেধাবি ও জনদরদী সন্তানকে হারালো।

নেতৃদ্বয় বলেন, আমরা শহীদ মঈনের শোক গাঁথা হৃদয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। যদিও নি:লজ্জ্ব মন্ত্রী পদত্যা করবেন বলে দেশবাসী আশা করে না। তাই প্রদানমন্ত্রীর নিকট স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরখাস্ত চাই। মন্ত্রনালয়ের সচিব ও অধিদফতরের মহাপরিচালকেরও অপসারন চাই। এই ব্যর্থতার দায় তাদের নিতেই হবে। সবকিছু যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া না হয় তাহলে আর এদের রেখে লাভ কি ? তাই এই অপদার্থদের বরখাস্ত চাই।

ন্যাপ নেতৃদ্বয় আরো বলেন, নাটোরের লালপুরে উপোস পরিবার ও প্রতিবেশীর জন্য ত্রান চাইতে সরকারি হটলাইনে ফোন করেছিলেন শহিদুল ইসলাম। এতো বড় অপরাধে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার মেরে রক্ত ঝরিয়েছেন শরীরের। এমন মহাদুঃসময় না এলে তথাকথিত জনপ্রতিনিধিরা কতটা নিষ্ঠুর ও কত নির্দয় হয় তা জানাও যেতোনা। নিরীহ গরিবের লাল রক্তে বিষাদগস্খস্থ পৃথিবীর বুকে চেয়ারম্যানের নব বর্ষ বরন। নিষ্ঠুর পৃথিবীর দানবরা প্রকৃতির এমন হিংস্র প্রতিশোধেও যখন নিজেকে না শোধরিয়ে সাধারণ মানুষের মুখের গ্রাস কেরে নেয়, তাতে বুঝা যায় এ যাত্রায় বেঁচে গেলে আরও কতো বীভৎস চেহারায় আবির্ভূত হবে এই জনপ্রতিনিধিরা।

নেতৃদ্বয় বলেন, কোরনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যদি একজন চিকিৎসক বিনা চিকিৎসায় মারা যায় তাহলে সাধারণ মানুষের ভাগ্য কি হতে পারে সেটাই আজ প্রশ্ন ? স্বাস্থ্য বিভাগের সীমাহীন দুর্নীতির কারনে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেংগে পরেছে ডাঃ মঈন উদ্দিনের মত্যুই তার জলন্ত প্রমান।

তারা করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামনের কাতারের যোদ্ধা ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত, প্রণোদনা, ঝুঁকি বীমা, এককালীন সম্মানী ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে