‘বে-টার্মিনাল’ নিয়ে আশা জাগালেন নৌ প্রতিমন্ত্রী

79


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম বন্দরের আলোচিত ‘বে-টার্মিনালে’ ২০২৪ সালের মধ্যে অপারশেনাল কার্যক্রম শুরুর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের অধীনে প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনটি টার্মিনালের মধ্যে একটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নির্মাণ করবে। বাকি দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে নগরীর পতেঙ্গায় প্রস্তাবিত বে-টার্মিনাল এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান নৌ প্রতিমন্ত্রী। এদিন ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে বে-টার্মিনাল এলাকা পরিদর্শনে আসেন প্রতিমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন- নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা আফরোজ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান।

চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তাদের মতে, স্থবির হয়ে থাকা বে-টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কর্ণফুলী নদীকেন্দ্রিক বন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়ে সরাসরি বঙ্গোপসাগর থেকে পরিচালিত হতে পারবে। গভীরতা কম থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান জেটিতে সাড়ে নয় মিটারের বেশি ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারে না। বে-টার্মিনাল নির্মাণ হলে সরাসরি বঙ্গোপসাগর থেকে ১২ মিটার ড্রাফটের জাহাজ প্রবেশ করতে পারবে। পাশাপাশি জাহাজ প্রবেশের জন্য জোয়ার-ভাটার অপেক্ষা করতে হবে না, দিনরাত ২৪ ঘণ্টা জাহাজ ভিড়তে পারবে।

স্থবির প্রকল্প চালুর আশাবাদের কথা জানিয়ে নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘মোট ৮৭৩ একর জায়গায় নির্মিত হবে বে-টার্মিনাল। এজন্য বন্দরের আওতা বাড়ানো হয়েছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন ৬৮ একর জায়গা বন্দরকে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ৮০৪ একর জায়গা অধিগ্রহণে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এখানে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। আগে সিদ্ধান্ত ছিল একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ হবে। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পিপিপির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কিছু দাফতরিক কাজ শেষে বন্দর কর্তৃপক্ষ টার্মিনালের কাজ শুরু করবে। পিপিপি মডেলে কাজ করার অতীত অভিজ্ঞতা না থাকা এবং করোনা পরিস্থিতির কারণে কিছুটা ধীর গতিতে চলছে।’

পিপিপি মডেলে কাজ করতে অনেক বিদেশি সংস্থা আগ্রহ প্রকাশ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই বিদেশি সংস্থাকে বাকি দু’টি টার্মিনালের কাজ দেওয়া হবে। তবে মাল্টিপারপাস টার্মিনাল বন্দর কর্তৃপক্ষ নির্মাণ করবে।’

চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, বন্দরের আওতা বাড়িয়ে দক্ষিণে মাতারবাড়ি এবং উত্তরে ফেনী পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। ১১ কিলোমিটারের প্রাকৃতিক আইল্যান্ড ব্রেক ওয়াটার হিসেবে কাজ করবে। বে-টার্মিনালের স্টাডি আপডেট করতে নতুন পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এরপর টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা আফরোজ বলেন, বে-টার্মিনাল নির্মাণে সিঙ্গাপুর, ডেনমার্ক ও চীনসহ কয়েকটি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে কারও সঙ্গে এখনও কোনো চুক্তি হয়নি। আমরা দ্রুত কাজ শেষ করতে চাই। কারণ এটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম





Source link