বেতন না দেওয়ায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ইন্ধন খুঁজছেন সাকিবের বন্ধু

0
372

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী এলাকায় অবস্থিত ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের ‘সাকিব আল হাসান অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড’-এর (কাঁকড়া হ্যাচারি) শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে গতকাল সোমবার বিক্ষোভ করেন। গত চার মাস ধরে বেতন না পেয়ে বিক্ষোভে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তারা।

তবে শ্রমিকদের এই আন্দলনের পেছেনে কেউ ইন্ধন দিয়েছেন বলে মনে করছেন সাকিবের বন্ধু ও ব্যবসায়িক সহযোগী সগির হোসেন পাভেল।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে পাভেল বলেন, ‘আমাদের যেহেতু স্যালারি দেওয়ার ডেট ফিক্সড ছিল, সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিৎ ছিল। আমার মনে হয় কেউ ইন্ধন বা কিছু করছে।’

বেতনের দাবিতে গতকাল বিক্ষোভ করেন সাকিবের হ্যাচারির অন্তত ২০০ শ্রমিক। তারা জানান, তাদের চার মাস ধরে কোনো বেতন দেওয়া হয় না। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কঠিন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। করোনা পরিস্থিতিতে ঘরে খাবার নেই। না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে ছেলেমেয়েরা।

তবে সগির হোসেন পাভেল দাবি করেন, চার মাস নয়, এক মাসের বেতন পাবেন শ্রমিকরা। তাদের মধ্যে মাত্র পাঁচ-ছয়জন শ্রমিক চার মাসের বেতন পাবেন।

ক্রিকেটার সাবিকের বন্ধু পাভেল বলেন, ‘প্রথমত বেতন বাকি শুধু জানুয়ারি মাসের। এরপর থেকে আমরা প্রতি মাসেই রিলিজ দিয়ে দিচ্ছিলাম। কারণ কোনো কাজ ছিল না। যারা ফার্মে ছিল, ওখানে থাকে তারাই শুধু চার মাসের বেতন পাবে। মাত্র পাঁচ-ছয়জন চার মাসের বেতন পাবে।‘

একাধিকবার আশ্বাস দিয়েও বেতন দেওয়া হয়নি, শ্রমিকদের এমন অভিযোগের বিষয়ে পাভেল বলেন, ‘স্যালারি আমাদের ৩০ তারিখের (এপ্রিল) মধ্যে দেওয়ার কথা ছিল। আমরা সেইভাবেই অ্যারেঞ্জ করে রেখেছি। ৩০ তারিখের মধ্যে আমরা বেতন পরিশোধ করে দেব। এটা আন্দোলন না হলেও আমরা অবশ্য দিতাম। সেই প্ল্যানেই আমরা এগিয়েছি।’

জানুয়ারি মাসের বেতন এপ্রিলে কেন-এমন প্রশ্নের উত্তরে পাভেল বলেন, ‘আমাদের এক্সপোর্ট বন্ধ ছিল, অনেকগুলো অর্ডার ক্যানসেল হয়েছে, অর্ডার আটকে ছিল। করোনাভাইরাসের লকডাউনের জন্য মাল নিতে পারেনি। পরবর্তীতে নিবে। চার বছর ধরে আমরা তো চালিয়ে আসছি। যারা শ্রমিক ছিল, তারা তো আমাদের সাথে চার বছর ধরে কাজ করছে। ওদের তো আবার আমরাই নেব। ফেব্রুয়ারি থেকে এ সমস্যা শুরু হয়েছে। আগে যখন রানিং ছিল সব ঠিক-ঠাক মতো দিয়েছি। কোনোদিন আমরা ব্রেকডাউন হইনি। এটাই প্রথম সমস্যা।’

সাকিবের ব্যবসায়কি সহযোগি আরও বলেন, ‘সাকিব এসব কিছু জানত না। আমরাই দেখভাল করতাম। করোনাভাইরাসের কারণে এই সমস্যা হয়েছে। যখন বিক্ষোভের বিষয়টি সাকিব শুনেছে, তখন সে তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।‘

বিলম্বের জন্য শ্রমিকদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী জানিয়ে সাকিবের বন্ধু বলেন, ‘আমি (পাভেল) ও আমাদের আরেক পার্টনার ইমদাদুল হক ক্ষমাপ্রার্থী বিলম্বের জন্য।’

পাভেল জানান, ফার্মের প্রধান মালিক সাকিব আল হাসান এখন পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। নানা ব্যস্ততার কারণে তিনি ফার্মের খোঁজ রাখতে পারতেন না।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে