বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস আজ: চাই সুন্দর বিশ্ব

0
97

মো. ইসহাক ফারুকী :: আজ ৭ এপ্রিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘একটি সুন্দর, স্বাস্থ্যকর বিশ্ব বিনির্মাণ’। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বে বিষাদের ছায়া। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ চায় সবাই। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে তাই সুন্দর পৃথিবীর প্রত্যাশা সকলের। বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে নিজেদের তৈরি ভ্যাকসিন, সঠিক মানসিক অবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান বৃদ্ধিসহ স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত বাজেট।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, জাতিসংঘ অর্থনীতি ও সমাজ পরিষদ ১৯৪৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের সম্মেলন ডাকার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৪৬ সালের জুন ও জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাংগঠনিক আইন গৃহীত হয়। ১৯৪৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালনের প্রস্তাব দেওয়া হলে তা ১৯৫০ সালে কার্যকর হয়। তাই ১৯৫০ সাল থেকে নিয়মিতভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে পৃথিবীর সর্বত্র বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত হয়ে আসছে।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চলছে লকডাউন। করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃতের হার বাড়াতে ঘরে বসে থাকতে হচ্ছে অনেককেই। ৭দিনের লকডাউনে আবার দেশের অনেক জায়গায় দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। লকডাউন তুলে নেওয়ার দাবি করেছে অনেকেই। এ প্রসঙ্গে গত ৬ এপ্রিল রাজধানীর মহাখালীতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মার্কেট হাসপাতাল পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘এই মুহূর্তে সরকারের লকডাউন ব্যবস্থা জরুরি ছিল তাই সরকার দিয়েছে। যখন লকডাউন তুলে নেওয়ার প্রয়োজন হবে সরকার সঠিক সময়েই সেই সিদ্ধান্ত নেবে। এখন এসব সরকারি নির্দেশনা মেনে না চললে আগামীতে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু উভয়ই নিয়ন্ত্রণহীন হতে পারে। ’

হাসপাতালের কাজের অগ্রগতি দেখে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ডিএনসিসি মার্কেট হাসপাতালটি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে উদ্বোধন করা সম্ভব। এই হাসপাতালে একসঙ্গে যে দুইশটি আইসিইউ বেড করা হচ্ছে তা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বিরল। পাশাপাশি এখানে আরো ১০০০টি নতুন আইসোলেশন বেডও হচ্ছে। তবে বেড সংখ্যা যতই বাড়ানো হোক, মানুষ যদি স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলে তাহলে কোনোকিছুতেই করোনা নিয়ন্ত্রণে আসবে না।’

মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অবশ্যই প্রয়োজন। কারণ, স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। স্বাস্থ্য যদি ঠিক না থাকে, তাহলে কোন কিছুই ঠিক থাকবে না।

তবে করোনা পরিস্থিতি কর্মহীন করে দিয়েছে অনেককে। মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন তারা। তারপরও মানুষ আশা নিয়ে বাঁচে। এই মানসিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় কী করতে হবে, তা নিয়ে ইউনাইটেড নিউজ টোয়েন্টি ফোর ডট কমের সাথে কথা বলেছেন মনোবিজ্ঞানী ফারজানা ফাতেমা রুমী। তিনি বলেন, যখন আমাদের সামনে হতাশাব্যঞ্জক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তখন এটা মেনে নেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। প্রথমে আমরা ডিনাইল স্টেজে থাকি; পরিস্থিতি মেনে নিতে পারি না। এরপর মনের মধ্যে নেগোসিয়েশন স্টেজ শুরু হয়; প্রশ্ন, দ্বন্দ্ব, হতাশার উদ্রেক হয়। ভেতরে ভেতরে এই পরিস্থিতি চলতে থাকে। এসময় কোন কৌশল অবলম্বন না করলে লাইনচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। তাই প্রথমেই আমাকে ‍বিকল্প চিন্তাভাবনা করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে কি কি করা যেতে পারে, তা ভাবতে হবে। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। নিজেকে মানসিকভাবে তৈরি করতে হবে। রুটিন পরিবর্তন করলে ভাল। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া, নখ-চুল কাটা, গোসল করা, নিয়মিত অন্ততপক্ষে ৫ ঘণ্টা ঘুমসহ স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়ার কোন বিকল্প নেই। এতে করে বোঝা যাবে, আমি করোনার বিরূদ্ধে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত।’

তিনি আরও বলেন, ‘সকালে বা বিকেলে অথবা যেকোন খারাপ পরিস্থিতিতে পড়লে কিংবা খারাপ খবর শুনলে ‘ডিপ ব্রেদিং’ পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়। শ্বাস নিই, ধরে রাখি, ছেড়ে দিই-এমন করে ৫ মিনিট ডিপ ব্রেদিং করলে অস্থিরতা দূর হয়, জাদুর মতো কাজ করে। যেখানে বসে আছি, সেখানে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে এই ‘ডিপ ব্রেদিং’ চর্চা চালিয়ে যেতে পারি। তা ছাড়া আমাদের সামাজিকভাবে সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। কথা বলতে হবে। অবশ্যেই শুধু চ্যাটিং না, কথা বলতে হবে। ফোন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বন্ধু, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে কথা বলতে হবে। পরিবারের সবার সাথে শেয়ার করতে হবে। দেশের বাইরে কেউ থাকলে তার সঙ্গে কথা বলতে হবে। কারণ, করোনা শুধু আমার নিজের নয়, সারা বিশ্বের মানুষের সমস্যা। সবাই ভুক্তভোগী। একটা বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে- আগেও মহামারী, বিশ্বযুদ্ধের মতো ঘটনা ঘটেছে। আমাদের পূর্বপুরুষরা এরকম পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। আমাদের এখন সময় পরিস্থিতি মোকাবিলা করার। তাই নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। তথ্যসমৃদ্ধ করতে হবে।’

কোভিড ১৯ নিয়ে ভীত হওয়া প্রসঙ্গে শিশু-কিশোরদের ক্লাব ‘সোনার তরী’র প্রতিষ্ঠাতা এবং লেখক ও গবেষক ফারজানা ফাতেমা রুমী বলেন, ‘কোভিড নিয়ে ভীত হওয়াটাই স্বাভাবিক। এটা মাথায় রাখতে হবে। চটজলদি অন্য অনুভূতিতে নিজেদের রূপান্তরিত করার চেষ্টা ঠিক নয়। এটা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক নয়। কোভিডের আগে যারা নামাজ পড়তেন বা উপাসনা করতেন, দান-খয়রাত বা চ্যারিটি করতেন, সমাজসেবামূলক কাজে স্বেচ্ছাসেবা দিতেন, গান শুনতেন, আবৃত্তি করতেন, লেখালেখি করতেন, মর্নিং ওয়াক বা শারীরিক কসরৎ করতেন- তাদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকে থাকা অনেক সহজ। যারা এগুলো কিছুই করেনি, তারা অসহায়। কিন্তু একেবারেই তারা বিপদে পড়ে যাননি। তাদের রুটিনে পরিবর্তন আনতে হবে। গান-বাজনা, লেখালেখি করতে পারেন, ছাদে বা বারান্দায় বাগান করতে পারেন, জারে মাছ রাখতে পারেন, ফেসবুক অনেক গ্রুপ আছে; তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। মোদ্দা কথা নিজেকে সময় দিতে হবে। মনের ভেতরের শান্তি খুঁজে বের করতে হবে। এ ছাড়া কারো কোন সমস্যা হলে মনোবিজ্ঞানীর কাছ থেকে কাউন্সেলিং নিতে পারেন। আর সমস্যাটি যদি শারীরিক ও মানসিক দুটোই হয়, তাহলে মনোচিকিৎসকের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন।’

এদিকে ৬ এপ্রিল দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) শেষ হয়েছে। আর দ্বিতীয় ডোজ শুরু হবে ৮ এপ্রিল থেকে। টিকা নিলেও আমাদের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। আমরা যতো বেশি সচেতন হবো তত বেশি সুরক্ষিত থাকতে পারবো। আমরা চেষ্টা করবো ডাক্তার-নার্সসহ সব পর্যায়ের মানুষকে নিয়ে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে মোকাবিলা করতে পারি।‘

করোনার টিকা এদেশেই তৈরি করতে পারলে দেশ ও জনগণ আরও বেশি উপকৃত হবে বলে মতামত ব্যক্ত করেন অনুজীববিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. গোলজার হোসেন। ইউনাইটেড নিউজ টোয়েন্টি ফোর ডট কমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা সাধারন মানুষ করোনা ভাইরাসের মতো এরকম খালি চোখে নাদেখা জীবাণু সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। বর্তমানে মানুষ অনেকটাই সচেতন হয়েছে, যে এরকম খালি চোখে দেখতে না পাওয়া জীবাণু বা ভাইরাসও মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে। করোনা ভাইরাসের মতো ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, নিপাহ ভাইরাসসহ ক্ষতিকর জীবাণু সম্পর্কে সাধারন মানুষের আরও বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘রোগমুক্ত এবং সুস্থ, থাকতে হলে আমাদের পরিবেশের যেসকল উৎস থেকে এরকম ক্ষতিকারক জীবাণুর উৎপত্তি হতে পারে সেগুলো পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলাসহ স্বাস্থ্যসম্মত এবং জীবাণুমুক্ত খাবার খেতে হবে। ক্ষতিকারক জীবাণু বা মরণঘাতী ভাইরাস সম্পর্কে গণমাধ্যমসহ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হবে।’

ড. মো. গোলজার হোসেন আরও বলেন, ‘মানুষের বেশিরভাগ অসুস্থতা এবং মৃত্যুর কারণ হলো ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকারক জীবাণু। এগুলো প্রতিরোধ করার জন্য আমরা মুলত বিভিন্ন ধরনের টিকা এবং মেডিসিন ব্যবহার করে থাকি।’

এই ভ্যাকসিন বা টিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন ভাইরাসের টিকা আমদানি করছি। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, এদেশের ভাইরাস স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে আমদানিকৃত টিকা কাজ করছে না। আমি মনে করি, সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পযায়ের নীতিগত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মাইক্রোবায়োলজিস্টের সমন্বয়ে দেশে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এইসকল গবেষণাগারে দেশীয় ভাইরাস বা ব্যক্টেরিয়ার স্ট্রেইন ব্যবহার করে টিকা তৈরি করতে হবে, যা এদেশের ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে শতভাগ কার্যকারী হবে বলে ধারণা করা যায়। এতে করে সরকারের অর্থ অপচয়ও কমে যাবে।’
জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ‘হেপাটাইটিটিস বি’ নিয়ে গবেষণা করা এই শিক্ষক বর্তমানে জুনটিক প্যাথোজেন নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘পশুপাখি থেকে মানুষের শরীরে যেসকল ভাইরাস বিস্তার লাভ করে, তা নিয়েই গবেষণা করার চেষ্টা করছি। যেমন; করোনা ভাইরাস, নিপাহ ভাইরাস, চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু, এবং ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ অনেক ভাইরাসই পশুপাখি থেকে মানুষের শরীরে এসেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এসকল জুনটিক ভাইরাসের জীবনরহস্য উদ্ঘাটন, বিবর্তনমূলক বিকাশ এবং এন্টিজেনিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা করার চেষ্টা করছি, যা দেশীয় টিকা প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে বলে বিশ্বাস করি। গবেষণা করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে, আমরা যারা ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করি; তাদের একটি বৈজ্ঞানিক সোসাইটি করা যেতে পারে। “বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভাইরোলজি” নামে একটি বৈজ্ঞানিক সোসাইটির স্বপ্ন দেখছি। এই সোসাইটির মাধ্যমে আমরা সরকারের উর্দ্ধতন মহলসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা করে ভবিষ্যতে দেশে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করবো। এবং দেশেই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাসহ দেশীয় টিকা উদ্ভাবন করতে পারবো বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। ’

নিজেদের তৈরি ভ্যাকসিনের স্বপ্ন পূরণ ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত বাজেট। এই বাজেট হতে হবে সেবাবান্ধব। জনগণ যাতে সঠিকভাবে সেবা গ্রহণ করতে পারে এই বিষয়ে কথা হচ্ছিল বেসরকারি সংস্থা ডরপ এর গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসানের সঙ্গে। তিনি ইউনাইটেড নিউজ টোয়েন্টি ফোর ডট কমকে বলেন, স্বাস্থ্য, পানি, স্যানিটেশন, কৃষি সকল ক্ষেত্রেই জন-অংশগ্রহণ জরুরী। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাও দরকার। আমরা অবকাঠামো ক্ষেত্রে উন্নতি করেছি। যেমন; আমাদের কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল আছে; আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে এরকম ব্যবস্থা নেই। তবে আমাদের যা নেই তা হলো- সেবা দানকারী ও সেবা গ্রহণকারীর মধ্যে সমন্বয় নেই। সেবা প্রদান, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, জনসম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানো প্রয়োজন। বাংলাদেশে জনপ্রতি পুরো জিডিপির ২% দরকার। এখন তা দেওয়া হয় ১% এর নিচে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জনপ্রতি যে বরাদ্দ দেওয়ার কথা। তার অর্ধেক বরাদ্দ দেওয়া হয়। বাজেট হবে সেবা অনুযায়ী। কিন্তু যন্ত্রপাতি, কেনাকাটা, লোকবলে বাজেট বেশি থাকলেও ওষুধ, এমএসআর এর ক্ষেত্রে কম। এসব বিষয়ে জোর দেওয়া দরকার। মানুষ যেন অক্সিজেনের অভাব বোধ না করে, অ্যাম্বুলেন্স-জেনারেটরের তেল যে ফুরিয়ে না যায়-সেদিকেও লক্ষ্য রেখে সঠিক সেবা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাবান্ধব বাজেট প্রয়োজন।’

সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবো। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে মানসিক দূরত্ব কমিয়ে ফেলবো। সবাই মিলে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর বিশ্ব নির্মাণ করবো-এই প্রত্যাশা করি সকলেই।

Print Friendly, PDF & Email

Source link