বিশৃঙ্খলা এড়াতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিধিনিষেধ

57


সারাবাংলা ডেস্ক

ঢাকা: জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশ ও কর্মসূচিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটি।

বুধবার (১৩ অক্টোবর) ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন সারাবাংলাকে বলেন, ‘যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা সমাবেশের বিষয়ে সাংবাদিক সমাজ শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু চিহ্নিত কয়েকটি সংগঠন ও রাজনৈতিক দল কর্মসূচির নামে প্রেস ক্লাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তাদের কর্মীরা প্রেস ক্লাব এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে অনেক সময় মারমুখি আচরণ করে। কখনও কখনও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে প্রেস ক্লাবের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।’

‘প্রেস ক্লাব সাংবাদিকদের একটি সংগঠন। এখানে সিনিয়র সাংবাদিকরা আসেন, অনেকেই ভিডিও এডিটিং করেন, নিউজ লেখেন, কোনো কোনো সাংবাদিক লাইব্রেরিতে বই পড়েন। রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর বিশৃঙ্খলার কারণে প্রেস ক্লাবের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তাই আপাতত কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ বা কর্মসূচি করা যাবে না।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি আরও বলেন, ‘গত ১০ অক্টোবর একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। অডিটোরিয়ামে দুই-একশ লোক ধারণক্ষমতা থাকলেও দেখা হয় তারা হাজার হাজার লোক সমাগম করেছে। রাজনৈতিক সমাবেশ করার মতো অনেক জায়গা আছে। সে সব জায়গা বাদ দিয়ে তারা প্রেস ক্লাবকে নিরাপদ মনে করে। রাজপথে এ সব সংগঠনের কোনো কর্মসূচি থাকে না, প্রেস ক্লাব এলাকায় এসে শোরগোল বাঁধিয়ে দেয়।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান সারাবাংলাকে বলেন, ‘কোনো সংগঠন চাইলে তাদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মসূচির জন্য অডিটোরিয়াম ভাড়া নিতে পারবে। তবে অবশ্যই নিয়ম মেনে করতে হবে। রাজনৈতিক সংগঠনগুলো এখন থেকে বড় কোনো সমাবেশ করতে পারবে না।’

এদিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মাঈনুল আলমের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে— প্রেস ক্লাব ও সদস্যদের স্বার্থে ক্লাবে শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখতে ব্যবস্থাপনা কমিটি বদ্ধপরিকর। যে কোনো মূল্যে ক্লাবের স্বার্থ, মর্যাদা সমুন্নত রাখা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে— ক্লাবের বিভিন্ন হল ও মিলনায়তন ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়মাবলি ও শর্ত আবশ্যিকভাবে পালন করা হবে।

ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়— আলোচনা সভা, সেমিনারের নামে কোনো দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি, সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। জিহাদ স্মৃতি পরিষদ, জিয়া পরিষদ—যেকোনো দলের রাজনৈতিক সমাবেশ ও কর্মসূচি ভবিষ্যতে বন্ধ থাকবে বলে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে, এ সব সংগঠনের কর্মসূচির ফলে ক্লাবে বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, যার ফলে ঐতিহ্যবাহী প্রেস ক্লাবের সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। কমিটি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির রাজনৈতিক সমাবেশ অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদও এ বিষয়ে বলেন, মির্জা ফখরুল সাহেবদের রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের মতো সমাবেশ করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের পবিত্রতা ও মান মর্যাদা নষ্ট করা হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এক বিবৃতিতে জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের নাম ব্যবহার করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে মতবিনিময়ের খবর বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু আদালতের রায়ে দণ্ডিত বিতর্কিত রাজনৈতিক নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে জাতীয় প্রেস ক্লাব নেতাদের আদৌ কোনো মতবিনিময় হয়নি। তাই জাতীয় প্রেস ক্লাবের নাম ব্যবহার করাটা সম্পূর্ণ অনৈতিক হয়েছে। এটি একটি সুগভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। জাতীয় প্রেস ক্লাব এই ধরনের দুরভিসন্ধিমূলক ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

সারাবাংলা/একে





Source link