বিবিসির ‘চালাকিতে’ রাজ পরিবারের সঙ্গে ডায়ানার সম্পর্কের অবনতি

42


আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সংবাদ মাধ্যমের সামনে হাজির করতে প্রিন্সেস ডায়ানার সঙ্গে চালাকির আশ্রয় নিয়ে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (বিবিসি) বিশ্বাসভঙ্গের পাশাপাশি, তার সঙ্গে প্রিন্স চার্লসসহ রাজ পরিবারের সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্রিটেনের রাজপুত্র উইলিয়াম।

সাম্প্রতিক তদন্তে বিবিসির ‘চালাকি’র ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচার মাধ্যমটির বিরুদ্ধে চার্লস-ডায়ানা দম্পতির বড় ছেলের কাছ থেকে এমন বক্তব্য আসল।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯৫ সালের আলোচিত সাক্ষাৎকারটি নেওয়ার জন্য প্রিন্সেস ডায়ানাকে রাজি করাতে চালাকির আশ্রয় নিয়েছিলেন বিবিসির সাংবাদিক মার্টিন বশির। ওই সময় বিবিসিও বিষয়টি চেপে গিয়েছিল।

ব্রিটেনের দুই কোটি দর্শক দেখেছিল প্যানারোমা নামের ওই অনুষ্ঠান। যেখানে, ডায়ানা তার প্রণয়ের কথা স্বীকার করে সবাইকে চমকে দেন। এছাড়াও, যুবরাজ চার্লসের সঙ্গে তার বিয়ের বিস্তারিত তুলে ধরেন। পরে, ১৯৯৭ সালে প্যারিসে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় ৩৬ বয়সে মারা যান প্রিন্সেস ডায়ানা।

এদিকে, বিবিসির অনৈতিক উপায় অবলম্বনের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক বিবৃতিতে প্রিন্স উইলিয়াম বলেন, সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য বিবিসি যে চালাকি করেছিল; তা তার মায়ের বক্তব্যকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিল বলে তিনি মনে করন।

সাক্ষাৎকার সম্প্রচারের পর তার মা-বাবার সম্পর্ক আরও খারাপ দিকে মোড় নিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন প্রিন্স উইলিয়াম।

বিবিসির ব্যর্থতা কতোটা গভীরভাবে ডায়ানার ভয়, আতঙ্ক আর একাকীত্ব বাড়িয়ে দিয়েছিল সেই চিন্তা তার জন্য অবর্ণনীয় এবং কষ্টদায়ক বলে উল্লেখ করেন উইলিয়াম।

একই সময়ে দেওয়া আলাদা বিবৃতিতে বিবিসির নাম উল্লেখ না করে উইলিয়ামের ছোট ভাই হ্যারি আরও বড় পরিসরে সংবাদ মাধ্যমের সমালোচনা করে বলেন, অনৈতিক চর্চা এবং অন্যায় সুযোগ নেওয়া সংস্কৃতির প্রভাব শেষপর্যন্ত তার মায়ের জীবনটাই কেড়ে নিয়েছে। হ্যারি বলেন, তারা কিছুটা হলেও এর দায় স্বীকার করেছেন। বিবিসিকে ধন্যবাদ। ন্যায় ও সত্যের পথে বিবিসির প্রথম পদক্ষেপ এটি বলেন, প্রিন্স হ্যারি।

প্রিন্স হ্যারি বলেন, যে বিষয়টি ভাবনার তা হলো— বিবিসির অনৈতিক চর্চা বিন্দুমাত্র কমেনি।

নভেম্বর থেকেই ডায়ানার ভাই চার্লস পেন্সার অভিযোগ করে আসছিলেন সাক্ষাৎকারটি নিতে বিবিসির সাংবাদিক বশির চালাকির পথ বেছে নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য বশির এমন কিছু জাল নথি ব্যবহার করেছিলেন, যেগুলো দেখে মনে হয় ডায়ানার পেছনে বাকিংহাম প্যালেসের কর্মীদের লাগানো হয়েছিল এবং নজরদারির জন্য তাদের পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়।

সারাবাংলা/একেএম





Source link