বিদ্যুতের পরই পানির মূল্যবৃদ্ধি জনগনের উপর জুলুম : বাংলাদেশ ন্যাপ

0
261

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির এক দিন পর শুক্রবার ঢাকা ওয়াসার আবাসিক ও বাণিজ্যিক উভয় ব্যবহারকারীদের জন্য পানির মূল্যবৃদ্ধি জনস্বার্থ বিরোধী ও জনগনের উপর জুলুম হিসাবে আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ।

শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এ কথা বলেছেন।

নেতৃদ্বয় বলেন, বিদ্যুত ও পানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের মানুষের জীবনযাপনের খরচ আরো বৃদ্ধি পেলো। এমনিতে চাল, ডাল, পিয়াজ, ভোজ্যতেল, চিনি, আদা-রসুনসহ বেশ কয়েকটি নিত্যপণ্যের অতিরিক্ত দামে অস্বস্তিতে রয়েছে সাধারণ মানুষ। চালের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক দফা। এখনও চালের বাজারে চলছে অস্থিরতা। এর মধ্যেই বিদ্যুত ও পানির মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দ্রব্য মূল্যকে আরো উসকে দেবে। যার ফলশ্রæতিতে ব্যাপকভাবে চাপে পড়বে সাধারণ মানুষ। জীবনযাত্রার ব্যয় যে হারে বাড়ছে; ওই অনুপাতে আয় না বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা পড়েছেন বিপাকে। পারিবারিক ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

তারা বলেন, নগরবাসীকে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি দিতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ ঢাকা ওয়াসা পানির মূল্যবৃদ্ধি সম্পূর্ণ অনৈতিক ও জনবিরোধী। জনগনের চাহিদা মোতাবেক বিশুদ্ধ পানি প্রদানে ব্যর্থ ঢাকা ওয়াসা ওয়াসা গত আট মাসের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো পানির মুল্যবৃদ্ধি করে জনগনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহন করেছে।

ন্যাপ নেতৃদ্বয় বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার পানি পান করা যায় না। অন্যদিকে বহুস্থানে পানির পাম্পের সীমানার ভেতরেই একটি সংস্থার বিশুদ্ধ পানি বিক্রি হয়। কার্ড বানিয়ে আলাদা দামে সেই পানি কিনতে হয়। ওয়াসার পানির বিলের বাইরেই গ্রাহকদের এই টাকা গুনতে হয়। অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাট মালিকরা ওয়াসার সরবরাহ করা পানির উপর নির্ভর করতে পারে না। এই ক্ষেত্রে প্রায় পরিবারকে আলাদাভাবে পানি ক্রয় করে পান করতে হলেও ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসেই বিল ঠিকই দিতে হয়। যা অন্যায় ও অনৈতিক।

মূল্যবৃদ্ধির জনস্বার্থ বিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করে নগরে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের দাবি জানিয়ে নেতৃদ্বয় বলেন, পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ ও সেবার মান না বাড়িয়ে ইচ্ছে মত পানির মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে ওয়াসা, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

তারা আরো বলেন, সরকারি দলের টেন্ডারবাজদের কারণে ওয়াসার কাজ বিলম্বিত কাজের ব্যয় পাঁচ থেকে দশ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়, যা জনগণের পকেট থেকে কেটে নেয়ার জন্যই অযৌক্তিকভাবে পানির মূল্যবৃদ্ধি করেছে। কোনো আইননীতি ও জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করে পানির মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে, কিন্তু সেবার মান পড়ে আছে একেবারে নিম্ন পর্যায়ে। বছর না পেরুতেই আবারও পানির মূল্যবৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত জনবিরোধী।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় মেহনতী মানুষের কথা চিন্তা করে বিদ্যুত-পানির অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সরকারের নিকট দাবী জানান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে