বিএনপি নেতারা কে কোথায় ঈদ করবেন

78


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঈদ মানে খুশি। ঈদ মানে আনন্দ। কিন্তু এই ঈদ একেক জনের কাছে একেক রকম। বিশেষ করে রাজনীতিবিদদের ঈদ সব সময় এক রকম হয় না। ক্ষমতায় থাকলে তাদের ঈদ একরকম, ক্ষমতার বাইরে থাকলে আরেক রকম। টানা ১৫ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি নেতাদের ঈদ গত কয়েক বছর ধরে নিরানন্দেই কাটছে।

মামলা, জেল-জরিমানা, গ্রেফতার-হুলিয়ায় জর্জরিত দলটির নেতারা খুব একটা স্বস্তিতে ঈদ করতে পারেননি বিগত বছরগুলোতে। এবারও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। তারপরও থেমে থাকবে না বিএনপি নেতাদের ঈদ। ব্যথিত মন নিয়ে বিবর্ণ’ ঈদ উদযাপন করবেন তারা। করোনা মহামারির উদ্ভূত পরিস্থিতি যে যেখানে অবস্থান করছেন সেখানেই ঈদ উদযাপন করবেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছেন স্থায়ী কমিটির সবাই ঈদ করবেন ঢাকায়।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ঈদ গুলশানের ভাড়া বাসা ফিরোজা’য় হবে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ঈদের দিন অনেকটা একাই কাটবে তার। নিকট আত্মীয় ছাড়া ঈদের দিন তার সঙ্গে কারও দেখা-সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভবনা তেমন নেই। তবে বিশেষ অনুমতি মিললে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে ঈদের রাতে তার সঙ্গে দেখা করতে পারেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিগত বছরগুলোর মতো বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঈদ করবেন লন্ডনে। স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে ঈদ করবেন তিনি।

বিএনপির চেয়াপারসনের প্রেসউইং সদস্য শায়রুল কবির খান সারাবাংলাকে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির একজন বাদে সব সদস্য ঈদ করবে ঢাকায়। তার দেওয়া তথ্যমতে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিষ্টার জমিরুউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, ডক্টর মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই মুহূর্তে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তারা ঈদের নামাজ ঢাকায় আদায় করবেন। ঈদের নামাজ শেষে সকাল সাড়ে ১১ টায় শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন তারা। আর স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঈদ করবেন চট্টগ্রাম।

ভাইস-চেয়ারম্যান শাহ্ মোয়াজ্জেম হোসেন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বীর উত্তম, ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমর বীর বিক্রম, শামসুজ্জামান দুদু, এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, এডভোকেট জয়নাল আবেদীন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আব্দুস সালাম, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, ডক্টর মামুন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার নাসিরুদ্দিন অসীম, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ আহমেদ উজ্জ্বল, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী খালেদ হোসেন শ্যামল, সহ-প্রচার সম্পাদক শামী মুর রহমান শামীম, উপ- অর্থ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বাবু, ইশরাক হোসেন, তাবিথ আউয়াল ঢাকায় ঈদ করবেন।

ভাইস-চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, বরকত উল্লাহ বুল, ডাক্তার এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এডভোকেট আহমেদ আজম, মীর নাসির হোসেন, চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, জয়নাল আবেদীন ফারুক, আবুল খায়ের ভূইয়া, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুন্ম মহাসচিব ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কদ্দুস দুলু, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার রফিকুল ইসলাম, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, সহ- প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলিম, সহ-সাংগঠনিক ওবায়দুল হক চন্দ,অঙ্গ সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্র দল, কৃষক দল, মুক্তি যুদ্ধা দল, শ্রমিক দল, মহিলাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নিজ নিজ এলাকায় ঈদের জামাত আদায় করবেন।

যে সকল সিনিয়র নেতৃবৃন্দ নিজের সংসদীয় এলাকায় রয়েছেন তারা দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ঈদের জামাতে অংশ গ্রহণ করবেন। খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, খুলনা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনিরুল হক মনি ও স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতা রফিকুল ইসলাম বকুল এলাকায় থাকছেন।

বরিশাল বিভাগের অন্যতম নেতা বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার এলাকায় ঈদের জামাত আদায় করবেন। চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি আহবায়ক ডাক্তার শাহাদাত হোসেন এলাকায় ঈদের জামাত আদায় করবেন।

সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডাক্তার সাখাওয়াত হোসেন জীবন এলাকায় ঈদের জামাত আদায় করবেন।

রাজশাহী বিভাগের অন্যতম নেতা বিএনপি চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী সিটি করপোরেশন সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এলাকায় ঈদের জামাত আদায় করবেন।

ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল নিজ এলাকায় ঈদের জামাত আদায় করবেন। রংপুর বিভাগের অন্যতম নেতা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুদু নিজ এলাকায় ঈদের জামাত আদায় করবেন।

ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান সাহলে প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম নিজ এলাকায় ঈদের জামাত আদায় করবেন। কুমিল্লা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ নিজ এলাকায় ঈদের জামাত আদায় করবেন।

বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনর রশীদ, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, মোশাররফ হোসেন, আমিনুল ইসলাম নিজ নিজ এলাকায় ঈদের জামাত আদায় করবেন।

কারাগারে ঈদ করবেন বিএনপি ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফজ্জামান বাবর ও ইসহাক সরকার।

বিদেশে ঈদ করবেন বিএনপির স্হায়ী কমিটি সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, ভাইস-চেয়ারম্যান ডক্টর ওসমান ফারুক, মোফাজ্জেল হোসেন কায়কোবাদ, চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মোসাদ্দেক হোসেন ফালু।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সারাবাংলাকে বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারি ঈদ আনন্দ অনেকটাই বিবর্ণ করে দিয়েছে। সারা পৃথিবীর মতো বাংলাদেশের মানুষও খুব স্বাচ্ছন্দে ঈদ করতে পারবে না। আর আমাদের পক্ষেও ঈদের আনন্দ সেভাবে উপভোগ করার সুযোগ নেই। দলের চেয়ারপারসন অত্যন্ত অসুস্থ। গত এক বছরে দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাসহ প্রায় চার শতাধিক নেতাকর্মী করোনায় মারা গেছেন। সব মিলিয়ে ঈদের স্বাভাবিক আনন্দটা উপভোগ করা সম্ভব হবে না। তারপরও সবার প্রতি আহ্বান থাকবে, যে যেখানে আছেন, সেখানে নিরাপদ থাকুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের আনুষ্ঠানিকতা পালন করুন।’

সারাবাংলা/এজেড/একে





Source link