বিএনপির শেষ সম্বল খালেদার অসুস্থতা: এস এম কামাল

155


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি বিএনপি চায় না; তারেক জিয়া চায় না অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেছেন, তাই তারা এখন শেষ সম্বল খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করে মানুষের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে।

শনিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের প্রজেকশন হলে জেলহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শহীদ এম মনসুর আলী স্মৃতি সংসদের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডুর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন কাজীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি তানভীর শাকিল জয় এমপিসহ অন্যান্যরা।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে অভিযোগ করে এস এম কামাল বলেন, ‘হঠাৎ করে বিএনপি খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে কেন মাঠে নামলেন? খালেদা জিয়া তো ২০১৮ সালে জেলখানায় ঢুকেছে, সেদিন হাইকোর্টের আপিল বিভাগে আজকের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আপিলেট ডিভিশনে খালেদা জিয়ার বড় বড় আইনজীবীরা আবেদন করেছিল তার জামিনের জন্য। কিন্তু হাইকোর্টের আপিল বিভাগ তিনটি কারণে খালেদা জিয়ার মুক্তি দেননি।’

এস এম কামাল বলেন, ‘এরপর বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কোন যৌক্তিক আন্দোলন গড়ে তোলেননি। তাহলে আমি যদি প্রশ্ন করি, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি বিএনপি চায় না, তারেক জিয়া চায় না। যা কিছু করেছেন যে মানবিকতা দেখিয়েছেন আমাদের নেত্রী দেখিয়েছেন, যেটা ওনার করার কথা না। কারণ খালেদা জিয়া; যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আজকের এই অসুস্থ খালেদা জিয়া নন, সুস্থ খালেদা জিয়া। তিনি আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যে আচরণ করেছেন, তাতে তাকে কোনো রকমের স্পেস দেওয়ার কথা না।’

তিনি বলেন, যে দিন হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়, যে দিনে শেখ হাসিনা-শেখ রেহানার ডুকরে ডুকরে কাঁদেন। ১৫ আগস্ট প্রতি বছর বাঙালি জাতি এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষেরা কাঁদে, মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়; সেই দিনটিতে নিজের ভুয়া জন্মদিন পালন করেন। কেক কেটে আনন্দ উল্লাস করে নিজের জন্মদিন পালন করেন খালেদা জিয়া। কিন্তু, শেখ হাসিনা মানবিক হয়ে দন্ডপ্রাপ্ত সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে কারাগারের ভেতরে দেখভালের জন্য তার কাজের বুয়াকেও থাকার অনুমতি দিয়েছেন।

২০০৪ সালে তার ছেলে তারেক জিয়া ১৫ আগস্টের খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে বৈঠক করে, পরামর্শ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে। তখন খালেদা জিয়া সংসদেও এ নিয়ে কাউকে কথা বলতে দেননি। আজকে বিএনপি খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছে। কারণ তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। ওরা কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছে না। কারণ, জনগণ আর ওদের কথা বিশ্বাস করে না। ওরা যখন ক্ষমতায় ছিল বাংলাদেশে ছিল ক্ষুধা-দারিদ্র্য দুর্ভিক্ষ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদের বাংলাদেশ। ওদের আমলে ওরা মানুষকে বিদ্যুৎ দিতে পারে নাই। কৃষকের সার দিতে পারেন নাই। এই কারণে তাদের কথা আর জনগণ বিশ্বাস করে না – বলেন এস এম কামাল।

বিএনপিকে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতার খুনিদের এবং যুদ্ধাপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকদের দল উল্লেখ করে এস এম কামাল বলেন, বিএনপিকে বাংলাদেশের মাটিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে এটা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সফল হতে দেবে না।

সারাবাংলা/এনআর/একেএম





Source link