বাস দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

0
98

কলকাতা, ২০ জানুয়ারি- ধূপগুড়ির বাস দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে শোকপ্রকাশ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানান মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থ হওয়ার প্রার্থনা করেন তিনি।

পুরুলিয়া থেকে দুর্ঘটনাগ্রস্থদের জন্য ক্ষতিপূরণও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। দূর্ঘটনায় মৃতদের নিকটাত্মীয়দের আড়াই লাখ টাকা ও আহতদের ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। যার জেরে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। এরমধ্যে তিনজন বাচ্চাও রয়েছে।

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ৯ টা নাগাদ তিনটি ছোট গাড়ি করে ধূপগুড়ির ময়নাতলি এলাকায় বৌভাতের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন কনেপক্ষের আত্মীয়রা। সে সময়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ওই গাড়ি। জলঢাকা সেতুর কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে পাথর বোঝাই বোঝাই একটি লরি। সেটির পিছনে ধাক্কা মারে কনেযাত্রীর একটি গাড়ি।

আরও পড়ুন :  ‘আর্থিক সাহায্য নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী’, তোপ দিলীপের

এরপরেই পাথর বোঝাই ডাম্পার নিয়ন্ত্রণ হারায়। সেটি উল্টে যেতেই পিছনে থাকা দুটি যাত্রী বোঝাই গাড়ি পরপর ডাম্পারের উপর এসে পড়ে। সেই দুটি গাড়ির উপর হুড়মুড়িয়ে পাথরের স্তূপ আছড়ে পড়ে। যাত্রীদের চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে দেখেন ভয়াবহ দৃশ্য।

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই সেখানে হাজির হন ধূপগুড়ি থানার আইসি। ক্রেন দিয়ে চলে উদ্ধারকাজ। পাথরের তলা থেকে উদ্ধার করা হয় আহতদের। উদ্ধার হয় মৃতদেহও। আহতদের প্রথমে ধূপগুড়ি হাসপাতালে এবং পরে জলপাইগুড়ি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ধূপগুড়ির বিধায়ক মিতালি রায় জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে ৫ জন ধূপগুড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এবং ১১ জন জলপাইগুড়ি জেলার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। মৃতরা সকলেই ওই জেলারই বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও তাঁদের পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা। পাথর বোঝাই লরি, ডাম্পার চলাচল করে এই এলাকায়। অভিযোগ, ডাম্পারগুলি সড়ক আইন না মেনে চলাচল করে। বারে বারে দুর্ঘটনা হয় ধূপগুড়িতে।

অন্যদিকে এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে ‘জলপাইগুড়ির এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এটা দুঃখের সময়। দুর্ঘটনাগ্রস্থ পরিবারের জন্য প্রার্থনা।’ একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় আহতদের পরিবার পিছু ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে। নিহতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

সূত্র: কলকাতা২৪x৭

আর/০৮:১৪/২০ জানুয়ারি

Source link